‘সাংবাদিকতা ও সম্পাদনার এক উজ্জ্বল দিকপাল গোলাম সারওয়ার’

ঢাকা প্রতিনিধি: ‘বরেণ্য সাংবাদিক গোলাম সারওয়ার ছিলেন সদা হাস্যোজ্জ্বল ও সৎ ব্যক্তি। তিনি একটি রাজনৈতিক আদর্শে বিশ্বাসী হলেও ভিন্ন মতের প্রতি ছিলেন শ্রদ্ধাশীল। স্বাধীন সাংবাদিকতা ও মুক্তিযুদ্ধের প্রতি তার সম্মান ছিল সুদৃঢ়। তিনি সাংবাদিকতা ও সম্পাদনার এক উজ্জ্বল দিকপাল হয়ে আমাদের মাঝে আবির্ভূত হন।’

শুক্রবার (৩০ আগস্ট) রাজধানীর টাইমস মিডিয়া ভবনে গোলাম সারওয়ারের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণ সভায় এ কথা বলেন বিশিষ্টজনেরা। গোলাম সারওয়ার নাগরিক স্মরণ পরিষদ এ স্মরণ সভার আযোজন করে।

স্মরণ সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আক্তারুজ্জামান বলেন, কৌশল হলো এমন একটা বিষয়, যা দিয়ে কাজ করলে কখনও তোমার শত্রু তৈরি হবে না। আর এটা ভালোভাবে রপ্ত করেছিলেন গোলাম সারওয়ার। ব্যক্তি জীবনেও তা তিনি অনুসরণ করেছেন। এ কারণে তার চরিত্রে বহুমাত্রিকতার ছাপ পড়েছিল।

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেন, সাংবাদিক গোলাম সারওয়ারের সঙ্গে ষাটের দশক থেকে আমার সম্পর্ক ছিল। কখনও বিমর্ষ দেখিনি তাকে। সব সময় হাস্যোজ্জ্বল দেখেছি। তার নিজস্ব রাজনৈতিক আদর্শ থাকলেও ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলেন। সংবাদ পরিবেশনে যেমন কৌশলী ছিলেন, তেমনি নৈতিকতার প্রশ্নেও ছিলেন আপষহীন। বিরোধী মতের সংবাদ কৌশলে পরিবেশন করতেন। আবার বিরোধীরাও তার সঙ্গে বাকবিতণ্ডা করতেন না।

অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, গোলাম সারওয়ার মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশ গড়ায় বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখেছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ বাস্তবায়নে তার কলম ছিল অত্যন্ত বলিষ্ঠ। তার গুণাবলীর কারণে তিনি অনুকরণীয় ও অনুসরণীয়।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি সাইফুল আলম বলেন, গোলাম সারওয়ার জীবনের সঙ্গে যুদ্ধ করে জীবন তৈরি করেছিলেন। এক সময় গণমাধ্যমে ক্ষয়িষ্ণুতা সৃষ্টি হয়েছিল, তা থেকে উত্তরণে বড় ভূমিকা রেখেছিলেন গোলাম সারওয়ার। আবার ক্ষয়িষ্ণুতা তৈরি হয়েছে, নীতি-নৈতিকতা দিয়ে যদি সেটা আটকে দিতে হয়, তাহলে তার আদর্শের বিকল্প নেই।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, বহু আগে থেকে তার সঙ্গে আমার পরিচয় ছিল। আগরতলা ষড়যন্ত্রের সময়ে লেখালেখির মাধ্যমে বড় ভূমিকা রেখেছিলেন গোলাম সারওয়ার। সাহস ও সততা নিয়ে নির্ভয়ে রিপোর্ট করেছিলেন। আজ এমন একটা সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি, যখন আমরা মূল্যবোধ হারাতে বসেছি, আইনের শাসন নেই, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নেই। এখন সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষা নৈতিক দায়িত্ব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জাতীয় অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে আয়োজিত স্মরণসভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া, তথ্যসচিব আবদুল মালেক, সিনিয়র সাংবাদিক আবেদ খান, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ, আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক প্রমুখ।