ভাঙ্গায় ভূমিদস্যু আকরাম এর দখল বানিজ্যে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারসহ অতিষ্ট এলাকাবাসী

ষ্টাফ রিপোর্টারঃ ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ভূমিদস্যু নামে খ্যাত হাজী আকরাম ও তার বাহিনীর বিরুদ্ধে স্থানীয় এক মুক্তিযোদ্ধা পরিবারসহ অনেকের জমি জোরপূর্বক দখল করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ভূক্তভোগিদের অভিযোগে জানা যায়, পৌরসভাধীন দাড়িয়ারমাঠ কলেজপাড়ার মৃত: মোতালেব শেখের পুত্র মো. আকরাম শেখ পৌর এলাকার কাপুড়িয়া সদরদী গ্রামের মৃতঃ গোলাম মোস্তফার পুত্র লুৎফর রহমান লিটু ফকির (৩৫) এর ২.০২ একর জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করে। ৩৮ নং চন্ডীদাসদী মৌজার আরএস ১১৫৬ নং খতিয়ানের সাবেক ৩৭১১ এবং ৪০৪৪ নং দাগের জমির পরচা জালিয়াতির মাধ্যমে জমিটি দখলের পায়তারা করে ব্যর্থ হয়।

এ ব্যাপারে লিটু ফকির আইনী প্রতিকার চেয়ে বিজ্ঞ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট ৩ নং আমলী আদালতে ভূমিদস্যু আকরাম গংদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং ১০৯/১৯ তারিখ- ১০/১০/২০১৯ ধারা- ৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/৪২০ পেনাল কোড। আদালত মামলাটি পিবিআই কে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের আদেশ দেয়। মামলাটি পিবিআই’র এসআই মো. দেলোয়ার হোসেন তদন্তপূর্বক আদালতে চুড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। পিবিআই হে:কো: স্বারক নং ২০১৯/১৯৫৩।

একইভাবে পৌর এলাকার কাপুড়িয়া সদরদী গ্রামের মৃত: এ.কে বিশ্বাসের পুত্র জগলুল বিশ্বাস তারিন, মৃত: আ: জব্বার বিশ্বাসের পুত্র রেজাউল বিশ্বাস, মৃত: রাজেক বেপারীর পুত্র মতিন বেপারী এবং দাড়িয়ার মাঠ এলাকার মৃত: বীর মুক্তিযোদ্ধা আ: রশিদের পুত্র মো. কামরুল ইসলামের ৩৮ নং চন্ডিদাসদী মৌজার কয়েকটি জমিও দখলের পায়তারা করে অবশেষে ব্যর্থ হয়।

সর্বশেষ ভূমিদস্যু আকরাম ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা একই মৌজার অর্ন্তগত আরএস ৩১৫, ১২৩৩ নং খতিয়ানের এসএ ১৩৪৪, ৩৬০ নং খতিয়ানের আরএস দাগ নং ২৮৬, এসএ ৩২৮ খতিয়ানে আরএস ২৯০, এসএ ৩৩৩ নং খতিয়ান, বর্তমান খতিয়ানের ৩০৫৩, হাল দাগ ৫৫৭২, ৫৫৭৮, ৫৬৩৬, ৫৬৩৭ এর এক একর ৫৬ শতাংশ জমির মধ্যে ক্রয়কৃত ৪০ শতাংশ জমিতে রাতের আঁধারে দখলপূর্বক ঘর উত্তোলনের চেষ্টা করে।

এবিষয়ে ঐ জমির ক্রয় সূত্রে মালিক কাপুড়িয়া সদরদী গ্রামের মৃত: শফিউদ্দিন বিশ্বাসের পুত্র মো. ইলিয়াছ বিশ্বাস এবং হাজী মহিউদ্দিন বিশ্বাসের পুত্র ইয়াহিয়া বিশ্বাস আকরাম গংদের বিরুদ্ধে ভাঙ্গা থানায় একটি সাধারণ ডায়রী করেন। যার নাম্বার- ৯০৪ তারিখ- ২১/০২/২০১৯ ইং।

সাধারণ ডায়রীর বিষয়ে ভাঙ্গা থানার সুযোগ্য অফিসার ইনচার্জ মো. শফিকুর রহমানের নির্দেশে জোরপূর্বক জমি দখলের বিষয়টি তদন্ত করেন এএসআই রফিকুল ইসলাম। তিনি ভাঙ্গা থানার ননএফআইআর নং ১০/২০১৯ তারিখ ২০/০২/২০১৯ ধারা ১০৭/১১৭/সি কার্যবিধি অনুযায়ী আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদনের স্বারক নং ৭৪৩/১৯ তারিখ- ২৪/০২/২০১৯ ইং। প্রতিবেদন দাখিলের পর আকরাম গং আদালতে নি:শর্ত ক্ষমা চেয়ে দখলকৃত জমি প্রকৃত মালিককে বুঝিয়ে দিবে এবং আর কখনও এমনটি করবে না মর্মে মুচলেকা দিয়ে শেষ রক্ষা পায়।

গত ০৭/০৭/২০২০ ইং তারিখে পুনরায় আকরাম গং উক্ত জমিতে রাতের আঁধারে দখলের চেষ্টা করিলে ইলিয়াছ বিশ্বাস বাদী হয়ে বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে প্রতিকার চেয়ে একটি পিটিশন দাখিল করেন। যার স্বারক নং ৪৪১ তারিখ ১২/০৭/২০২০ এবং ভাঙ্গা পিটিশন নং ২২৭/২০। এতে আদালত উক্ত জমিতে ফৌজদারী কার্যবিধির ১৪৪ ধারা জারী করেন। পরবর্তীতে ভাঙ্গা থানার এএসআই ছিরু মিয়া আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ১৪৪ ধারার নোটিশ জারী করেন।

এতে ক্ষিপ্ত হয়ে পুনরায় আদালতের আদেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে আকরাম গং গত ১৭/০৭/২০২০ ইং তারিখে উল্লেখিত জমিতে বাউন্ডারী ওয়াল গাঁথাসহ ঘর উত্তোলনের জন্য খামখুঁটি গাড়তে চেষ্টা করে। বিষয়টি বাদী ইলিয়াছ বিশ্বাস ২০/০৭/২০২০ ইং তারিখে ভাঙ্গা পিটিশন ২২৭/২০ এর আলোকে দ:বি: ১৮৮ ধারা মোতাবেক আদালতে প্রতিকার চেয়ে অবহিত করেন। আদালত পুন:দখলের ঘটনাটি তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ভাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জকে নির্দেশ প্রদান করেন। যা বর্তমানে তদন্তনাধীন রয়েছে।

এবিষয়ে জমিটির মালিক ইয়াহিয়া বিশ্বাস জানান, যে জমিটি ভূমিদস্যু আকরাম শেখ দখলের চেষ্টা করেছে সেই জমিটিতে আমরা দীর্ঘ ২৫ বৎসর যাবৎ শান্তিপূর্ণভাবে ভোগ দখল করে আসছি এবং জমিটি যাহার নিকট থেকে ক্রয় করেছিলাম তিনিও প্রায় ২৫ বৎসর ভোগ দখলে ছিলেন। এরপরও আকরাম গং জালিয়াতীর মাধ্যমে জমিটি দখলের পায়তারা করছে। যা অত্যন্ত দুঃখজনক।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঐ এলাকার একাধিক ব্যক্তি জানান, ভূমিদস্যু আকরাম শেখ উপজেলা বিএনপি’র প্রভাবশালী নেতা মনিরুজ্জামান মুন্সির জামাতা হবার সুবাদে এলাকায় নিজস্ব গুন্ডা বাহিনী গড়ে তুলেছে। নিজে নির্মান শ্রমিক না হয়েও নির্মান শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি হয়েছে। নিজে বেকার হলেও ভাঙ্গা বাজারের লন্ডন ব্রীজ সংলগ্ন দোতলা ভবনে নিয়েছেন আলীশান অফিস। এখান থেকেই তার সকল অপকর্ম পরিচালনা করে থাকে। আকরামরা ছয় ভাই হওয়ায় তাদের ভয়ে এলাকার কেউ মুখ খোলে না। ফলে আকরাম একের পর এক অন্যের জমি দখল করে অনেককেই পথে বসিয়েছে। আকরামের নিজের বৈধ কোন ব্যবসা বানিজ্য না থাকলেও রাজকীয়ভাবে জীবন যাপনের ফলে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই।

ভূমিদস্যু আকরামের বাবা মৃত: মো. মোতালেব শেখও ছিলেন এলাকার একজন চিহ্নিত ভূমিদস্যু। সে ৫৫ নং সদরদী মৌজার আরএস- ৭৮/৪০০/১৭৮৮ নং এসএ ১ নং খাস খতিয়ানের অধীনে আরএস ৬৮১ নং দাগ ৯০ শতাংশ (মাটিয়াল) জমি গত ৩১/১২/১৯৪৮ সালে ৬৩২০ নং কেত্তা ভিত্তিহীন এবং রেকর্ডপত্র বিহীন একটি জাল দলিল সৃষ্টি করিয়া পরে ১৩৯১ ও ১৩৯২ নং জাল দলিলমূলে নিজ নামে উক্ত ৯০ শতাংশ জমি লিখে নেয়।

এবিষয়ে হাজী আকরামের মুঠোফোনে তার বক্তব্য নেবার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি।

উল্লেখ্য ভূমিদস্যু আকরাম গংদের দখল বানিজ্যে অতিষ্ট হয়ে উঠেছেন এলাকাবাসী। ভূক্তভোগীরা ভূমিদস্যু আকরাম গংদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করাসহ বে-দখলীয় জমি পুনরুদ্ধার করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আশু ও কার্যকরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।