
মোঃ রমজান সিকদার
ভাঙ্গা (ফরিদপুর) সংবাদদাতা,
দেশের অন্যতম সৌন্দর্য বর্ধন ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের ভাঙ্গা ইন্টারচেঞ্জে দীর্ঘদিন ধরে সড়ক বাতি বন্ধ রয়েছে। এতে করে রাজধানী ঢাকার সাথে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার অন্যতম প্রবেশদ্বারটির মুখ সন্ধ্যা হলেই ভুতুড়ে পরিবেশে পরিনত হয়। প্রতিদিন চলাচলকারী হাজার হাজার যানবাহন থেকে যাত্রীদের নামিয়ে দেওয়া হয় ইন্টারচেঞ্জের গোলচত্বরের চারদিকের ষ্টেশনে। সেসময় সড়ক বাতি বন্ধ থাকায় অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে ভাঙ্গা ইন্টারচেঞ্জের পুরো এলাকা। এই সুযোগে বাড়ছে চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা। ভুক্তভোগীরা সহ এসব অনাকাঙ্খিত ঘটনায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। তাছাড়া সৌন্দর্য বর্ধন এক্সপ্রেসওয়ের ভাঙ্গা ইন্টারচেঞ্জ এলাকায় ইতিপূর্বে হাজার হাজার দর্শনার্থীর আনাগোনায় মুখরিত ছিল। সম্প্রতি সড়কে বাতি বন্ধ থাকায় দিন দিন কমছে দর্শনার্থীদের সংখ্যা।
ভাঙ্গা থেকে ঢাকা পর্যন্ত ৬৫ কিঃমিঃ সড়কের প্রতিটি ফ্লাইওভারে ও নির্দিষ্ট বাস-বে স্থানে সড়ক বাতি নিয়মিত জ্বলে অথচ হাইওয়ের প্রবেশদ্বার ভাঙ্গা ইন্টারচেঞ্জ এলাকায় বিভিন্ন অযুহাতে প্রায় সারা বছরই বাতি বন্ধ থাকে। কতৃপক্ষ কখনো তার চুরি অথবা বিদ্যুৎ বিল বকেয়ার কথা বলেই দায় সারছেন।
সড়ক বাতি বন্ধর কারনে প্রবেশদ্বারটি ভুতুড়ে এলাকায় পরিনত হয়েছে বলে দাবি করে ভাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি হাজী আব্দুল মান্নান বলেন, শহরের গুরুত্বপূর্ণ এই এলাকায় সন্ধ্যার পর থেকে রাতভর সড়ক বাতি জ্বলে না। মাঝে মধ্যে জেনারেটর দিয়ে কিছু সময় সড়ক বাতি জ্বলতে দেখা যায়। সড়ক বাতি না জ্বলার কারনে সৌন্দর্য নষ্টর পাশাপাশি প্রতিনিয়ত চুরি ছিনতাইর ঘটনা ঘটেছে। এনিয়ে মিডিয়ায় সংবাদ প্রচারের পর কয়েকদিন বাতি জ্বলছিল। কি অযুহাতে আবারও দীর্ঘদিন কেন সড়ক বাতি বন্ধ রয়েছে তার কোন সদুত্তর কতৃপক্ষের কাছ থেকে পাচ্ছি না। আশাকরি কতৃপক্ষ দ্রুতই সড়ক বাতিগুলো জ্বালিয়ে ইন্টারচেঞ্জের আসল সৌন্দর্য্য রক্ষা ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা করবেন।
ঢাকা থেকে পরিবার পরিজন নিয়ে ঘুরতে আসা মুহিত ইসলাম বলেন, বিকেলে মাইক্রোবাসে করে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঢাকা থেকে ঘুরতে এসেছি ভাঙ্গা ইন্টারচেঞ্জ এলাকায়। আসতে আসতে সন্ধ্যা হয়ে গেছে। চারদিকে শুধু অন্ধকার। সড়ক বাতি বন্ধ থাকায় ইন্টারচেজের সৌন্দর্য্য না দেখেই চলে যেতে হচ্ছে।
ভ্রাম্যমাণ দোকানদার রনক দাস বলেন, সড়ক বাতি বন্ধ থাকায় ২ দিন আগে বাস থেকে নামতেই এক যাত্রীর ১২ হাজার টাকা ও মোবাইল ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। দুর চিল্লাচেল্লি শুনছি অন্ধকার থাকায় ভয় তাকে সাহায্য করতে কেউই এগিয়ে যায়নি। এছাড়াও মলম পার্টি ও শয়তানের নিঃশ্বাসের খপ্পরে পড়ে অনেকেই তাদের মুল্যবান জিনিস হারিয়েছে। কেউ কেউ তো অজ্ঞান হয়ে পড়ে থাকে তখন স্থানীয় ভ্যান চালকেরা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।
ভাঙ্গা পৌরসভার বাসিন্দা কাঠ মিস্ত্রি কার্তিক সরকার জানায়, শারদীয় দুর্গা পুজার ৮ম দিনে তাঁর শশুর ভাঙ্গা গোল চত্বর দিয়ে পুজা মণ্ডপে যাওয়ার সময় সড়কে বাতি না জ্বলার সুযোগে ছিনতাই কারীর কবলে পড়ে। ছিনতাই কারী কয়েকজন ব্যাক্তি তাঁর শশুরের নাকের কাছে একটি রুমাল ঝাড়তেই সে জ্ঞান হারায়। কিন্তু তাঁর কাছে নগদ টাকা ও একটি মোবাইল ছাড়া তেমন কিছু না পাওয়ায় পরে তাকে অসুস্থ অবস্থায় ফেলে যায় তারা। আমরা অনেক খুঁজাখুঁজির পর আমার শশুরকে সড়কের পাশ থেকে উদ্ধার কে চিকিৎসা দিলে তিনি সুস্থ হয়।
সড়ক বাতি না জ্বলার সুযোগে প্রতিদিন প্রতিনিয়ত এসব অঘটন ঘটছে । ভুক্তভোগীরা ঝামেলা এড়াতে ও নিরাপত্তার অভাবে অধিকাংশ সময় থানায় কোন অভিযোগ দেয় না । এসব ঘটনা প্রতিরোধে ও সাধারণ মানুষের জান-মালের রক্ষায় পুলিশ ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি আরও বাড়ানোর প্রয়োজন বলে দাবি স্থানীয়দের। নিয়মিত সড়ক বাতি জ্বললে অনেকটাই কমে আসবে অপরাধ প্রবণতা।
ঢাকা ভাঙ্গা হাইওয়ে এক্সপ্রেসের সড়ক ও জনপথ বিভাগের (শ্রীনগর-মুন্সীগঞ্জ) উপবিভাগীয় প্রকৌশলী এমএম হানিফ জানান , ঢাকা-ভাঙ্গা হাইওয়ে এক্সপ্রেসয়ের ইন্টারচেঞ্জের বিদ্যুতের তাঁর ও গুরুত্বপূর্ণ সামগ্রী প্রতিনিয়তই চুরি হচ্ছে। এতে করে পুরো এলাকায় সড়ক বাতিগুলো ঠিকমত জ্বলে না। তবে এ সমস্যার সমাধানের জন্য কোম্পানির সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে।
ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আশরাফ হোসেন জানান, ইন্টারচেঞ্জে পর্যাপ্ত আলো না থাকার জন্যই চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে। ইন্টারচেঞ্জ এলাকায় গত দুই মাসে চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনায় প্রায় ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এসব প্রতিরোধে ইন্টারচেঞ্জ এলাকায় নিয়মিত সড়ক বাতি জ্বালানো ও সিসিটিভির আওতায় আনা প্রয়োজন । আমরা ইন্টারচেঞ্জ এলাকায় অনাকাঙ্খিত ঘটনা এড়াতে রাতে পুলিশের টহল আরও জোরদার করেছি।
ভাঙ্গা ইন্টারচেঞ্জ এলাকায় কর্মরত নাইটগার্ড আক্কাছ মোল্লা জানায়, সড়ক বাতি না জ্বলার কারনেই চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে।
ভাঙ্গা ইন্টারচেঞ্জ সাব-স্টেশনের নৈশপ্রহরী সিরাজ খান জানায়, গত ২০ থেকে ২৫ দিন যাবত স্টেশনের বৈদ্যুতিক সরঞ্জমাদী পুড়ে গেছে। আপাতত জেনারেটর দিয়ে প্রতিদিন কমপক্ষে রাতে দুই থেকে তিন ঘন্টা সড়ক বাতি জ্বলছে। তবে পুরো বিষয়টি উর্ধতন কতৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
ভাঙ্গা আবাসীক প্রকৌশলী (ওজোপাডিকো) সাইদুর রহমান জানান, গত কয়েক বছরে একাধিকবার বিদ্যুতের বিল সময়মত পরিশোধ না হওয়ায় ইন্টারচেঞ্জ এরিয়ার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। বর্তমানেও দুই থেকে তিন মাসের বিদ্যুত বিল বকেয়া রয়েছে। তবে ইন্টারচেঞ্জ সাব-স্টেশনে তাদের বিদ্যুত সংযোগ চালু আছে। কিন্তু কেন সন্ধ্যার পর রোড লাইট জ্বলছে না সে বিষয়ে সড়ক ও জনপথ কর্তৃপক্ষ জানেন।

