
মোঃ রমজান সিকদার,
ভাঙ্গা(ফরিদপুর) সংবাদদাতা-০৪/০৫/২০২৬
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় এক কিশোরীর শ্লীলতাহানির ঘটনা ধামাচাপা দিতে অভিযুক্ত প্রতিবেশীর কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেছেন স্থানীয় শালিসবর্গ। ওই কিশোরীর পরিবারের অভিযোগ- শালিসের রায় না মানলে ভুক্তভোগী ও তার পরিবারকে গ্রাম ছাড়া করার হুমকি দেন শালিসবর্গ। তাদের ভয়ে পুলিশের কাছেও যেতে পারেন নি ভুক্তভোগী পরিবারটি।
গতকাল রবিবার (৩ এপ্রিল) রাত ৯ টার দিকে ভাঙ্গা উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নের মুনসুরাবাদ গুচ্ছ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এর দুই সপ্তাহ আগে ওই কিশোরীকে ঘরে একা পেয়ে তার প্রতিবেশী গ্যারেজ মিস্ত্রী দেলোয়ার মিয়া জোরপূর্বক কিশোরীর শ্লীলতাহানি ঘটায়। পরে ঐ কিশোরীর আত্যচিৎকারে শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসলে ঘর থেকে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত দেলোয়ার মিয়া।
ভুক্তভোগী কিশোরী ওই গুচ্ছ গ্রামের বাসিন্দা ভ্যানচালক (সুমন মিয়ার) মেয়ে।
স্থানীয়রা জানায়, গতকাল (৩ মে) রাত ৯টার দিকে এ ঘটনায় অভিযুক্ত গ্যারেজ মিস্ত্রী দেলোয়ার মিয়া (৬৫) কে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন স্থানীয় মাতুব্বরগন ও মুনসুরাবাদ গুচ্ছ গ্রামের দায়িত্বরত মাতুব্বরগন। এ রায় শুনে ভুক্তভোগী সহ স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। যা মুহুর্তেই ছড়িয়ে পড়ে গুচ্ছ গ্রামসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামে।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী কিশোরী জানায়, ‘আমরা বাবা, দাদী সহ আমার পরিবারের লোকজন গুচ্ছ গ্রামের একটি ঘরে বসবাস করি’। ‘আমাদের লোকসংখ্যা বেশি বিধায়, আমার সম্পর্কে দাদা দেলোয়ার মিয়ার সরকারি ঘরে আশ্রয় নেই আমরা’। ‘আমার বাবা দেলোয়ারের নিকট থেকে একটি ভ্যান গাড়ী ভাড়ায় চালিয়ে সংসার চালায়’। ‘এর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে মা অসুস্থ নানী বাড়িকে থাকে’। ‘আমি গুচ্ছ গ্রামে বাবাকে নিয়ে ঐ ঘরে একা থাকি’। ‘এই সুযোগে রাতে দেলোয়ার প্রায়ই আমার ঘরে ঢুকে কু-প্রস্তাব দেয়’। ‘আমার সাথে খারাপ কাজ করতে জোড়াজুড়ি করে এবং আমাকে প্রলোভন দেখায়’। ‘আমি তার কথা না শুনলে, আমার বাবাকে ভ্যান গাড়ি ভাড়া দিবেন না বলেও একাধিকবার হুমকি দিয়েছে’।
ওই কিশোরী জানায়, ‘পরবর্তীতে ঘটনার দিন গত ২৫ এপ্রিল রাত আনুমানিক দশটার দিকে দেলোয়ার তার ঘরে ঢুকে তাকে জোর পুর্বক জামা কাপড় খুলে খারাপ কাজ করার চেষ্টা করে’। ‘পরে তার চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে আমাকে উদ্ধার করে’।
ভুক্তভোগীর দাদি বলেন, আমাদের নাতীর ভবিষ্যৎ নিয়ে বিষন্নতায় ভুগছি। কিভাবে তার বিয়ে দিবো এই নিয়ে নানান শঙ্কায় আছি।
কিশোরীর চাচা জানান, গতকাল রবিবার (৩ মে) রাত নয়টার দিকে আমাদেরকে ডেকে নেয় স্থানীয় মাতুব্বরগন। পরে একটি স্টাম্পে সাক্ষর নিয়ে ১০ হাজার টাকা ধরিয়ে দেয়। এবং আরো দশ হাজার টাকা পরে দিবে বলে জানায়। তখন তাকে বলা হয়- মাদবরদের বিচার না মানলে এবং বাড়াবাড়ি করলে এলাকা ছাড়া হতে হবে বলেও হুমকি দেন স্থানীয় মাতুব্বরগন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত দেলোয়ার বলেন, আমাকে ফাঁসানো হয়েছে, আমি ষড়যন্ত্রের শিকার। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।
ভাঙ্গা থানার ওসি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় ভাঙ্গা থানায় কেউ অভিযোগ দিতে আসেন নাই। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

