স্টাফ রিপোর্টার: ফরিদপুরের ভাঙ্গায় অপহৃত ঢাকা কলেজেরর ছাত্র চন্দন সরকার (২৪) কে রহস্যজনকভাবে মাদক মামলায় গ্রেফতার দেখালো মাদারীপুর ডিবি পুলিশ।
গত ০৩ সেপ্টেম্বর’২০২০ শনিবার রাজৈর থানার বাসষ্টান্ড সংলগ্ন বিসমিল্লাহ হোটেলের সামনে থেকে চন্দনকে গ্রেফতার করে মাদারীপুর জেলা গোয়েন্দা শাখার একদল ডিবি পুলিশ। পরে তাকে রাজৈর থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় মাদারীপুর ডিবি পুলিশের এ.এস.আই আবু সাঈদ বাদী হয়ে রাজৈর থানায় চন্দনের বিরুদ্ধে একটি মাদক মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এএসআই আবু সাঈদ জানান, শনিবার বিকেলে ৫.১০ মি. রাজৈর বাসষ্ট্যান্ডে বিসমিল্লাহ হোটেলের সামনে অজ্ঞাত এক যুবক অবৈধ মাদকদ্রব্য ইয়াবা ট্যাবলেট বিক্রির উদ্দেশ্যে অবস্থান করছে এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমি ও আমার সঙ্গীয় ডিবি পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান চালাই।
এসময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অজ্ঞাত একজন দৌঁড়ে পালিয়ে গেলেও চন্দন সরকারকে দুইশত পিঁচ ইয়াবা ট্যবলেটসহ গ্রেফতার করতে সক্ষম হই। পরে তাকে রাজৈর থানায় হস্তান্তর করা হলে রবিবার মাদক মামলায় কোর্টে প্রেরন করা হয়েছে।
অন্যদিকে, চন্দন সরকারের চাচা (সাবেক ভাঙ্গা উপজেলা চেয়ারম্যান) সুধিন সরকার মঙ্গল জানান, গত শনিবার চন্দন নিজ বাড়ী থেকে দুপুরে খাবার খেয়ে ভাঙ্গার উদ্দেশ্যে রওনা হয়। চন্ডিদাসদী গ্রামের কাওসার চেয়ারম্যানের বাড়ীর কাছে পৌঁছালে পথিমধ্যে অজ্ঞাত কয়েকজন চন্দনকে বেধড়ক মারপিট করে একটি মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়। পরে ওই দিন সন্ধায় আমাদের কাছে চন্দনের ব্যবহৃত মোবাইল থেকে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে চন্দনকে ছাড়িয়ে আনতে বলে। এ ঘটনা প্রশাসনের একটি পরিকল্পিত ঘটনা। আমার ভাতিজা সম্পুর্ন সড়যন্ত্রের শিকার হয়েছে। আমি প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্তপক্ষের নিকট এ ঘটনার সুষ্ঠ তদন্তসহ আন্তরিক হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
ঘটনার দিন প্রত্যক্ষদর্শীদের মধ্যে থেকে সবুজ মাতুব্বর ও উপস্থিত একজন মুদি দোকানদার বাকি শেখ, জানান, আমি দোকানে বসা ছিলাম। দুপুরের পরে বেলা ৩ টায় কাওসার চেয়ারম্যানের বাড়ীর সামনে চিল্লাচিল্লি শুনে সামনে আগাই। পরে দেখি অজ্ঞাত কয়েকেজন চন্দনকে মারপিট করছে। আমরা কয়েকজন তাদেরকে জিজ্ঞাসা করি কেন মারছেন? উওরে কোন কথা না বলে চন্দনকে একটি গাড়িতে তুলে নিয়ে যায় অজ্ঞাতরা। পরে জানতে পারি চন্দনকে মাদকসহ রাজৈর থানায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
ভাঙ্গা থানার ওসি মো. শফিকুর রহমান এ ঘটনায় সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মাদারীপুরের ডিবি পুলিশের একটি দল ওই দিন চন্দনকে তার গ্রাম থেকে তুলে নিয়ে যায়। তবে মাদকসহ রাজৈর বাসস্টান্ডে গ্রেফতারের বিষয়টি রহস্যজনক এবং ইতোমধ্যে এ ঘটনার বিষয়ে উর্দ্ধতন কর্তপক্ষের নির্দেশে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

