দৌলতদিয়ায় ফেরিতে উঠার সময় যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে। নিহত-২। নিখোঁজ ৩০


মোঃ রমজান সিকদার,
স্টাফ রিপোর্টার -২৫/০৩/২০২৬
রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলায় দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটে ফেরিতে উঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সৌহার্দ্য পরিবহন যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে ডুবে গেছে।
বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেল পৌনে ৫টার দিকে ৩নং পন্টুনে হাসনা হেনা নামক ফেরিতে ওঠার সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে। সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এ ঘটনায় দুই নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং কমপক্ষে ৩০ জন যাত্রী নিখোঁজ রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ঘাট কতৃপক্ষ জানান, কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে দুপুর আড়াইটায় ছেড়ে আসা ঢাকা গামী সৌহার্দ্য পরিবহন (রাজবাড়ী-ব-১১-০০২৪) নামের বাসটি বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটের দিকে ৩নং ফেরি ঘাটের পন্টুনে পৌঁছায়। বাসটি পন্টুন দিয়ে হাসনা হেনা ফেরিতে ওঠার সময় হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীর ৮০ ফুট পানির নিচে তলিয়ে যায়। ৪১ সিটের এই বাসটিতে চালক ও সহকারীসহ প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ জন যাত্রী ছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা উদ্ধার কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন। এতে ১১ জন যাত্রী সাঁতরে পাড়ে উঠতে সক্ষম হন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল, নৌ-পুলিশ ও সেনাবাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক দেওয়ান সোহেল রানা জানান, পাটুড়িয়া ও আরিচা ঘাট থেকে ডুবুরি দল এসে উদ্ধার কাজে যোগ দিয়েছে। জেলা সিভিল সার্জন ডা. এস এম মাসুদ নিশ্চিত করেছেন যে, এখন পর্যন্ত দুই নারীর মরদেহ উদ্ধার করে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে।
দৌলতদিয়া ঘাটের বাস সুপারভাইজার মনির হোসেন জানান, বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ঘাটের পুলিশ বক্স এলাকায় তিনি বাসে উঠে ৪০ জন যাত্রী গণনা করেছিলেন। বাসটির চালক আরমান (৪০) রাজবাড়ী সদর উপজেলার বানীবহ গ্রামের বাসিন্দা। দুর্ঘটনায় চালক ও সহকারীর ভাগ্য এখনো অনিশ্চিত। তবে বাসটি পন্টুনে ওঠার আগে কয়েক মিনিট অপেক্ষায় থাকায় কয়েকজন যাত্রী বাস থেকে নেমে পড়েছিলেন, যারা ভাগ্যক্রমে বেঁচে গেছেন।
ঘটনাস্থলে উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা এসে পৌঁছালেও তীব্র স্রোত ও প্রতিকূলতা ঝড়ো আবহাওয়ার কারণে উদ্ধার কাজ শুরু করতে বিলম্ব হওয়ায় নিখোঁজদের স্বজনরা উত্তেজিত হয়ে পড়েন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার, পুলিশ সুপার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সেখানে অবস্থান করছেন। বর্তমানে সেনাবাহিনী, জেলা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সম্মিলিতভাবে উদ্ধার তৎপরতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কাজ করছে।
পদ্মার পাড়ে এখন নিখোঁজদের স্বজনদের আহাজারিতে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। প্রিয়জনের লাশের অপেক্ষায় ঘাটে ভিড় করছেন শত শত মানুষ।