বিএনপি ক্ষমতায় এলে ফরিদপুর বিভাগ ও পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি তারেক রহমানের


মোঃ রমজান সিকদার
ভাঙ্গা প্রতিনিধি-০৪/০২/২০২৬
কৃষকদের সুবিধায় ও কৃষির উন্নয়নে বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চলে পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন- ‘এই অঞ্চলে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ আছে যে কাজ করলে কৃষক ভাইরা সুবিধা পাবে। সেটি হচ্ছে পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণ করা। এই সমগ্র অঞ্চল ঘিরে আমরা পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণ করতে চাই। যাতে করে ক্রাইসিস এলে বা শুকনা মৌসুমে এই এলাকার মানুষের পানির কষ্ট না থাকে, চাষাবাদের কষ্ট না থাকে। এই পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণকাজে আমরা হাত দিতে চাই।’

আজ বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকাল তিনটায় ফরিদপুর শহরের সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে ফরিদপুর বিভাগীয় নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যকালে তিনি এসব বলেন। এর আগে দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জনসভা শুরু হয় এবং দুপুর পৌনে তিনটায় জনসভায় যোগ দেন তারেক রহমান।

এ জনসভায় বক্তব্যের শুরুতে তিনি ফরিদপুর বিভাগ বাস্তবায়নের দাবি পূরণের ব্যাপারে কাজ করার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘১২ তারিখে জয়যুক্ত হয়ে বিএনপি সরকার গঠন করলে- বিভাগ গঠন করলে যদি এলাকার মানুষের উপকার হয়, মানুষের সমস্যার সমাধান হয় তাহলে জনগণের সেই দাবি মেনে নেব।’

এসময় তিনি বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। এরমধ্যে প্রাধান্য দেন পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের। এছাড়া পদ্মা নদীর ভাঙন প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। তারেক রহমান বলেন, ‘এই এলাকার অন্যতম একটি সমস্যা হচ্ছে নদী ভাঙন। আমরা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি, যে কিভাবে নদী ভাঙনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। যাতে করে এই এলাকার মানুষের জমিজমা রক্ষা করতে পারে। কারন, বৃহত্তর ফরিদপুর কৃষি প্রভাব একটি এলাকা। এই এলাকায় পাট শিল্প আছে, যে পাট শিল্পকে যদি আমরা সহযোগিতা করতে পারি- একদিকে যেমন কৃষক সুবিধা পাবে এবং দেশকেও সামনে নিয়ে যেতে পারব। পাট রপ্তানির মাধ্যমে আমরা বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারব। এই চরাঞ্চলে ভুট্টাচাষীদের পাশে আমরা দাড়িয়ে সহযোগিতা করতে চাই।

এছাড়া কৃষি ও শিল্পকে গড়ে তুলে মানুষের কর্মসংস্থানের সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বলেন, ‘জনগণের যদি সমর্থন থাকে তাহলে ইনশাল্লাহ যেকোনো বড় কাজ করা সম্ভব হবে। ধানের শীর্ষ যদি বিজয়ী হয় ইনশাল্লাহ পর্যায়ক্রমে যে প্রতিশ্রুতিগুলো এবং আপনাদের দাবি যে উপস্থাপন করেছেন সেসব বাস্তবায়নে হাত দিতে পারব।’

বক্তব্যকালে তারেক রহমান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে গুপ্ত দল আখ্যায়িত করে এবং নারী বিদ্বেষী প্রসঙ্গ তুলে ধরে মন্তব্য করেন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দলটির উদ্দেশ্যে তিনি বলেন- ‘এখনও ষড়যন্ত্র হচ্ছে। যারা এই ষড়যন্ত্র করছে তাদেরকে জনগণ একটি নামে ডেকে থাকে। জনগণ তাদেরকে গুপ্ত নামে ডাকে। কারন, জনগণ দেখেছে- যখনই সময় হয় এদিক তখন এক রুপ আবার সময় হয় ওদিক তখন আরেক রুপ। বিভিন্ন পরিস্থিতিতে তাঁরা রুপের পরিবর্তন করে। এরা যে শুধু রুপের পরিবর্তন করে তা-না, এরা জনগণকে অপমানিত করে। জনগণের প্রতি তাঁদের এখনও মোটেও আস্থা নেই।’

দলটির প্রধান নেতার উদ্দেশ্যে তারেক রহমান বলেন, ‘এই যে গুপ্তের দল তাদের দলীয় প্রধান নেতা আছে সে একটি অত্যন্ত আপত্তিকর কথা বলেছে বাংলাদেশের খেটে খাওয়া মা-বোনদের নিয়ে। যে রাজনৈতিক দল, যে রাজনৈতিক নেতা চিন্তা বা আদর্শ হয়ে থাকে তাঁর দেশের খেটে খাওয়া মা-বোনদের সম্পর্কে অনৈতিক হয়ে থাকে তাদের কাছ থেকে কি ভাল কিছু আশা করতে পারি। তাঁদের কাছ থেকে ভাল কিছু আশা করে যাবে না। এটির প্রমাণ আমরা ১৯৭১ সালেও দেখেছি। ১৯৭১ সালে বিতর্কিত ভূমিকার জন্য বাংলাদেশের লক্ষ লক্ষ নারী লক্ষ লক্ষ মা-বোন তাঁদের সম্মানহানি হয়েছে। কাজেই এদের কাছ থেকে সতর্ক থাকতে হবে, জনগণকে সতর্ক রাখতে হবে।’

দলটির এক নেতার বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, ‘তাদের দলের এক নেতা বলে থাকে, ১২ তারিখ পর্যন্ত জনগণের পা ধরে রাখবে, ১৩ তারিখ থেকে জনগণ বলে তাঁদের পা ধরবে। তাহলে এবার বুঝেন, তাঁদের চিন্তা চেতনা কেমন ধরনের। অর্থাৎ জনগণকে তারা ১২ তারিখ পর্যন্ত দেখে রাখবে, ১৩ তারিখের পর থেকে তাঁরা এমন পরিস্থিতি তৈরি করতে চায় যেখানে জনগণের নাভিশ্বাস উঠে থাকবে। অর্থাৎ জনগণের প্রতি তাঁদের আস্থা বা বিশ্বাস নাই, জনগণের শক্তিকে তাঁরা বিশ্বাসই করে না।

তিনি আরও বলেন, তাঁরা বাংলাদেশের মানুষের সাথে অনৈতিক আচরণ করছে। অন্যদিকে তারা বলে সৎ মানুষের শাসন দিবে। আরে ভাই, আপনারা রাজনৈতিক কার্যক্রম শুরু করেছেন অনৈতিক বিষয় দিয়ে, যেখানে আপনি অনৈতিক কাজ শুরু করেছেন, সেখানে আপনি কি করে আশা করেন জনগণ কি করে আশা করবে আপনারা সৎ মানুষের শাসন দিবেন। নিজেরাইতো অসৎ কাজ করে বেড়াচ্ছেন।

এ সভায় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ মোদারেরছ আলী ইছার সভাপতিত্ব করেন। এ সময় বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চলের পাঁচ জেলার ১৫টি সংসদীয় আসনের মনোনীত প্রার্থীদের পক্ষে ধানের শীষে ভোট চান তারেক রহমান। এতে পাঁচটি জেলার কর্মী সমর্থকেরা অংশগ্রহণ করেন।