
মোঃ রমজান সিকদার ভাঙ্গা(ফরিদপুর)প্রতিনিধি-০৬/০৫/২০২৬
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ইতালি পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে সরকারি কেএম কলেজ ছাত্র সবুজ মাতুব্বর নামের এক যুবককে লিবিয়ায় পাচার করে ২৪ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এঘটনায় ভুক্তভোগী সবুজ মাতুব্বরের পিতা লুৎফর মাতুব্বর বাদি হয়ে ভাঙ্গা থানায় চারজনকে আসামি করে একটি অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযুক্তরা হলেন, মানবপাচারকারী চক্রের প্রধান আসামি তাহিদ মাতুব্বর (৩৫), তার মা কহিনুর বেগম তার ভাই সহিদ মাতুব্বর ও বোন লিতা বেগম।
এদের সবার বাড়ি ভাঙ্গা উপজেলার চান্দ্রা ইউনিয়নের দীঘলকান্দা গ্রামে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভাঙ্গা উপজেলার দীঘলকান্দা গ্রামের লুৎফর মাতুব্বরের পুত্র সবুজ মাতুব্বরকে বৈধভাবে ইতালি পাঠানোর জন্য একই গ্রামের তাহিদ মাতুব্বর নামের এক
দালালের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। অভিযুক্তরা ইতালি পাঠানোর কথা বলে প্রথমে ১৯ লাখ টাকা নগদ বুঝিয়ে নিয়ে গত ০২/০৭/২৫ তারিখে সবুজকে লিবিয়ায় নিয়ে আটকে রেখে নির্যাতন করে।
এরপর আরো ৫ মাস আটকে রেখে গত ৫/১২/২৫ তারিখে লিবিয়া পুলিশের হাতে ধরা পড়ে সবুজকে বাংলাদেশ পাঠিয়ে দেয়।
অভিযোগ অনুযায়ী আরো জানা যায় , লিবিয়ায় অবস্থানরত মূল দালাল তাহিদ মাতুব্বরের (৩০) নির্দেশে তার মা কহিনুর বেগম ও তার ভাই সহিদ মাতুব্বর তার বোন লিতা বেগমের সহযোগীতায় বাংলাদেশে বসে অর্থ সংগ্রহ ও বিদেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করেন।
ভুক্তভোগী লুৎফর মাতুব্বর বলেন, গত ২০২৫ সালের জুলাই মাসে প্রথম দফায় ১৯ লাখ টাকা পরিশোধ করার পর আমার ছেলেকে ইটালি রওনা দেয়। এরপর আমার ছেলেকে লিবিয়ায় ৫ মাস আটকে রেখে নির্যাতন করে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে আমার ছেলে সবুজকে পুলিশের হাতে ধরা পড়ে বাংলাদেশে চলে আসে।
এরপর ২৪ লাখ টাকা নিয়েও আমার ছেলেকে পুনরায় ইটালি পাঠানোর জন্য আরও ২০ লাখ টাকা দাবি করে। ছেলে ফেরত আশায় এবং ধার দেনা কর্জ করে ২৪ লাখ টাকা দালালের কাছে দিয়েছি। আমি এখন ওই টাকা ফেরত চাই। বর্তমানে আমি সর্বশান্ত হয়ে পড়েছি। তাই আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
এছাড়া আমি এঘটনা সঠিক বিচার দাবি করছি।
এ বিষয়ে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, বিদেশ সংক্রান্ত বিষয় একটি অভিযোগ পেয়েছি।
তদন্ত অপূর্ব দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

