
মোঃ রমজান সিকদার
ভাঙ্গা (ফরিদপুর) সংবাদদাতা-২৩/০১/২০২৬
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় শুক্রবার সকালে পৌরসভার নওপাড়া গ্ৰামে আলোর দিশা মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে রাজ্জাক মাতুব্বর(৪০) নামের এক যুবককে মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। নিহত যুবক পৌরসভার হাসামদিয়া গ্ৰামের সামাদ মাতুব্বরের ছেলে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিহতের আত্মীয় স্বজন সহ ঐ কেন্দ্রে ভর্তি শতশত রুগির লোকজন কেন্দ্রে ভীড় করে। ঘটনার পর কেন্দ্রের মালিক মিজানুর রহমান সহ সেখানে কর্মরত লোকজন সকলেই কেন্দ্রের বাহিরে একাধিক তালা লাগিয়ে পালিয়ে যায়। পুলিশ সকালে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করে। দুপুরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভবনের সিসিটিভির ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করতে ছিল। সেসময় নিরাময় কেন্দ্রের ভেতরে আটকে থাকা ৪০/৫০ জন রোগীরা সেখান থেকে দরজা ভেঙে বের হয়ে ভেতরের সবকিছু ভাংচুর চালায়। পুলিশ ও স্থানীয়রা প্রান নিয়ে ভবনের মেইন গেট থেকে বের হতে সক্ষম হয়।
ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সহ একাধিক অফিসার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে চেষ্টা করলেও পরিস্থিতি ভয়াবহতায় রূপ নেয়। দুপুরের পর ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। জেলা মাদকাসক্তি নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের উপ পরিচালক শিরিন আক্তার সহ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থলে পৌঁছে রুগিদের নিকট আত্মীয় স্বজনদের খবর দিয়ে তাদের হাতে প্রত্যেককে বুঝিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করে।
নিহত রাজ্জাক মাতুব্বরের স্বজনদের অভিযোগ, গত মঙ্গলবার রাতে রাজ্জাক মাতুব্বরকে এখানে ভর্তি করে। সে কিছুটা নেশায় আসক্ত ছিল।
আজকে সকালে আমাদেরকে সংবাদ দেয় রাজ্জাক অসুস্থ। সংবাদ পেয়ে আমরা সাথে সাথে ভাঙ্গা হাসপাতালে এসে রাজ্জাকের লাশ দেখতে পাই।
লাশের শরীরের বিভিন্ন আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ক্ষতস্থান দিয়ে রক্ত বের হচ্ছে।
এ ব্যাপারে ভাঙ্গা থানার ওসি তদন্ত মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেন, মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা করেছে এমন সংবাদ পেয়ে পুলিশ ভাঙ্গা হাসপাতাল থেকে যুবকের লাশ উদ্ধার করে। নিহতের শরীরে বেশ কিছু দাগ রয়েছে এবং নাক কান দিয়ে রক্ত বের হচ্ছে। লাশের ময়না তদন্তের জন্য ফরিদপুর মর্গে প্রেরণ করে হয়েছে। এই ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল আলীম জানান, যুবককে পিটিয়ে হত্যা করেছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। পরবর্তীতে আমি ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ভাঙ্গা সার্কেলকে সাথে নিয়ে মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে পরিদর্শন করি। এসময় ভেতরে আটকে থাকা অর্ধশতাধিক মাদকাসক্তি রুগি ভবনের দরজা ভেঙে ভাংচুর চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিস অংশ নেয়। পরিস্থিতি আমাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। মাদকাসক্তি রুগিদের তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

