সাখাওয়াত কে নিয়ে আশাবাদী বহির্বিশ্বের স্বেচ্ছাসেবক লীগ

অনলাইন ডেস্ক: অনেক আলোচনা ও সমালোচনার মুখে চলতি বছরের ১৬ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে উপমহাদেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অন্যতম গুরূত্বপূর্ণ সহযোগি সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের ৩য় জাতীয় সম্মেলন।

সম্মেলন উপলক্ষে আগামীর নেতৃত্বের জন্য আলোচনায় উঠে এসেছে একাধিক ব্যাক্তির নাম। নেতৃত্বের দৌড়ে যেমন এগিয়ে রয়েছেন বর্তমানে বিভিন্ন কেন্দ্রীয় পদে বহাল নেতাকর্মীরা। একই সাথে নতুনভাবে মূল্যায়িত হবেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতারাও, এমনটাই জানিয়েছেন একাধিক প্রবীণ নেতা।

দীর্ঘসময় পরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলনকে ঘিরে তাই উত্তেজনা বিরাজ করছে বর্তমানে এর সকল সাংগঠনিক ইউনিটের নেতাকর্মীদের মধ্যে। কেন্দ্রে নিজেদের পছন্দের নেতৃত্বের মূল্যায়নের ব্যাপারে সকলেই ব্যাপক আশাবাদী। এরই ধারাবাহিকতায় বর্তমানে বহির্বিশ্বে দায়িত্বরত স্বেচ্ছাসেবক লীগের সকল সাংগঠনিক ইউনিটের নেতাকর্মীদের মাঝেও আশা সঞ্চারিত হয়েছে বর্তমান কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও নব্বই গণআন্দোলনে তৃণমূলের জনপ্রিয় সাবেক ছাত্রনেতা সাখাওয়াত বিশ্বাস-কে নিয়ে।

৪৬ বছর বয়সী সাখাওয়াত বিশ্বাস ২৩ বছর ধরে বসবাস করছেন যুক্তরাষ্ট্রে, পেশায় একজন ক্ষুদ্র ব্যাবসায়ি। বাংলাদেশে তার বাড়ি ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা উপজেলায়। পারিবারের সকলেই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত থাকার সুবাদে রাজনীতিতে আসার সুযোগ হয় ছাত্র জীবনে। প্রথমে নিজ এলাকা পরে ভাংগা উপজেলায় অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী সরকারি কে.এম কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ছাত্র রাজনীতিতে জনপ্রিয়তা অর্জনের ফলশ্রুতিতে পরবর্তীতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ভোটে ছাত্র সংসদের ভিপি নির্বাচিত হন।

নব্বই এর গণ আন্দোলনে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নির্দেশনায় তৃণমূলের ছাত্র সমাজকে সু-সংগঠিত করার জন্য বিশেষ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন তিনি। তাই, আজও তৎকালীন ছাত্র সমাজের সকলের কাছে প্রিয়মুখ সাখাওয়াত বিশ্বাস।

ছাত্র রাজনীতির অধ্যায় শেষ করার পর জীবিকার তাগিদে পাড়ি জমান যুক্তরাষ্ট্রে। সেখানে বসেও চালিয়ে গেছেন মুজিবাদর্শের চর্চা, নিজেকে ব্যাস্ত রাখা শুরু করেন স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুক্তরাষ্ট্রের কার্যক্রমের সাথে। এরই ধারাবাহিকতায় নির্বাচিত হন যু্ক্তরাষ্ট্র আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি হিসেবে। যু্ক্তরাষ্ট্র আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের বর্তমান একাধিক নেতৃত্বের সাথে কথা বলে জানা যায়, দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন সাংগঠনিক কার্যক্রমের দ্বারা সংগঠনকে সফলভাবে সু-সংগঠিত করে তোলেন তৎকালীন সভাপতি সাখাওয়াত বিশ্বাস। যার ফলাফল এখনো ভোগ করে যাচ্ছেন বর্তমান নেতা-কর্মীরা।

সফলভাবে বহির্বিশ্বের সবচেয়ে গুরূত্বপূর্ণ সাংগঠনিক ইউনিট যু্ক্তরাষ্ট্র আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালনের পর নজরে আসেন কেন্দ্রের, মনোনীত হন কেন্দ্রীয় সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে।

কেন্দ্রীয় দায়িত্ব লাভের পরপরই কাজ শুরু করেন বহির্বিশ্বে স্বেচ্ছাসেবক লীগের সকল সাংগঠনিক ইউনিটগুলোর সাংগঠনিক মান বৃদ্ধিতে। একইসাথে দলের সকল প্রয়োজনীয় মুহূর্তে ছুটে গিয়েছেন দেশে। নাম না প্রকাশ করার শর্তে বহির্বিশ্ব স্বেচ্ছাসেবক লীগের এক নেতা বলেন, “আমাদের প্রত্যেকটি অনুষ্ঠানে ও কার্যক্রমে নিজের লাভ খোজা তো দূরের কথা উল্টাে পকেটের সঞ্চিত অর্থ খরচ করেন সাখাওয়াত ভাই। এছাড়া প্রবাসের সকল নেতা-কর্মীর সকল অসুবিধায় তাৎক্ষণিক কেন্দ্র থেকে সমস্যা সমাধানের ব্যাবস্থা করেন।”

বহির্বিশ্ব আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের বিভিন্ন ইউনিটের নেতা-কর্মীদের থেকে জানা যায় যে, গত বছর একাদশ জাতীয় নির্বাচনের সময় সাখাওয়াত বিশ্বাসের নিজ উদ্যোগ ও নেতৃত্বে পুরো বহির্বিশ্ব আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সকল ইউনিট একযোগে দলীয় প্রতীক নৌকা’র প্রচারনায় সোসাল মিডিয়া ক্যাম্পেইনে অংশগ্রহণ করে, এর দ্বারা নতুন করে গুরূত্ব বৃদ্ধির সাথে সাথে কেন্দ্র তথা দলীয় হাইকমান্ডের আলোচনায় আসে বহির্বিশ্ব আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সকল ইউনিট। একইসাথে তার নিজস্ব উদ্যোগে বহির্বিশ্বের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতন একমাত্র স্বেচ্ছাসেবক লীগের বহির্বিশ্বের নেতাকর্মীরা একাদশ জাতীয় নির্বাচনে প্রচারণার জন্য কেন্দ্রের লিখিত স্বীকৃতি পায়।

এছাড়া প্রবাসে বসেও জাতীয় যেকোন ইস্যুতে দলের ভাবমূর্তি পরিস্কার রাখা এবং অসাম্প্রদায়িকতা রুখে দাড়ানোর ক্ষেত্রে প্রবাসী বাংলা গণমাধ্যমগুলোতে তার গুরূত্বপূর্ণ বক্তব্যের মাধ্যমে আলোচনায় থেকে থাকেন।

সংগঠনের দলীয় বিভিন্ন ইতিবাচক কার্যাবলিতে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত থাকার কারনে এবং বহির্বিশ্বের সকল স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাকর্মীদের নিকট তুমুল জনপ্রিয়তার ধারাবাহিকতায় আসন্ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় সম্মেলনে সাখাওয়াত বিশ্বাস কে সংগঠনের কেন্দ্রীয় গুরূত্বপূর্ণ পদে মূল্যায়িত করার দাবি জানাচ্ছে বহির্বিশ্ব আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ। ইতিমধ্যে, একাধিক বহির্বিশ্ব স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাকর্মী নিজ ফেইসবুক ওয়ালে তাদের এ দাবির কথা উপস্থাপন করেছেন। তাদের সকলের মতে সাখাওয়াত বর্তমানে দলীয়ভাবে সবাইকে যেভাবে সহযোগীতা করে এর চেয়ে আরও অনেকগুন বেশিগুণ সেবা ও সহযোগীতা প্রবাসে ও দেশের সকল নেতাকর্মী পাবেন যদি তাকে এবারের সম্মেলনে মূল্যায়ন করা হয়।

এ সম্পর্কে আলাপচারিতার এক পর্যায়ে সাখাওয়াত বিশ্বাস সময়ের কন্ঠ কে জানান যে, ” সেই কৈশোরে ছাত্রলীগ থেকে আমার দলের সাথে পথচলা, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও জননেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্ব কে ভালোবেসে তথা প্রিয় সংগঠনকে ভালোবেসে যখন আমার উপর যে দায়িত্ব এসেছে তা নিঃস্বার্থভাবে পালন করেছি, এখন দল যদি মনে করে আমাকে কোন গুরূত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া যায় তাহলে সেই দায়িত্বও নিঃস্বার্থভাবে পালন করবো, সংগঠনের গতিশীলতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবো। আবার, যদি কোন দায়িত্ব না পাই তাহলেও আমার অবস্থান সুখে দুঃখে দলের পাশেই হবে, নিঃস্বার্থভাবেই হবে।”