
মোঃ রমজান সিকদার,
ভাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
ফরিদপুর-৪ আসনের ভাঙ্গা উপজেলায় গভীর রাতে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে অস্ত্রসহ ফুটবল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী মুজাহিদ বেগের সমর্থকদের বাড়িতে হানা দিয়ে হুমকি-ধমকি দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া প্রচারণাকালে একাধিক স্থানে নারী কর্মীদের হেনস্তারও অভিযোগ উঠেছে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এসব ঘটনা ঘটনাস্থলের সিসি ক্যামেরার ফুটেজেও ধরা পড়ে। আজ সোমবার বিকালে অভিযোগগুলো করেন ফরিদপুর-৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী (ফুটবল) এএএম মুজাহিদ বেগ।
জানা যায়, রোববার (০৯ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে ভাঙ্গা উপজেলার কাউলিবেড়া ইউনিয়নের পুটিয়া গ্রামে আব্দুস সামাদ মাতুব্বরের বাড়িতে ডিবি পরিচয়ে হানা দেয় দুর্বৃত্তরা। ওই বাড়িতে থাকা সিসি ক্যামেরায় দেখা যায়, রাত ২ টা ১৮ মিনিটে একটি প্রাইভেটকার ও দুটি মাইক্রোবাসে করে দুর্বৃত্তরা আসেন। এ সময় ৮/১০ জন লোক বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে দরজায় শব্দ করতে থাকেন। এ সময় দুইজনের কাধে ঝুলানো অবস্থায় শর্টগান (আগ্নেয়াস্ত্র) দেখা যায়।
এছাড়া বলতে শোনা যায়, এই বাবুল (সামাদ মাতুব্বরের ছেলে) দরজা খোল, আমরা থানা থেকে আসছি। প্রায় ১০ মিনিট অবস্থান করে পরে ২টা ২৮ মিনিটে চলে যায় দুর্বৃত্তরা।
এ বিষয়ে বাবুল মাতুব্বর বলেন, “আমি মুজাহিদ ভাইকে ভালবেসে তাঁর নির্বাচন করতেছি কিন্তু প্রতিনিয়ত বিএনপির লোকজন আমাকে হুমকি দিতেছে। এরমধ্যে গতকাল রাতে আড়াইটার দিকে তিনটি গাড়িতে করে অনেক লোক আসে, তাঁরা আমাকে ডাকতে থাকে এবং থানা থেকে এসেছি বলে জানায়। তখন আমি ও আমার পরিবার আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। তাঁরা দরজার বাইরে থেকে আমাকে বলে- তুই ফুটবলের সাথে থাকলে গুলি করে মেরে ফেলব।” এর আগে আরও দুইদিন রাতে তাঁদের বাড়িতে হানা দেয়া হয় বলে জানান।
তবে রাতে থানা থেকে কোনো পুলিশ সদস্য ওই গ্রামে যায়নি বলে নিশ্চিত করেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আলিম। তিনি বলেন- ঘটনাটি আমার জানা নেই এবং থানায় কেউ অভিযোগও দেননি।
এদিকে আজ সোমবার বিকালে চরভদ্রাসন উপজেলার দুটি এলাকায় এই স্বতন্ত্র প্রার্থীর নারী কর্মীদের হেনস্তা করা হয় বলে আসনটির নির্বাচন ও বিচারিক কমিটির কাছে অভিযোগ দেয়া হয়েছে। অভিযোগ দায়ের করেন মাকসুদা বেগম নামে এক নারী সমর্থক। অভিযোগে বলা হয়- মুজাহিদ বেগের কর্মী হিসেবে লিফলেট নিয়ে চরভদ্রাসন উপজেলার মৌলভীরচর বেলতলা এলাকায় প্রচারণাকালে স্থানীয় কৃষকদল নেতা কামরুল হাসান ফিরোজের নেতৃত্বে হেনস্তা করা হয়।
এছাড়া বিকেল সাড়ে ৩ টার দিকে উপজেলা সদরের স্বাধীনতা চত্ত্বরে চরভদ্রাসন ডিজিটাল হসপিটাল এন্ড ডায়াগণস্টিক সেন্টারের সামনে ১২ জন নারী সমর্থককে আটকে রাখা হয়। এ সময় উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব রাশেদ আল ফারুকের নেতৃত্বে ১০-১২ জন যুবক নারীদের মোবাইল চোর আখ্যা দিয়ে হেনস্তা করেন। ঘটনাটি হাসপাতালের সিসি ক্যামেরাতেও দেখা যায়।
বিষয়টি নিয়ে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জালাল উদ্দিন বলেন- ঘটনাটি সম্পর্কে আমি অবগত নেই এবং কেউ মৌখিক বা লিখিত অভিযোগ দেননি।
এসব ঘটনায় ভোটের পরিবেশ নিয়ে আতঙ্কে রয়েছেন বলে স্বতন্ত্র প্রার্থী মুজাহিদ বেগ জানান। তিনি বলেন- আমার নেতাকর্মী ও সমর্থকদের প্রতিনিয়ত হুমকি দেয়া হচ্ছে, প্রচার-প্রচারণায় বাঁধা দিচ্ছেন বিএনপির লোকজন। এমনকি রাতের বেলা ডিবি পরিচয়ে বিভিন্ন লোকের বাড়িতে গিয়ে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে, তুলে নিয়ে মারধরও করা হচ্ছে। আমার নারী কর্মীরা কোথাও ভোট চাইতে গেলে হেনস্তা করা হচ্ছে। বিষয়গুলো নিয়ে সংশ্লিষ্টদের কাছে প্রমাণসহ একাধিক অভিযোগ দিলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে আমি শঙ্কিত ও আতঙ্কিত।

