মাদারীপুরে পুলিশের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজী মামলা: টাকা ফেরত দিয়ে ক্ষমা চাইলেন এএসআই মাহাবুব

শিবচর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি: মাদারীপুরের শিবচর থানা এলাকার দত্তপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের দুই পুলিশ সদস্য ও একজন বিকাশ ব্যবসায়ীসহ তিন জন এবং অজ্ঞাতনামা আরও দুই/তিনজন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজী মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মামলায় অভিযুক্তরা হলেন, দত্তপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এএসআই মাহাবুব খান, কনষ্টেবল সোহাগ (ফাঁড়ির ড্রাইভার) এবং সূর্যনগর বাজারের “টুম্পা টেলিকম এ্যান্ড মোবাইল কর্ণার” এর স্বত্তাধিকারী মো: টোকান মাতুব্বর সহ অজ্ঞাতনামা আরও দুই/তিনজন পুলিশ সদস্য।

গত ১৮ ফেব্রুয়ারী’২০২১ বৃহ:স্পতিবার সকালে মাদারীপুর জেলা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট ২য় আদালতে মামলাটি করেন ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা উপজেলা পৌর সদরের নওয়াপাড়া বাজারের মুদিখানা ও বিকাশ এজেন্ট ব্যবসায়ি মো: সুজন শেখ (২৮)। সুজন পৌর সদরের ভাড়ইডাঙ্গা গ্রামের মো: আব্দুল হক এর ছোট পুত্র।

বাদী সুজন শেখ মামলার বিবরণীতে উল্লেখ করেন, গত ১৬ ফেব্রুয়ারী’২০২১ মঙ্গলবার চাচাতো ভাইয়ের ছেলে (ভাতিজা) পলাশকে সাথে নিয়ে মটর সাইকেল যোগে নির্মানাধীন “পদ্মা বহুমুখী সেতু” দেখিতে যায়। ফেরার পথে সূর্যনগর বাজারে চা পান করি। সেখানে হঠাৎ সাদা পোষাকে দত্তপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এএসআই মাহাবুব খান, কনষ্টেবল সোহাগ সহ অজ্ঞাতনামা আরও দুই/তিন জন পুলিশ সদস্য হাজির হয়ে মটর সাইকেলের কাগজ দেখতে চায়। মটর সাইকেলের কাগজ দেখালে উল্লেখিতরা তা না মেনে উল্টো তাকে গাড়ী চোর ও ইয়াবা ব্যবসায়ী বলে অভিযুক্ত করে। পরে সুজন ও তার ভাতিজাকে ইচ্ছার বিরুদ্ধে সূর্যনগর বাজার থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে এক্সপ্রেস ওয়ের পাশে নির্জনে নিয়ে যায়। সেখানে সুজনকে ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে মারপিট করে একটি বিকাশ এজেন্টের দোকানে নিয়ে গিয়ে বিকাশ এজেন্ট ও পার্সোনাল বিকাশ নাম্বার থেকে এক লক্ষ দশ হাজার তিন শত কুড়ি টাকা উত্তোলন করে আদায় করেন।

এদিকে মামলা দায়েরের পর থেকেই অভিযুক্ত এএসআই মাহাবুব খান ও কনষ্টেবল সোহাগ তাদের নিযুক্ত সাঙ্গপাঙ্গোদের মাধ্যমে ঘটনাটির আপোষ মিমাংসার (ধামাচাপা) জন্য বাদী সুজনকে চাপ দিতে থাকে। একপর্যায়ে গত ১৯ ফেব্রুয়ারী রাতে এএসআই মাহাবুব খান সহ ৩/৪ জন স্বশরীরে বাদীর নওয়াপাড়ার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হাজির হয়। এসময় সুজনের নিকট থেকে অনৈতিকভাবে আদায়কৃত চাঁদার নগদ এক লক্ষ টাকা স্থানীয় বাচ্চু কমিশনারের মাধ্যমে ফেরত দেন। এসময় উপস্থিত লোকজনের সামনে অভিযুক্তরা তাদের কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা চান এবং দু:খ প্রকাশ করেন।

এদিকে ফরিদপুরের নগরকান্দা থানাধীন রাধানগর এলাকায় এএসআই মাহাবুব খানের গ্রামের বাড়ীতে খোঁজ নিয়ে জানা যায় তিনি ঐ গ্রামের আ: মজিদ খানের পুত্র। গ্রামে মাহাবুব খান নামে বেনামে কোটি টাকার বিষয় সম্পত্তি কিনেছেন। সম্প্রতি তিনি গ্রামের একটি জমি কিনে বেকায়দায় পড়েন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার কয়েকজন মুরুব্বী প্রশ্ন করে বলেন, একটি অস্বচ্ছল পরিবারের সন্তান পুলিশের চাকরীতে কনষ্টেবল পদে যোগ দিয়ে দ্রুত এএসআই পদে পদোন্নতি পেয়ে কিভাবে রাতারাতি অঢেল সম্পত্তির মালিক হলেন?

দত্তপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্তরা এলাকার মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে আতাত করে স্থানীয় যুব সমাজকে নষ্ট করতে ভূমিকা রাখছে। তারা মাঝেমধ্যেই নিরীহ লোকজনদেরকে হয়রানি করে অর্থ বানিজ্য করে থাকে। সম্প্রতি তারা এরকম আরও কয়েকটি ঘটনা ঘটিয়েছে। তবে ভূক্তভোগিরা কেউ মামলা অথবা অভিযোগ করেনি। তারা নিরবে সহ্য করেছেন। এদের ভয়ে এলাকার কেউ প্রতিবাদে এগিয়ে আসে না। এরা এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে।স্থানীয় কিছু বখাটের নিয়ে একটি সিন্ডিকেটও তৈরী করেছে। স্থানীয়রা তাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজী মামলা হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং অনতিবিলম্বে এদের কঠোর বিচার দাবী করেন। অনেকেই ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, এসকল গুটিকয়েক দূর্ণীতিবাজ পুলিশ সদস্যর কারনেই আজ গোটা মাদারীপুর জেলা পুলিশ প্রশ্নবিদ্ধ। তাই চাঁদাবাজ এএসআই মাহাবুব খান ও কনষ্টেবল সোহাগের মত অসাধু ব্যক্তিদের পুলিশ বাহিনীতে বহাল থাকার কোন যোগ্যতাই নেই বলে জানান অনেকেই।

এদিকে এ ঘটনায় অভিযুক্ত এএসআই মাহাবুব খান ও পুলিশ সদস্য সোহাগ এর সাথে যোগাযোগ করলে তারা নিজেদেরকে নির্দোষ দাবি করেন এবং ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে চাঁদাবাজী করার ঘটনা অস্বীকার করেন।

মামলার বিজ্ঞ আইনজীবী সাইদুর রহমান সাগর এ প্রতিনিধিকে জানান, পুলিশের বিরুদ্ধে দায়ের করা চাঁদাবাজী মামলাটি বিজ্ঞ আদালত আমলে নিয়েছেন এবং তা অধিকতর তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে পুলিশ ইনভেষ্টিগেশন ব্যুরো (পিআইবি), মাদারীপুর কে নির্দেশ দিয়েছেন। মামলা নাম্বার- সিআর-৬৫/২১ তারিখ: ১৮/০২/২০২১.