
মোঃ রমজান সিকদার,
ভাঙ্গা (ফরিদপুর) সংবাদদাতা-২৩/১০/২০২৫
ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার মানিকদহ ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামে অবস্থিত ১২০ নং শেখ রাশেদুল ইসলাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কোনো শিক্ষার্থী উপস্থিত না থাকলেও শিক্ষকরা নিয়মিত হাজিরা দিচ্ছেন। বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ে দুইজন শিক্ষক উপস্থিত থাকলেও একটিও শিক্ষার্থী নেই।
সরেজমিনে দেখা যায়, ক্লাসরুমের সব বেঞ্চ ফাঁকা পড়ে ছিল, দুইজন শিক্ষক নিজ নিজ কক্ষে বসে ছিলেন। গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতি টের পেয়ে একজন সহকারী শিক্ষক প্রধান শিক্ষকের কক্ষে বসে হাজিরা খাতায় শিক্ষার্থীদের উপস্থিত হিসেবে দাগ দিচ্ছিলেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামরুল হাসান বলেন, আমি একদিনের প্রশিক্ষণে আছি। বিদ্যালয়ে মোট পাঁচজন শিক্ষক কর্মরত আছেন, তাদের মধ্যে তিনজনের উপস্থিত থাকার কথা। তবে আজ শিক্ষার্থীরা এসেছে কিনা আমি বলতে পারি না। আমাদের স্কুলটি দুর্গম এলাকায় অবস্থিত, পাশাপাশি আশপাশে আরও তিনটি বিদ্যালয় থাকায় শিক্ষার্থী সংখ্যা খুবই কম।
সহকারী শিক্ষক মজিবুর রহমান বলেন, বিদ্যালয়টি ২০১৭ সালে নির্মিত এবং ২০১৯ সালে চালু হয়। বর্তমানে ৬টি শ্রেণিতে মোট ৬০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। আজ ২২ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল। কিন্তু ইত্তেফাক সংবাদদাতার প্রশ্নের জবাবের ঐ শিক্ষক একজন ছাত্র-ছাত্রী উপস্থিত দেখাতে পারেন নাই। প্রধান শিক্ষকের রুমে বসে তিনি ছাত্র-ছাত্রীদের উপস্থিত তিনি হাজিরা খাতায় উপস্থিত দেখান।
স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা নিয়মিত স্কুলে আসেন না, আর এলেও ক্লাস নেন না। ফলে শিক্ষার্থীরা পাশের গ্রামের অন্য স্কুলে চলে যাচ্ছে। এখানে ভালো শিক্ষক দিলে আবার শিক্ষার্থীরা ফিরবে।
এবিষয় ভাঙ্গা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এর আগে আমি সরেজমিনের পরিদর্শন করে চারজন শিক্ষক ও পাঁচজন ছাত্র-ছাত্রী উপস্থিত দেখতে পাই। তারপর ছাত্র-ছাত্রী উপস্থিত করার জন্য শিক্ষকদের চাপ প্রয়োগ করেছি কিন্তু তারা পরিবর্তন হন নাই। আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
এ ব্যাপারে ভাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বলেন, ঘটনাটি খুবই দুঃখ জনক। আমি ঘটনা আপনাদের মাধ্যমে জানতে পারলাম বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিব।

