ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ কমপ্লেক্স এ দীর্ঘ ১১ বছর পরে বিনামূল্যে সিজার অপারেশন চালু

ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘ ১১ বছর পরে চালু হলো বিনামূল্যে সিজার অপারেশন। এতে চিকিৎসা সেবায় এক যুগান্তরকারী পরিবর্তন ঘটেছে।

হাসপাতাল ও উপজেলার দরিদ্র মানুষসহ সকলের মাঝে সরকারী হাসপাতালে বিনামূল্যে সু চিকিৎসা পাওয়ার যে আসা বা উন্নত চিকিৎসার প্রতি যে আকাঙ্খা বা আস্থা তা আবার নতুন করে ফিরে এসেছে ।

ভাঙ্গা উপজেলার সর্ব স্তরের জনগণের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল ভাঙ্গায় সু চিকিৎসক দ্বারা  সিজার অপারেশন পরিচালনা করা।ভাঙ্গা উপজেলার জনগণের দাবি ও সু চিকিৎসা পরিচালনার জন্য,

ভাঙ্গা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মোহসিন উদ্দিন আপ্রাণ প্রচেষ্টা করেন।তারই ধারাবাহিকতায় দীর্ঘদিন যাবত বন্ধ থাকা বিনামূল্যে সিজার অপারেশন আবারও চালু হয়েছে।

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মেডিকেল অফিসার ডা. এম এম মঈনুদ্দিন সেতু বলেন, আমাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আগে তেমন কোন যন্ত্রপাতি ছিল না, সিজার ও অপারেশন বন্ধ ছিল। দীর্ঘ ১১ বছর পর চালু হলো বিনামূল্যে সিজার অপারেশন।

এই সিজার অপারেশনের নেতৃত্ব আছেন – উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোঃ মহাসিন উদ্দিন, সহকারী সার্জন ডা. মো. আসাদুজ্জামান, এনেস্থেটিস্ট ডা. গোপাল দেব, মেডিকেল অফিসার ডা. এম এম মঈনুদ্দিন সেতু ,গাইনী ডা. সারমিন, ডা.শান্তা সহ আরো কয়েকজন অভিজ্ঞ চিকিৎসক।

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মোহসিন উদ্দিন বলেন, নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা থাকা স্বত্বেও গত ১ সপ্তাহ ধরে আমরা সিজার অপারেশন ব্যবস্থা চালু করেছি।গত এক সপ্তাহ যাবৎ প্রতিদিনই  সিজার করা হচ্ছে । প্রত্যেক রোগীর সতভাগ সফল সিজার হওয়ায় মাও শিশু উভয়ই  সম্পন্ন  সুস্থ  হয়ে বাড়ি যাচ্ছেন। এতে করে রুগী ও রুগীর পরিবারের লোকজন ও অনেক খুশি।

বিগত দিনে ভাঙ্গায় অন-অভিজ্ঞ ডাক্টার দ্বারা পরিচালিত বেসরকারী কিছু হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের চিকিৎসা নিতে আসা  সাধারণ জনগন ও দ্ররিদ্র পরিবারকে চিকিৎসার নামে  জিম্মি থাকতে হতো আবার ভুল চিকিৎসার জন্য  অনেক  মা ও বাচ্চার জীবন ও দিতে হয়েছে । এখন থেকে  ভাঙ্গা  উপজেলা স্বাস্থ কমপ্লেক্সে বিনামূল্যে সিজার অপারেশন সহ সকল রোগের সু চিকিৎসার মাধ্যমে ভাঙ্গা উপজেলার দ্ররিদ্র সাধারণ জনগনকে   সঠিক চিকিৎসা সেবা দিতে পারব ইনশাআল্লাহ।

ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ কমপ্লেক্স বর্তমানে ১৩ জন অভিজ্ঞ ডাক্টার রয়েছেন। তার মধ্যে
মেডিসিন বিশেষজ্ঞ, সার্জারি,অর্থোপেডিকস,নারী ও শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ,গাইনী, চোখ, ও নাক,কান,গলার বিশেষজ্ঞ ডক্টর রয়েছেন।

হাসপাতাল সংস্কার ও নতুন ভবন নির্মাণাধীন থাকায় হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা  রুগীদের সাময়িক বেড সংকট এবং  এক্সরে,ইসিজি আরও কিছু   পরীক্ষার জন্য যে ভোগান্তি হচ্ছে এই সংকট অল্প কিছু দিনের মধ্যে সমাধান হয়ে যাবে।