ভাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি: ফরিদপুরে পরকীয়া প্রেমের ফাঁদে ধরা পড়ে এলাকাবাসীর হাতে গণধোলাইর শিকার হলেন পল্লী চিকিৎসক শফিকুল ইসলাম বাকা। ঘটনাটি ঘটেছে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার চুমরদী গ্রামে।
জানা যায়, পল্লী চিকিৎক বাকা ভোর রাতে প্রেমিকা হাফিজা বেগমের বাড়ীতে গোপনে দেখা করতে আসে। একপর্যায়ে তারা উভয়েই অনৈতিক কাজে লিপ্ত হলে প্রেমিকার দেবর সোলায়মান মাতুব্বর দেখে ফেলে। এসময় প্রেমিক যুগল সোলায়মানকে গলা চেপে মেরে ফেলার চেস্টা করে। তার শোর চিৎকারে স্থানীয় কিছু লোকজন ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে ভাঙ্গা হাসপাতালে ভর্তি করে।
এ ঘটনায় এলাকাবাসী হাফিজা বেগমকে আটক করে পুলিশে খবর দেয়। পরে থানার উপ-পরিদর্শক সুমন গিয়ে হাফিজাকে উদ্ধার করে স্থানীয়দের জিম্মায় রেখে আসে।
এদিকে প্রেমিক বাকার পরিবারের পক্ষ হতে তাকে মারধর করায় স্থানীয় কয়েক জনের নামে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করে। গুরুতর আহত বাকা এখন ফরিদপুর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী অপু জানায়, হাফিজা বেগমের সাথে বাকার দীর্ঘদিনের পরকীয়া প্রেম চলছিল। এনিয়ে উভয় পরিবারের মধ্যে কয়েকবার শালিশও হয়েছে।
এবিষয়ে প্রেমিক বাকা বলেন, আমি অসুস্থ হাফিজাকে চিকিৎসা দিতে তার বাড়ীতে যাই। আমি কিছু বলার আগেই স্থানীয় কয়েকজন আমাকে বেধড়ক মারপিট শুরু করে।
এই ঘটনায় প্রমিকা হাফিজার ছেলে হাফিজুল জানান, তারা বাবা আবুল বাসার মাতুব্বর এক বছর আগে মারা গেছেন। তার বাবা বেঁচে থাকতেই তার মা বাকার সাথে সম্পর্ক গড়ে তোলে। এনিয়ে তারা কয়েকবার ধরা পড়ে দরবারও হয়েছে। কিন্ত তার মা ফেরেনি। গত রাতে এলাকাবাসী আপত্তিকর অবস্থায় দেখে গনধোলাই দিয়েছে জানতে পেরে আমি ঢাকা থেকে এসেছি। আমাদের ধারনা বাকার যোগসাজসেই আমার বাবাকে তারা হত্যা করেছে। সে সময়ে আমারা আইনী ব্যবস্থা গ্রহন করিনি। কারন তখন শুধু সন্দেহ ছিল কিন্তু এখন আমরা অনেকটা নিশ্চিত যে, বাবাকে তখন পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছিল। অতএব এখন আমরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা সাপেক্ষে আইনী ব্যবস্থা গ্রহন করার উদ্দ্যেগ নিয়েছি।

