
মোঃ রমজান সিকদার,
ভাঙ্গা (ফরিদপুর) সংবাদদাতা-২৩/০৭/২০২৫
ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার পৌর সদরের দাড়িয়ার মাঠ এলাকার মৃত সেখ সাহাবুদ্দিন গত ২৯/০১/১৯৯১ ইং তারিখে ৯৯ বছরের জন্য সরকারি একটি জমি লিজ নেন। পরবর্তীতে তার পুত্র ভ্যান চালক কুটি মিয়া সেই জায়গার উপর ঘর নির্মান করে চায়ের দোকান দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। তার বাবা সেখ সাহাবুদ্দিন ও মা রওশানারা বেগমকে তৎকালীন সরকার তাদেরকে জমি রেজিস্ট্রি করে দেন। যার দলিল নং-৪০৩/৯১, দাগ নং-৪৩৪২/৯ ও ৪৩৪২/১০, এস এ খতিয়ান নং-০১, বি এস দাগ ৬০৫০, মৌজা-চন্ডীদাসদী। মোট জমির পরিমাণ-১৭ শতাংশ।
ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের রশিদ নং-৯৩৫৪১০, বাংলা সন -১৪২৪ পর্যন্ত। তারিখ-১৯/০৫/২০১৮ ইং।
বর্তমান দখলে থাকা কুটি মিয়া বলেন, তখন থেকেই আমরা ওই জমি ভোগ দখলে আছি। এস এ খতিয়ানে জমির মালিক সেক সাহাবুদ্দিন ও রওশনারা বেগম থাকলেও বি এস খতিয়ানে ভুল বশত তাদের নামের পরিবর্তে সরকারের নাম চলে আসে। আমি বি এস ৭ নাম সংশোধনের জন্য মামলা করছি। যা চলমান। আমি ভ্যান চালিয়ে যে টাকা আয় করতাম তাতে আমার সংসার চালাতে কষ্ট হতো তখন ধারদেনা করে একটি চায়ের দোকান দেই। আর থাকার জন্য একটি টিনের ঘর দেই। সম্প্রতি আমি লোন করে একটি পাকা ঘর নির্মান করি। যখন নির্মান কাজ চলছিলো তখন থেকেই একটি মহল আমাকে নানা ভাবে হয়রানি করেছে। গত কয়েকদিন আগে এসি ল্যান্ড অফিস থেকে নোটিশ দিছে ঘর না ভাঙলে আমাকে উচ্ছেদ করে দিবে। মামলা চলমান অবস্থায় কিভাবে আমাকে উচ্ছেদের নোটিশ দেয়। এই জমি সরকার আমাদের দিছে। আমরা এখানে কাজকর্ম করি, এখানেই থাকি। কেন আমরা আমাদের জমি ছেড়ে যাবো? শুধু কি গরীব মানুষের উপরই জুলুম? এই নদীর পাড় দিয়ে আরও অনেক বড় বড় বিল্ডিং আছে, তাদেরও লিজ নেওয়া। তাদের কোন নোটিশ না দিয়ে কেন শুধু আমাকে উচ্ছেদের নোটিশ দিলো?
এ বিষয়ে সহকারি কমিশনার (ভুমি) মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়া জানান, যে জমি থেকে কুটি মিয়াকে উচ্ছেদের নোটিশ দেওয়া হয়েছে ওই জমির উপর একটি অভিযোগ পেয়েছি। তিনি যে জমিতে ছিলেন সেখান থেকে তাকে উচ্ছেদ করা হচ্ছে না। তাছাড়া তিনি যে পাকা ভবন নির্মাণ করেছেন সে ভবন নির্মাণে তিনি ডিসি স্যারের নিকট থেকে কোন অনুমোদন নেননি। আমি তথ্যাদি পাওয়ার পর ইউএনও স্যারের সাথে আলোচনা করেছি। তারপর তাকে নোটিশ করেছি। তারপরও বিষয়টি আমি ইউএনও স্যারের সাথে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্ৰহন করা হবে।

