ভাঙ্গায় রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল বন্ধের সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সিপিবি’র সমাবেশ

ভাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধিঃ রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল বন্ধের সরকারি সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি সহ রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল ও পাট চাষে আধুনিকায়নের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি ও প্রগতিশীল গণসংগঠন ভাঙ্গা উপজেলা কমিটি। শনিবার (১১ জুলাই) ভাঙ্গা বাজার সংলগ্ন হাইওয়ের সামনে এক সমাবেশে এ দাবি জানানো হয়।

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি ভাঙ্গা উপজেলার নেতা আতাউর রহমান কালুর সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান কৃষক নেতা সুধীন সরকার মঙ্গল, কমরেড লিয়াকত মোল্লা, আবুল কালাম, প্রভাষক কুমার, সুভাষ মন্ডল, আবু বক্কর, ফকির কামরুজ্জামান প্রমুখ।

সমাবেশে নেতারা বলেন, ‘করোনা সংক্রমণের এই দুর্যোগকালে এমনিতেই প্রাতিষ্ঠানিক-অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের বিপুল সংখ্যক শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছে। বিদেশ থেকেও অনেক শ্রমিক কাজ হারিয়ে দেশে ফিরছে। এমন সংকটকালে বাংলাদেশে ক্ষমতাসীন কথিত মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সরকার মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী পদক্ষেপ নিয়ে ২৫টি রাষ্ট্রীয় পাটকল বন্ধের গণবিরোধী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলে প্রায় ৫৫-৬০ হাজার শ্রমিক কাজ হারাবে। তাদের পরিবার এবং ৪০ লাখ পাট চাষী ও তাদের পরিবার, পাট ব্যবসায়ি মিলে মোট সাড়ে ৩ কোটি মানুষ চরম বিপাকে পড়বে।’

নেতারা বলেন, ‘বলা হচ্ছে পাটকল লোকসান দিচ্ছে। দেশবাসীর প্রশ্ন লোকসানের জন্য দায়ী কে? সরকারের দুর্নীতি, লুটপাট, ভুলনীতি ও মাথাভারী-অদক্ষ প্রশাসন লোকসানের জন্য দায়ী- শ্রমিকরা নয়। কারণ, মৌসুমে জুলাই-আগস্ট মাসে পাটের দাম যখন ১০০০-১২০০ টাকা থাকে তখন পাট না কিনে সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে যখন পাটের দাম ২০০০-২২০০ টাকা হয় তখন পাট কেনা এবং চাহিদার চেয়ে কম পাট কেনা হয়। বিদেশে বাজার খোঁজা, পণ্যের বহুমুখীকরণ এসবই মন্ত্রণালয় ও বিজেএমসিসহ প্রশাসনের কাজ। ফলে লোকসানের দায় কোনোভাবেই শ্রমিকেরা নেবে না।’

তারা বলেন, ‘দেশের রাষ্ট্রীয় পাটকলগুলো পাকিস্তান আমলে ১৯৫১-৫৪ সালে প্রতিষ্ঠিত। ফলে দীর্ঘ দিনের পুরনো যন্ত্রপাতির কারণে উৎপাদন ১৮ থেকে অর্ধেকে নেমে এসে ৯ টনে দাঁড়িয়েছে। বর্তমান বিশ্বে আধুনিক মেশিন দিয়ে ৩৬ টন পর্যন্ত উৎপাদন করা যায়। ফলে পুরনো যন্ত্রপাতি বদলে পাটকলের আধুনিকায়ন না করাও লোকসানের অন্যতম কারণ।’

সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয় যে, বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশনের (বিজেএমসি) অধীন পাটকলগুলো বন্ধের পরিকল্পনা করছে সরকার। সেক্ষেত্রে পরবর্তী সময়ে সরকারি ও বেসরকারি অংশীদারির (পিপিপি) ভিত্তিতে পুনরায় চালু করা হবে পাটকলগুলো। ক্রমাগত লোকসানের বোঝা থেকে মুক্ত হতে এ পরিকল্পনা করছে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়।