ফরিদপুর-৪ সংসদীয় আসনের ভাঙ্গা উপজেলার কেটে নেওয়া দুটি ইউনিয়ন পুনর্বহালের সংবাদে আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ


মোঃ রমজান সিকদার
ভাঙ্গা (ফরিদপুর) সংবাদদাতা,
ফরিদপুর-৪ সংসদীয় আসনের ভাঙ্গা উপজেলার আলগী ও হামিরদী ইউনিয়ন দুটি কেটে ফরিদপুর-২ আসনে অন্তর্ভুক্ত করার পর দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ে পর আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে হাইকোর্ট পুর্নবহাল রায় দেয়। কেটে নেওয়া দুটি ইউনিয়ন ফরিদপুর-৪ আসনে পুনর্বহালের সংবাদে ভাঙ্গায় আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করেন উচ্ছ্বসিত ভাঙ্গার এলাকাবাসী।
বৃহস্পতিবার হাইকোর্ট এক বেঞ্চের দেওয়া রায়ে ভাঙ্গার আলগী ও হামিরদী ইউনিয়নকে পুনরায় ফরিদপুর-৪ আসনে অন্তর্ভুক্ত করার আদেশ প্রদান করেন। এ খবর শোনার পর ঐ ২ ইউনিয়নের বাসিন্দাদের মাঝে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। তারা তাদের আন্দোলনের ফসল হিসাবে আজকের বিজয়কে দেখছেন।
ভাঙ্গা উপজেলা ১২টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত। ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা, সদরপুর ও চরভদ্রাসন উপজেলা নিয়ে ফরিদপুর-৪ আসন গঠিত। গত ৪ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশন ভাঙ্গা উপজেলার আলগী ও হামিরদী ইউনিয়নকে ফরিদপুর-৪ আসন থেকে কেটে ফরিদপুর-২ আসনের সাথে অন্তর্ভুক্ত করেন। এই দুই ইউনিয়ন এর বাসিন্দারা নির্বাচন কমিশনের এ ঘোষণাকে মেনে নিতে পারেননি। তারা ফরিদপুর-৪ আসনের ভাঙ্গা উপজেলাকে অখণ্ড রাখার দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন। ৫ সেপ্টেম্বর ভোর থেকে ঢাকা-খুলনা ও ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের ভাঙ্গা উপজেলার বিভিন্ন স্থানে টায়ার জ্বালিয়ে, গাছ ফেলে অবরোধ সৃষ্টি করেন। ঢাকার সাথে দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর ধারাবাহিক এ আন্দোলনে বেশ কয়েকদিন ঢাকা-খুলনা ও ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে অবরোধ সৃষ্টি করে ওই দুই ইউনিয়নের বাসিন্দারা যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন। এক পর্যায়ে মহাসড়কের পাশাপাশি রেলপথ অবরোধ করে রেল যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার কারণে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী ও ভাঙ্গার আলগী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ম ম ছিদ্দিক। তারপর আন্দোলন আরও বেগবান হয়। আন্দোলন চলাকালে গত ১৫ সেপ্টেম্বর দুপুরে ভাঙ্গা থানা, ভাঙ্গা হাইওয়ে থানা, ভাঙ্গা উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন দপ্তর ও ভাঙ্গা নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ে হামলা ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। সরকারি বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগে ভাঙ্গা থানায় চারটি মামলা হয়। এসব মামলায় ফরিদপুর-৪ আসনের সাবেক এমপি মুজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন, ভাঙ্গা পৌরসভার সাবেক মেয়র আবু ফয়েজ মোঃ রেজা, হামিরদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খোকন মিয়াসহ হামিরদী ও আলগী ইউনিয়নের অসংখ্য মানুষ আসামী হয়। আন্দোলন চলাকালে হিটস্টোকে মৃত্যু হয় ভাঙ্গার আলগী ইউনিয়নের শাহমল্লিকদী গ্রামের বাসিন্দা হাবিবুর রহমান (৭০)। অপরদিকে ভাঙ্গা থানা হামলা, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগে গ্রেফতার হন আলগী ইউনিনের সোনাখোলা গ্রামের জাকের মোল্লা (৫০) ৬ ডিসেম্বর তিনি ফরিদপুর জেলে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে জেল কর্তৃপক্ষ ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানেই তার মৃত্যু হয়।
আন্দোলন চলাকালে ঐ দুই ইউনিয়ন ফরিদপুর-৪ আসনে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে হাইকোর্টে একাধিক রিট হয়। বেশ কয়েকদিন শুনানির পর বৃহস্পতিবার হাইকোর্ট দুই ইউনিয়নকে ফরিদপুর-৪ আসনের সাথে ফিরিয়ে দেয়।
বৃহস্পতিবার রায় ঘোষণার পর স্বাগত জানিয়েছে ফরিদপুর-৪ আসনের বিএনপির প্রার্থী শহিদুল ইসলাম খান বাবুল, জামায়াতে ইসলামের প্রার্থী মাওলানা সরোয়ার হোসাইন, স্বতন্ত্র প্রার্থী এম এম হোসাইন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মিজানুর রহমান মোল্লা, স্বতন্ত্র প্রার্থী মুজাহিদ বেগ, ইসলামী আন্দোলন প্রার্থী প্রমুখ। তারা আজকের রায়কে তাদের বিজয় হিসাবে উল্লেখ করেন।
এ রায় ঘোষণার পর ভাঙ্গায় আনন্দ মিছিল করেছে ভাঙ্গা উপজেলা জামায়াতে ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন ও খেলাফত মজলিসের নেতা কর্মীরা। তারা এ রায় ঘোষণাকে তাদের বিজয় হিসাবে উল্লেখ করেন। ভাঙ্গা পৌরসদর সহ আলগী ও হামিরদী ইউনিয়নের ছোট বড় বাজারের দোকানদার, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে মিষ্টি বিতরণ করেন।