ষ্টাফ রিপোর্টার: উপজেলার আজিমনগর ইউনিয়নের ঘোষগ্রামের শিশু শিহাব (৫) হত্যা ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন শিহাবের মা মোসা: সেতারা বেগম (২৮) এবং শিহাবের মামা ও হত্যা মামলার বাদি মো: জাহাঙ্গীর মুন্সি (৪৬)।
নিহত শিহাবের মামা জাহাঙ্গীর মুন্সি জানায়, প্রায় ১০ বছর আগে আমার বোন সেতারা বেগমকে ঘোষগ্রামের কাঞ্চন হাওলাদারের পুত্র মো: মনির হাওলাদার (৩৪) এর সাথে বিবাহ দেই। তাদের যথাক্রমে সিয়াম হাওলাদার (৮), শিহাব হাওলাদার (৫) এবং সৌরভ হাওলাদার (৩ মাস) নামে ৩টি পুত্র সন্তান রয়েছে। ভগ্নিপতি মনির হাওলাদার একজন মাদকসেবী এবং সে মোসা: রাসনা বেগম (২৪) নামের একটি মেয়ের সাথে পরকীয়া প্রেম করতো। হত্যা ঘটনার প্রায় ২ মাস পূর্বে মনির বিভিন্ন অজুহাতে আমার বোনকে মারপিট করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়ে রাসনা বেগমকে বিয়ে করে। সেসময় সিয়াম ও শিহাবকে মনির জোর করে তাদের বাড়িতে রেখে দেয়। আমরা বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পেরেছি যে, রাসনা বেগম (সৎ মা) প্রায় সময় সিয়াম ও শিহাবকে মারধোর করতো।
তিনি আরও জানান, গত ১৩/০৬/২০১৯ রাত্রি অনুমান ১০:৩০ ঘটিকা হইতে ইং ১৪/০৬/২০১৯ তারিখ রাত্রি অনুমান ০৪:১৫ ঘটিকার পূর্বে যে কোন সময়ে পূর্বপরিকল্পিতভাবে আমার ভাগ্নে শিহাব (৫) কে ভগ্নিপতি মনির ও তার ২য় স্ত্রী রাসনা বেগম শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। আমরা এই নৃশংস হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।
হত্যাকান্ডের পরই শিশু শিহাবের মামা জাহাঙ্গীর মুন্সি (৪৬) ভগ্নিপতি মনির ও মনিরের ২য় স্ত্রী রাসনা বেগমকে অভিযুক্ত করে ভাঙ্গা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ভাঙ্গা থানার মামলা নাম্বার- ১৯, তারিখ-১৫/০৬/২০১৯ ইং ধারা- ৩০২/৩৪ পেনাল কোড।
মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা ও ভাঙ্গা থানার সেকেন্ড অফিসার সাব-ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) মো: আবুল হোসেন খান বলেন, আমরা ইতিমধ্যে হত্যার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে মনিরের ২য় স্ত্রী রাসনা বেগম ও মো: মনির হাওলাদারকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছি। সুরতহাল রিপোর্ট অনুযায়ি শিশু শিহাবকে শ্বাসরোধ করে হত্যার প্রাথমিক আলামত পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে অধিকতর তদন্ত চলছে।
এদিকে শিশু শিহাব হত্যা ঘটনায় ঐ এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এলাকাবাসি হত্যা ঘটনায় বিচারের দাবিতে এখন সোচ্চার।

