ভাঙ্গায় দ্বিতীয় দিনেও একই স্থানে দু’দল গ্রামবাসীর সংঘর্ষে আহত-১০। ব্যাপক বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট ।
মোঃ রমজান সিকদার,
ভাঙ্গা (ফরিদপুর) সংবাদদাতা,
ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নের গোপীনাথপুর গ্রামের রোববার বিকেলে দু’দল গ্রামবাসীর সংঘর্ষে পর আজ সোমবার সকালে পুনরায় দু’দল গ্ৰামবাসী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এতে কমপক্ষে ১০ গ্ৰামবাসী আহত হয়েছে। সকাল ৮ থেকে ঘন্টাব্যাপী চলা সংঘর্ষে অসংখ্য ঘরবাড়ি, দোকানপাট ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে । খবর পেয়ে ভাঙ্গা থানা পুলিশ পাশ্ববর্তী কয়েক গ্ৰামের একাধিক গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গকে সাথে নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এসময় দুদলই পুলিশ ও গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের কাছে মুচলেকা দিয়ে সংঘর্ষ বন্ধ করে।
দ্বিতীয় দফায় সংঘর্ষে মিন্টু নামের জনৈক ব্যক্তিকে গুরুত্বর আহত অবস্থায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। সংঘর্ষ চলাকালে মজিবর রহমান, হাবিব মাতুব্বর, পুলিশ সদস্য লিওন, ডাবলু মাতুব্বর, হেলো ও মোতালেব মাতুব্বরের বাড়ীঘর ভাংচুর ও লুটপাট হয়।
সংঘর্ষকারীরা দেশীয় অস্ত্র ঢাল শরকি, কালি, কাতরা, টেটা ও সড়কের ইট ভেঙে মাথায় হেলমেট পরে উভয় গ্রুপ সড়কের দুই পাশে ঘন্টাব্যাপী মুখোমুখি সংঘর্ষে লিপ্ত থাকে।
জানা গেছে, সাইমন মাতুব্বর ও কুদ্দুস মাতুব্বার লোকজন গত শুক্রবার একটি জমি মাপার শালিস করে । সেই শালিসের রায় রোববার বিকালে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু দুপুরের পর শালীর বৈঠকের কোন সিদ্ধান্ত না হওয়ার দু’দল গ্রামবাসী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একে অপরের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। বিকেল তিনটা থেকে শুরু হয়ে সংঘর্ষ সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত চলতে থাকে। সে সময় সংঘর্ষে ৬০ জন গ্ৰামবাসী আহত হয়।এরই ধারাবাহিকতায় আজ সোমবার সকালে পুনরায় দু’দল গ্ৰামবাসী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ফের সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।
এ ব্যাপারে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আশরাফ হোসেন জানান, দ্বিতীয় দিনের সংঘর্ষের খবর পেয়ে আমি পাশ্ববর্তী কয়েকটি গ্ৰামের গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গকে সাথে নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হই। আর কোন ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

