স্টাফ রিপোর্টারঃ ফরিদপুর শহরের প্রধান কাঁচা বাজারে বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির সদ্য বহিস্কৃত সভাপতি পিকু মিয়া বাজার সংলগ্ন খড়ি পট্টিতে গড়ে তুলেছেন মিনি যৌন পল্লী ও জুয়ার আসর। এ জুয়ার আসরে প্রতিদিন গড়ে লক্ষ লক্ষ টাকার জুয়া খেলা হয়। হাজী শরীয়াতুল্লাহ্ বাজারের সাধারণ ব্যবসায়িদের টানানো ব্যানার ও পোষ্টার থেকে এসব তথ্য জানা যায়।
সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা য়ায়, খড়ি পট্টি সংলগ্ন ৮/৯ টি হোটেল আকৃতির টিনের ঘরকে যৌন পল্লী হিসেবে ব্যবহার করছে পিকু মিয়া । এখানে ভোর ৬ টা থেকে বিকেল ৫ টা পর্যন্ত চলে রমরমা নারী দেহের বিকি-কিনি। ৫০/৬০ জন যুবতী মেয়ে এ ব্যবসার সাথে জড়িত। এদের আয়ের অর্ধেক টাকা এ হাত সে হাত ঘুরে চলে যায় পিকু মিয়ার পকেটে। একটি ঘরে চলে জুয়ার আসর। এতবড় আসর যা সম্প্রতি কালের ক্যসিনো ব্যবসাকেও হার মানায়। এটা ইয়াবা সেবীদেরও একটি অভয়অরণ্য।
অভিযোগ শোনা যায়, এখানে প্রতিদিন গড়ে আট’শ থেকে এক হাজার পিচ ইয়াবা সেবন করা হয়। বিল্লাল নামক জনৈক হোটেল মালিকের সার্বিক তত্বাবধানে এ সব মহাজঙ্গ পরিচালিত হয়ে থাকে। পিকু মিয়া প্রতিদিন সন্ধ্যার পর এসে তার ভাগের টাকাটা নিয়ে যান।
বাজারের সাধারণ ব্যবসায়িরা অভিযোগ করে বলেন, যৌন পল্লী থেকে শুধু পিকু মিয়ারই আয় ২৫ লক্ষ টাকা এবং জুয়ার আসর থেকে আয় ৩ কোটি টাকা। ফরিদপুর শহরে আদিকাল থেকেই দু’টি যৌন পল্লী রয়েছে। তার পরেও একটি কাচা বাজারে অবৈধ ভাবে যৌন পল্লী গড়ার যৌক্তিকতা কি তা বিকেকবান মানুষের বোধগম্য নয়।
এ ব্যাপারে রথখোলা যৌন পল্লীর সভানেত্রী আলেয়া বেগম, বাড়ী ওয়ালী রুসী বেগম ও ববির সাথে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করলে তারা জানান, খড়ি পট্টির যৌন পল্লীটি উচ্ছেদের ব্যাপারে তারা কোতয়ালী থানার সাবেক অফিসার ইন-চার্জ নাসিম সিদ্দিকীকে বহুবার অনুরোধ করেছেন। কিন্তু তিনি এটা উচ্ছেদের ব্যাপারে কোন কার্যকরি ভূমিকা গ্রহণ করেননি।
তারা আরও জানান, আমরা শুনেছি কোতয়ালী থানার বর্তমান অফিসার ইন-চার্জ এবং বর্তমান পুলিশ সুপার অত্যান্ত সৎ এবং ভাল মনের মানুষ। আমরা আপনাদের মাধ্যমে তাদের প্রত্যেকের কাছে সবিনয় অনুরোধ করছি তাঁরা যেন, আমাদের মত সামাজিক প্রতিবন্ধি মেয়েদের মুখের দিকে তাকিয়ে পিকু মিয়ার অবৈধ যৌন পল্লীটি উচ্ছেদের ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।

