ভ্যান চালক পারভেজ,
মাদারীপুর জেলার,শিবচর থানার চরজানাজাত ইউনিয়নের বাসিন্দা ভ্যান চালক পারভেজ( ২৪)।
গত এক বৎসর যাবৎ পারভেজ (২৪) তার শ্বশুর ছামাদ খা, সাং-রহমতউলস্নাহ হাওলাদারকান্দী, থানা-শিবচর, জেলা-মাদারীপুর এর বাড়ীতে স্বপরিবারে বসবাস করত। গত ১৩/১০/২০২১ ইং তারিখ সকাল অনুমান ০৯.০০ ঘটিকার সময় পারভেজ ফকির তার শশুর বাড়ী হতে প্রতিদিন এর ন্যায় ভ্যানগাড়ী চালানোর উদ্দেশ্যে বের হয়। কিন্তু রাতে পারভেজ তার শশুর বাড়ীতে ফিরে না যাওয়ায় তার শশুর বাড়ীর লোকজন তার বাবার বাড়ীর লোকজনের সাথে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ করে এবং পরভেজকে খোঁজ করে না পাওয়া গেলে তার শশুর বাড়ীর লোক ও বাবার বাড়ির লোক উভয় বিভিন্ন আত্মীয় স্বজনের বাড়ীতে খোঁজনেয় এবং সকলে মিলে পারভেজ(২৪) কে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুজি করতে থাকে।
ভাংগা থানা পুলিশ গত ১৪/১০/২০২১ ইং তারিখ দুপুর অনুমান ০২.৩০ ঘটিকার সময় পারভেজ এর পরিবারের লোকজনের নিকট সংবাদ দেয় যে, ভাংগা থানার, নাছিরাবাদ ইউনিয়ন এর, গজারিয়া আড়িয়ালখাঁ নদীর পূর্ব পাশে চরের ধান ক্ষেতে একটি মৃতদেহ পাওয়া গেছে । পারভেজ এর বাবা ও পরিবারের লোকজন নিয়ে ঘটনাস্থলে যায় এবং মৃতদেহ পারভেজ ফকির এর লাশ বলে সনাক্ত করে। মৃতদেহের গলায় গামছার উপর দিয়ে রশি পেচানো ছিল। পরবর্তীতে পারভেজের বাবা বাদী হয়ে ভাঙ্গা থানায় মামলা করেন।
ভাঙ্গা থানার ( সার্কেল ) মহোদয়ের সার্বিক তত্বাবধায়নে অফিসার ইনচার্জ, ভাংগা থানা, ফরিদপুর সার্বিক সহযোগিতায় এসআই(নিঃ)/মোঃ আবুল কালাম আজাদ এবং এসআই/ জুয়েল মিয়া হত্যা মামলাটি প্রকাশ্য ও গোপনে গভীরভাবে তদন্ত করেন। এসআই(নিঃ)/মোঃ আবুল কালাম আজাদ এর কঠোর প্রচেষটায় মামলাটির মূল রহস্য উদ্ঘাটন করা সম্ভব হয়
ভ্যান চালক পারভেজ এর সাথে হত্যাকারী আজিজুল মুন্সী ও হৃদয় মাদবরের সাথে পূর্ব থেকেই বন্ধু সর্ম্পক ছিলো। কিন্তু আজিজুল মুন্সী- হৃদয় মাদবর ধার দেনার ও অভাব-অনাটনের কারনে সুদের উপর টাকা নেয়, সুদের টাকা পরিশোধ করার জন্য সুদ ব্যবসায়ী চাপ দিতে থাকে। তখন আজিজুল মুন্সী ও হৃদয় পরিকল্পনা করে বন্ধু পারভেজ এর একটি ভ্যানগাড়ী আছে তাকে হত্যা করে উক্ত ভ্যানগাড়ীটি বিক্রয় করতে পারলে দুইজনের সুদের টাকা পরিশোধ করতে পারবে। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ইং ১৩/১০/২০২১ তারিখ বিকাল ০৪.০০ টার সময় আজিজুল মুন্সী পারভেজকে পালা গানের কথা বলে তার ভ্যান নিয়ে রাত ৮.০০ টার সময় সন্ন্যাসীরচর শরিফ কান্দি স-মিলের সামনে থাকতে বলে।
আজিজুল মুন্সী ও হৃদয় রাত অনুমান ০৭.৩০ ঘটিকার সময় শিবচর থানাধীন খাসেরহাট বাজারের ঔষধের দু’টি দোকান থেকে ০৬টি ঘুমের ঔষধ কিনে এবং ২৫০ মিলি কোকলার ছোট বোতল কিনে। কোকের বোতলের ভিতর ০৬টি ঘুমের ঔষধ ভরে আজিজুল মুন্সী ও হৃদয় তাদের বাড়ীর স্-মিলের সামনে দাড়ায়, রাত অনুমান ০৮.০০ হইতে ০৮.৩০ মিনিটে পারভেজ তার ভ্যান নিয়ে স-মিলের সামনে আসলে আজিজুল মুন্সী ও হৃদয় তার ভ্যানে উঠে পারভেজ কে দরগার বাজারের ঘাটের দিকে যেতে বলে ।
পারভেজ আজিজুল মুন্সী ও হৃদয় তার ভ্যান করে নিয়ে দরগা বাজারের ঘাটে যায়। আজিজুল মুন্সী ও হৃদয় পারভেজ কে নিয়ে আড়িয়াল খাঁ নদীর পাড়ে ঘুরাঘুড়ি করে। গত ইং ১৪/১০/২০২১ তারিখ রাত অনুমান ১২.০০ টা হতে ১২.৩০ মিনিট এ পারভেজ কে আজিজুল মুন্সী তাদের ঘুমের ঔষধ মিশানো কোকের বোতল হাতে দিয়ে কোক খাইতে বলে। পারভেজ কোকের বোতল হাতে নিয়ে কোক খায় এবং হৃদয়কে কোক খাইতে সাধে কিন্তু হৃদয় খায় না। পারভেজ একাই কোক খেয়ে ফেলে।
কিছুক্ষণ পরে পারভেজ এর ঘুম ঘুম ভাব হয় কিন্তু পুরোপুরি ঘুম না হওয়ার কারনে আজিজুল ও হৃদয় পারভেজ কে নিয়ে অনেকক্ষণ নদীর পাড়ে একটি টং ঘরে গল্প গুজব করে। কিন্তু পারভেজ ততক্ষন না ঘুমানোর কারনে আজিজুল মুন্সী হৃদয় মাদব্বরকে ভ্যান থেকে রশি নিয়ে আসতে বলে, হৃদয় রশি নিয়ে সামনে আসলে পারভেজ তা দেখে ফেলে।
তখন আজিজুল মুন্সী ও হৃদয় একটু দুরে গিয়ে আলোচনা করে পারভেজ তো রশি দেখে ফেলেছে ওকে মেরে ফেলতে হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী আজিজুল মুন্সী ও হৃদয় পারভেজের কাছে আসে আর আজিজুল পারভেজ এর কাধে ঝুলানো গামছা দিয়ে পারভেজ এর মুখ চেপে ধরে এর সাথে সাথে হৃদয়ও তার হাতে থাকা রশি দিয়ে পারভেজ এর গলায় পেচ লাগায়। রশির দুই মাথা ধরে দুইজন দুই দিক হইতে টান দেয় তখন পারভেজ শুয়ে পড়ার সাথে সাথেই আজিজুল ও হৃদয় পারভেজ এর বুকে পা দিয়ে পাড়া দেয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই পারভেজ নিস্তেজ হয়ে যায়।
আজিজুল মুন্সী ও হৃদয় পারভেজ এর মৃত নিশ্চিত হওয়ার পর পারভেজ এর গলায় প্যাচানো রশি টেনে ফাকা জায়গা থেকে ধান ক্ষেতে নিয়ে যায় এবং সেখানে পারভেজ এর লাশ লুকিয়ে রেখে তারা পারভেজ এর ভ্যানটি নিয়ে শিবচর বন্দরখোলা হয়ে ঐ রাত অনুমান ০৪.৩০ মিনিটের সময় ভাংগা স্ট্যান্ডে যায় এবং সকাল অনুমান ০৭.৩০ ঘটিকার সময় ভাংগা স্ট্যান্ডের দোকানদার আব্দুল এর দোকানের সামনে দাড়ায় সেখানে ভ্যানগাড়িটি বিক্রয় করার জন্য।
তখন ফজলুল হক আর আব্দুল দামাদামি করে ১০১০০/-টাকা বিনিময় ফজলুল হক আজিজুল ও হৃদয়ের নিকট হতে ভ্যানটি ক্রয় করে কিনে নিয়ে যায়। আজিজুল ও হৃদয় ভ্যান বিক্রয়ের টাকা নিয়ে শিবচর চলে যায়।
ভাঙ্গা থানা পুলিশ উন্নত তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহার করে গত ইং ২৮/১০/২০২১ তারিখ গভীর রাতে এসআই/আবুল কালাম আজাদ ও এসআই/জুয়েল মিয়ার নেতৃত্বে শিবচর থানার সন্ন্যাসীর চর শরিফকান্দি এলাকায় অভিযান চালিয়ে আজিজুল মুন্সীকে গ্রেফতার করেন। গ্রেফতাকৃত আসামী আজিজুল কে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে ঘটনার বিষয় স্বীকার করে এবং ঘটনার সাথে জড়িত হৃদয়ের নাম প্রকাশ করে। আসামী আজিজুল এর তথ্য মতে পুনরায় শরিফকান্দি অভিযান পরিচালনা করে হৃদয়কে আটক করেন। আসামী হৃদয়কে ব্যা জিজ্ঞাসাবাদ করলে সেও ঘটনার বিষয় স্বীকার করে।
গ্রেফতারকৃত আসামী আজিজুল ও হৃদয় আরো জানায় যে, পারভেজ এর ভ্যানটি তারা ভাংগা স্ট্যান্ডের দোকানদার ফজলুল হক ও আব্দুল এর কাছে বিক্রয় করেছে।
আসামীদ্বয়ের তথ্য মতে, এসআই আবুল কালাম আজাদ ও এসআই জুয়েল মিয়া ঐ রাতেই গ্রেফতারকৃত আসামী আজিজুল ও হৃদয়কে নিয়ে ভাংগা থানার কাপুড়িয়া সদরদী ও ছিলাধরচর সদরদী গ্রাম হতে আসামী আব্দুল ও ফজলুল হককে গ্রেফতার করেন।
এবং ফজলুল হকের ভ্যান গ্যারেজ থেকে পরভেজের ভ্যানগাড়ী উদ্ধার করেন।

