ভাঙ্গায় কিশোরীর শ্লীলতাহানি ঘটনায় মামলা। গভীর রাতে আসামী পক্ষের হামলায় কিশোরী সহ আহত -৫


মোঃ রমজান সিকদার
ভাঙ্গা (ফরিদপুর) সংবাদদাতা-০৭/০৫/২০২৬

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নের মুনসুরাবাদ গুচ্ছ গ্ৰামে কিশোরীকে শ্লীলতাহানির ঘটনায় থানায় মামলার পর বুধবার (৭ মে) দিবাগত গভীর রাতে আসামি পক্ষর হামলার কিশোরী সহ পরিবারের ৫ জন গুরুতর আহত হন। রাতভর গ্ৰামবাসি গুচ্ছ গ্ৰামে শ্লীলতাহানির শিকার ঐ কিশোরীর ঘর অবরুদ্ধ করে রাখে। পরবর্তীতে ভাঙ্গা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এসময় রক্তাক্ত অবস্থায় আহতদের উদ্ধার করে ভাঙ্গা হাসপাতালে ভর্তি করে। ঘটনার পর গুচ্ছ গ্ৰাম সহ মুনসুরাবাদ গ্ৰামে লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, মুনসুরাবাদ গ্ৰামে গত ২৫ এপ্রিল গুচ্ছ গ্ৰামের ঘরে এক কিশোরীর শ্লীলতাহানি করে গ্যারেজ মিস্ত্রী দেলোয়ার হোসেন। সেসময় ঘটনা ধামাচাপা দিতে প্রতিবেশীরা শালিস বৈঠক করে অভিযুক্ত গ্যারেজ মিস্ত্রী দেলোয়ার হোসেনের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করে দেয় ঐ কিশোরীকে। কিশোরীর পরিবার শালিসি সিদ্ধান্ত না মেনে ২ দিন পর থানার একটি মামলা দায়ের করে। পুলিশ মামলার আসামি দেলোয়ার হোসেনকে আটক করে। এঘটনার জেরে বুধবার দিবাগত রাতে গ্ৰামবাসি মিলে ঐ কিশোরীর পরিবারের উপর হামলা চালিয়ে ঘরে অবরুদ্ধ করে রাখে। আমরা খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে তাদের উদ্ধার করে ভাঙ্গা হাসপাতালে ভর্তি করি। পাশাপাশি ঐ কিশোরীকে সেফ হোমে রাখি। বর্তমান এলাকার পরিবেশ পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
ঐ কিশোরীর পিতা সুমন মিয়া জানান, সরকার গুচ্ছ গ্ৰামে আমাদের একটি ঘর দিয়েছে। সেখানে আমার মা, ভাই, ভাবী আমার স্ত্রী ও ছেলে মেয়ে নিয়ে থাকি। গত ০৩ এপ্রিল গুচ্ছ গ্ৰামে এক শালিস বৈঠকে আমার মেয়ের ইজ্জতের মূল্য ২০ হাজার টাকা ধার্য করেন এলাকার মাতুব্বর গন। আমি তা না মেনে থানায় মামলা করি। এরপর আসামি গ্ৰেফতার হলে আজ বুধবার গভীর রাতে গুচ্ছ গ্ৰামের সভাপতির নেতৃত্বে অনেক লোক আমাদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। আমি আমার মা ও ভাই ভাবী এবং আমার কিশোরী মেয়েকে বেদম মারধর করে। পরবর্তীতে পুলিশ এসে আমাদের উদ্ধার করে।
উল্লেখ্য,গত ২৫ এপ্রিল রাত আনুমানিক দশটার দিকে গ্যারেজ মিস্ত্রী দেলোয়ার তার ঘরে ঢুকে তাকে জোর পুর্বক জামা কাপড় খুলে খারাপ কাজ করার চেষ্টা করে’। ‘পরে তার চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে কিশোরীকে উদ্ধার করে’। এরপর গুচ্ছ গ্ৰামের সভাপতি ও এলাকায় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত হয়ে একটি শালিস বৈঠক হয়।