ভাঙ্গায় সরকারি চাল বিতরণের অনিয়মের ভিডিও ফেসবুকে দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই দল গ্রামবাসীর মধ্যে রাতে ও সকালে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে আহত-৩০। বাড়ি ঘর ভাংচুর ও লুটপাট


মোঃ রমজান সিকদার,
ভাঙ্গা (ফরিদপুর) সংবাদদাতা-৩০/০৫/২০২৬

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার চুমুরদী ইউনিয়ন পরিষদে সরকারি চাল বিতরণের অনিয়মের ভিডিও ফেসবুকে দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই দল গ্রামবাসীর সংঘর্ষ হয়েছে। শুক্রবার(২৯ মে) রাতে লাগা সংঘর্ষে ২৫ জন আহত ও শনিবার(৩০ মে) সকালে লাগা সংঘর্ষে ৫ জন আহত হয়েছে। আহতদের স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে ভাঙ্গা ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেছে। খবর পেয়ে ভাঙ্গা থানা পুলিশ ও স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমান এলাকার পরিবেশ থমথমে ভাব বিরাজ করছে।
সংঘর্ষে আহতরা হলো, আমেনা, হামিদা, পারভীন, অদুদ মোল্লা, আয়নাল মোল্লা , শাহ আলম মোল্লা, রুহুল মোল্লা, চান মোল্লা, শুকুর আলী মোল্লা, নুর আলম মোল্লা, মিজানুর মোল্লা , ইমদাদুল মোল্লা , সামাদ মোল্লা , রাজ্জাক মোল্লা, জোবায়ের মোল্লা, সামিউল মোল্লা,
অ্যাডভোকেট জাকারিয়া মোল্লা, কাদের মাতুব্বর, কোহিনুর মোল্লা, ইউসুফ মাতুব্বর, জলিল মাতুব্বর, মাহবুব মোল্লা, ইবাদত মোল্লা, রুবেল মোল্লা।
জানা গেছে, চুমুরদী ইউনিয়নের বাসিন্দা ও কন্টেন্ট ক্রিয়েটার আকরাম খান ঈদের ৪ দিন আগে চুমুরদী ইউনিয়ন পরিষদের সরকারি চাল বিতরণের অনিয়মের ভিডিও ফেসবুকে আপলোড করে। পরবর্তীতে উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি সাদরুল আলম ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঘটনার সত্যতা না পেরে উভয়কেই সতর্ক করে ফিরে আসে। বিষয়টি নিয়ে চুমুরদী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম সোহাগ ও তার পরিষদের সদস্যরা সহ ইউনিয়নের লোকজন ভালো ভাবে নেয়নি। ঈদের পরদিন শুক্রবার রাতে কন্টেন্ট ক্রিয়েটার আকরাম খানকে এলাকাবাসী মারধর করে। পরবর্তীতে আকরাম খানের পক্ষ নিয়ে শাহাবুদ্দিন মোল্লার লোকজন ও চেয়ারম্যানের লোকজন দুদল গ্রামবাসীর মধ্যে রাতে কয়েক ঘণ্টা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়।
এর জের ধরে শনিবার (৩০মে) সকালে ঘন্টা ব্যাপী চুমুরদী ইউনিয়নের বাবনাতলা বাসস্ট্যান্ডে মহাসড়কের উপর ফের দুদল গ্রামবাসী সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।

এ ব্যাপারে চুমুরদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সোহাগ মোল্লা বলেন, আমাদের বাবনাতলা গ্রামের টিকটকার আকরাম খান তথ্য না জেনে আমার বিরুদ্ধে একটা ভিডিও ফেসবুকে আপলোড করে অপপ্রচার চালানো ফলে আমার সম্মান ক্ষুন্ন করেছে। আজকের সন্ধ্যায় আকরাম খানকে আমার ভাই চন্দন এ বিষয় জিজ্ঞেসা করলে সে উত্তেজিত হয়ে তার উপর উপর হামলা চালায়। তখন দুই পক্ষের লোকজন এই সংঘর্ষ লিপ্ত হলে বেশ কিছু লোকজন আহত হয়।
এ ব্যাপারে ভাঙ্গা থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গতকাল সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
ওই ঘটনার জের ধরে আজকে সকালে আবারো দুই দল গ্রামবাসী সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।
সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনতে সক্ষম হয়েছে। এলাকায় পুলিশ মোতায়ন রয়েছে।
এ ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কেউ অভিযোগ করেন নাই। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।