ভাঙ্গায় সংবাদ শেয়ার করায় বিএনপি নেতা মিঠুর উপর সন্ত্রাসী হামলা


স্টাফ রিপোর্টার,-১৫/০৫/২০২৬
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় বাস ও পরিবহনে চাঁদাবাজির ঘটনায় দুই অভিযুক্তকে থানা থেকে ছাড়িয়ে নেয়ার ঘটনায় বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ ফেসবুকে শেয়ার করায় বিএনপি নেতা সাইদুর রহমান মিঠু শিকদারের উপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। বর্তমান তিনি ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আহত সাইদুর রহমান মিঠু শিকদার বিএনপির অঙ্গ সংগঠন ভাঙ্গা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক পদে রয়েছেন। সে ভাঙ্গা পৌরসভার কাপুড়িয়া সদরদী গ্ৰামের অবসরপ্রাপ্ত পুলিশের সাবেক আর আই শাহজাহান শিকদারের ছেলে। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাত ৯ টায় কাপুড়িয়া সদরদী এলাকায় তার উপর হামলার ঘটনা ঘটে। একই এলাকার সাইফুল মুন্সীর (শাহীমুন্সি) ছেলে সোহান মুন্সি ও প্রান্ত মুন্সি, আমিন মুন্সির ছেলে সেন্টু মুন্সী,
আব্দুল হান্নান শিকদারের ছেলে দেলোয়ার সিকদার, হাসান শিকদার, হোসেন সিকদার ও আবু সাঈদ শিকদার সহ ১০/১৫ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার ওপর হামলা চালিয়েছে বলে পরিবার সুত্রে জানা গেছে। পরে তাকে উদ্ধার করে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়।
আহত শিকদার সাইদুর রহমান মিঠুর ছোট ভাই রাজু শিকদার জানান, মিঠুর মাথায় কোপের কারনে ৬টি সেলাই ও পাজরের একটি হাড় ভেঙে গিয়েছে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, সোহান ভাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে বিভিন্ন কাউন্টারে চাঁদাবাজি সহ প্রভাব বিস্তার করে। গত ১২ মে তাঁদের পুলিশ ধরে নিয়ে যায় এবং পরে বিএনপির সেক্রেটারী আইযূব মোল্যা গিয়ে ছাড়িয়ে আনে। এগুলো নিয়ে নিউজ হয় এবং আমার ভাই সেই নিউজগুলো শেয়ার করেছিল। এটাই আমার ভাইয়ের অপরাধ ছিল। যে কারনে ক্ষিপ্ত হয়ে সোহানের নেতৃত্বে আমার ভাইয়ের ওপরে হামলা চালানো হয়েছে। তাঁরা সন্ধ্যায় প্রথমে আমার ভাইকে লাঠি ও হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে আহত করে। তখন বার বার পুলিশের সহযোগিতা চাইলেও পাইনি এবং হামলাকারীরা আবারও ওৎ পেতে থাকে। রাত ৯টার দিকে ভাঙ্গা হাসপাতালে নেয়ার সময় আবারও হামলা চালিয়ে চাকু দিয়ে কুপিয়ে জখম করে। এ সময় আমার মা ও আমাকেও মারধর করে হামলাকারীরা।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত সাইদুর রহমান মিঠু শিকদার অভিযোগ করে বলেন, বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে ওদের ছাড়িয়ে নেয়ার খবরগুলো দলীয় ভাবমূর্তি রক্ষায় আমার ফেসবুকে শেয়ার করেছিলাম এবং আমার ফেসবুক থেকেও অনেক শেয়ার হয়েছিল। এরপর সন্ধ্যায় বাড়ির পাশে কয়েল আনতে গেলে অতর্কিতভাবে ওরা এসে হাতুড়ি দিয়ে মারতে থাকে। এসময় একটি দোকানে দৌড়ে গিয়ে আমি আশ্রয় নিই। তখন বার বার ওসিকে ফোন দিলে কেটে দেন এবং ৯৯৯-এ কল দিলেও পুলিশ দেরি করে আসে। এরপর আমাকে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথে আবারও হামলা চালিয়েছে।
এ ঘটনার বিষয়ে জানতে সোহান মুন্সি পলাতক থাকায় তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
তবে উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক আইয়ূব মোল্লা বলেন, ‘ঘটনাটি আসলেই ন্যাক্কারজনক, ঠিক করেনি। আমি ওসিকে ফোন দিয়ে বলেছি- আইনগত ব্যবস্থা নিতে। অন্যায়ের সাথে আমি নেই।’
এব্যাপারে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে আমরা প্রাথমিকভাবে জেনেছি। এখনও থানায় কোনো অভিযোগ দেওয়া হয়নি, অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়া চাঁদাবাজে অভিযুক্ত সোহানকে থানা থেকে ছাড়িয়ে নেয়ার সংবাদ শেয়ার করায় এই হামলার সাথে সম্পৃক্ততা রয়েছে কিনা সে বিষয়ে তদন্ত করে জানা যাবে।
উল্লেখ্য, গত ১২ মে চাঁদাবাজির অভিযোগে সোহান মুন্সিকে ভাঙ্গা থানায় নেওয়া হয়। পরে রাতে গিয়ে তাঁদের ছাড়িয়ে নিয়ে আসেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব মোল্যা। পরে ওসির কক্ষের ঘটনাটির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়া একই দিন বিকালে ভাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডের অদূরে সার্বিক পরিবহনের রবিন নামে এক চেকারকে ভয়ভীতি ও চাঁদাবাজির অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। এ সংক্রান্তে গতকাল বৃহস্পতিবার বিভিন্ন গনমাধ্যমে ‘ফরিদপুরে বাসে চাঁদাবাজি, অভিযুক্তদের থানা থেকে ছাড়িয়ে নিলেন বিএনপি নেতা’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়।