ভাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি: ফরিদপুরের ভাঙ্গায় নওপাড়া বাজার সংলগ্ন ব্রীজের নিকটে ২টি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে চালকসহ ৩ জন নিহত এবং উভয় বাসের ৩১ জন যাত্রী কমবেশি আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৫ আগষ্ট) সকাল সাড়ে ৮ টার ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের উল্লেখিত স্থানে এই দূর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহতরা হলেন, লোকাল বাসের ড্রাইভার নগরকান্দার রওশন ফকির (৩৫), বাসের যাত্রী রাজবাড়ী সদর উপজেলার মীরা কুণ্ডু (৬০)। অপরজনের নামপরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আহতদের মধ্যে ৯ জনকে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি এবং ১৫ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকী ৭ জন যাত্রী প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরে গেছেন।
ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান পিবিএ প্রতিনিধিকে জানান, উপজেলার নওপাড়া বাজার এলাকায় বরিশাল থেকে রাজশাহীগামী তুহিন পরিবহনের সঙ্গে ফরিদপুরের টেকেরহাটগামী একটি লোকাল বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই চালক রওশন ও যাত্রী মীরা কুনডু’র মৃত্যু হয়। পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আরও অজ্ঞাত ১ বৃদ্ধের মৃত্যু হয়।
দূর্ঘটনার সংবাদ পেয়ে ফরিদপুরের অ্যাডিশনাল এসপি সাইফুজ্জামান, এএসপি (ভাঙ্গা সার্কেল) রবিউল ইসলাম, ভাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুকতাদিরুল আহমেদ, ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইদুজ্জামান, হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আতাউর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
আহতদের মধ্যে যাদের পরিচয় পাওয়া গেছে তারা হলেন, ফরিদপুর জেলার সদরপুর উপজেলার মাশরাফি, মনির হোসেন ও নমিতা, রাজবাড়ী জেলার কানাই লাল, নাটোর জেলার আরফিন, আলামিন, শাহ আলম ও পারভীন, গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর উপজেলার আলম, সেনটু, তৌহিদ, শ্রেয়া, নিত্য, লতিকা ও মিলন, ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার মমতাজ, মৌসুমী, লিমা, আসমা, মামুন ও লিয়াকত, বরিশাল জেলার শাহীন, সিয়াম, লিপু, মুন্নী, আবদুল্লাহ ও সালমা এবং মাদারীপুর জেলার জুঁই, ফারিহা ও রাজিয়া।
দুর্ঘটনার পর ঘণ্টাব্যাপী রাস্তার দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়লে হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের সহায়তায় ফের যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

