
স্টাফ রিপোর্টার- ২৯/০৪/২০২৬
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় সরকারি ঘর ও জায়গা দখল করে ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে বিল্লাল মাতুব্বর ও তার আপন ভাই সিংগাপুর প্রবাসী মাইনুদ্দিন মাতুব্বরের বিরুদ্ধে। উপজেলার ঘারুয়া ইউনিয়নের ঘারুয়া গ্রামের ঘটনা।
স্থানীয় ভূমি সুত্রে জানায়, ৮৬ নং ঘারুয়া মৌজার, বিএস ২২৩ নং খতিয়ানের দাগ নং ৭,৮ এর ১২ শতাংশ জমির মধ্যে ২ শতাংশ জমি যা সরকার বাহাদুরের নামে দলিলকৃত হয়। বিপরীতে আশ্রয়ন প্রকল্প ২ এর অধিনে, ‘জমি আছে ঘর নেই’ প্রকল্পের বরাদ্দ অনুযায়ী ২ শতাংশ জমি ও একটি সেমি পাকা ঘর সরকার উত্তলোন করে দেয় হতদরিদ্র বিল্লাল মাতুব্বরকে। সম্প্রতি, সরকারের সেই ২ শতাংশ জমি ও সেমি পাকা ঘর ভেঙ্গে ফেলে সেখানে পাকা ভবন নির্মাণ কাজ শুরু করেন বিল্লাল মাতুব্বর ও তার আপন ভাই মাইনুদ্দিন মাতুব্বর গং। পরবর্তীতে সেই কাজ বন্ধে ঘারুয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কর্মকর্তাগন সরেজমিনে গেলে তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন বিল্লাল মাতুব্বরের লোকজন।
এ প্রসঙ্গে ঘারুয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহসিলদার সোহেল মিয়া জানান, ঘারুয়া গ্রামের বাসিন্দা বিল্লাল মাতুব্বর ও তার ভাই মাইনুদ্দিন মাতুব্বর গংদের বিরুদ্ধে সরকারি সেমি পাকা ঘর ভেঙ্গে ও জায়গা দখল করে ভবন নির্মাণের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার তাদেরকে সতর্কতা করার পরেও কাজ বন্ধ করেন নি তারা। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রকৃয়াধীন রয়েছে।
অন্যদিকে, বিল্লাল মাতুব্বরের আপন বোন আমেনা খাতুন জানান, তার নামে দলিলকৃত ৩ শতাংশ জমি জোরপূর্বক দখল করেছে তার আপন দুই ভাই বিল্লাল মাতুব্বর ও মাইনুদ্দিন মাতুব্বর ও তাদের ভাতিজা সাজ্জাদ মাতুব্বর। এই নিয়ে গত ২৩ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে, ফরিদপুর আদালতের দারস্থ হন তিনি। পরবর্তীতে, ২৬/০৪/২০২৬ তারিখে তার অভিযোগ আমলে নিয়ে বিজ্ঞ আদালত ওই ৩ শতাংশ জমির উপর ১৪৪ ধারা জারী করা হয়। কিন্তু, বিজ্ঞ আদালতের আদেশ অমান্য করে তার আপন দুই ভাই তার ৩ শতাংশ জমিসহ সরকারের আরও ২ শতাংশ জমি ও সেমি পাকা ঘর ভেঙ্গে পাকা ভবন নির্মাণ কাজ চলমান রাখে। আমেনা বেগম আরও জানান, সেই কাজে বাধা দিলে তাদেরকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়- তার ভাই সিংগাপুর প্রবাসী মাইনুদ্দিন মাতুব্বর। যার ভয়েজ রেকোর্ড তার কাছে হেফাজতে রয়েছে। এ ঘটনার পর নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন তিনি ও তার পরিবার। বিষয়টিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।
স্থানীয়রা জানায়, বিল্লাহ মাতুব্বরের ভাই মাইনুদ্দিন মাতুব্বর বিদেশে বসেই ঘারুয়া ইউনিয়নসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামে একচ্ছত্র মাদকের ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। ইতোপূর্বে তার নামে থানায় একাধিক মাদক মামলাসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। এসব অপকর্ম থেকে বাচতে পরবর্তী গত ৫ আগষ্টের পর থেকেই গা ঢাকা দিয়ে সিংগাপুরে পাড়ি জমায় মাইনুদ্দিন মাতুব্বর। সেখানে বসেই তার প্রতিবেশী স্থানীয় কথিত সাংবাদিকের ছত্রছায়ায় গ্রামের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডসহ মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে আসছে মাইনুদ্দিন মাতুব্বর ও তার ভাতিজা সাজ্জাদ গং। এদের বিরুদ্ধে সরেজমিনে সুষ্ঠু তদন্ত করলে তাদের সকল অপকর্মের তথ্যের প্রমান মিলবে। এ ঘটনায় পুলিশ ও প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন স্থানীয়রা।
এ প্রসঙ্গে বিল্লাল মাতুব্বর ও মাইনুদ্দিনের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে – মাইনুদ্দিন মাতুব্বর অভিযোগ অস্বীকার করেন। এসময় সাংবাদিকদের উপরে চড়াও হয়ে মোবাইল সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। তবে, বিল্লাল মাতুব্বরের স্ত্রী শান্তা বেগম সরকারি পাকাঘর ভেঙে ভবন নির্মাণের ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। একপর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য বিভিন্নভাবে সাংবাদিকদের ম্যানেজ করার চেষ্টা করেন।
ঘটনার তদন্তকারি কর্মকর্তা থানার উপ-পরিদর্শক ডালিম মিয়া জানায়, বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী গতকাল ২৮ এপ্রিল, ঘটনাস্থলে পৌঁছে ১৪৪ জারি করা হয়। এছাড়াও বিল্লাল মাতুব্বরের স্ত্রী শান্তা ইসলামসহ পরিবারের অন্নান্যদের আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার জন্য বলা হয়। যদি কোর্টের নির্দেশনা কেউ অমান্য করেন তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বিষয়টি নিয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি সাদরুল আলম জানান, বিষয়টি আমি জানতে পেরেছি। তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

