ভাঙ্গায় ফেসবুকে আপত্তিকর স্ট্যাটাস প্রদানকারী চক্রের দুই সহযোগী আটক

ভাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি: ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলা থেকে প্রকাশিত ভাঙ্গার আলো (প্রিন্ট ও অনলাইন) পত্রিকার বার্তা সম্পাদক রফিকুজ্জামান এর বিরুদ্ধে ফেসবুকে আপত্তিকর, কুরুচীপূর্ণ, মিথ্যা ও বানোয়াট স্ট্যাটাস প্রদানকারী চক্রের দুই সহযোগীকে আটক করেছে ভাঙ্গা থানা পুলিশ।

আটককৃতরা হচ্ছে উপজেলার কালামৃধা ইউনিয়নের দেওড়া গ্রামের মৃত: আ: মান্নান বেপারীর পুত্র মো: জাহাঙ্গীর বেপারী (৪২), এবং একই গ্রামের মো: আক্কাস কারিকরের পুত্র মো: হাফিজুল বেপারী (৩২)। গত ২৭ জুন’২০২১ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআই জুয়েল সঙ্গীয় ফোর্স সহ দেওড়া গ্রাম থেকে তাদেরকে আটক করেন।

এবিষয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ সৈয়দ লুৎফর রহমান এ প্রতিবেদককে বলেন, “ভাঙ্গার আলো” (প্রিন্ট ও অনলাইন) পত্রিকার বার্তা সম্পাদক রফিকুজ্জামানের বিরুদ্ধে গত এক সপ্তাহ যাবৎ একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র তাদের ফেসবুক আপত্তিকর, কুরুচীপূর্ণ ও ভিত্তিহীন স্ট্যাটাস লিখে পোস্ট করে তা ইন্টারনেট জগতে ছড়িয়ে দিয়ে আসছিল। এরই কারনে তিনি সহ (রফিকুজ্জামান) পত্রিকাটির দীর্ঘদিনের অর্জিত সুনাম চরমভাবে ক্ষুন্ন হয়। পরে তিনি থানায় এসে চক্রটির মূল হোতা ফেসবুক অপ-ব্যবহারকারী মো: শহিদুল ইসলাম, মো: মনিরুল হক মোল্লা এবং তাদের অন্যান্য ৬/৭ জন সহযোগীর বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৮ এর ২৫ (২), ১৯ (৯)/ ৩১ (২)/ ৩৫ ধারা অনুযায়ী একটি মামলা করেন। ভাঙ্গা থানার মামলা নাম্বার- ৩৫, তারিখ- ২৬/০৬/২০২১.

এসময় তিনি আরও বলেন, চক্রটির মূল হোতা সহ আটককৃত দুইজনের বিরুদ্ধে ফেসবুকে মিথ্যা ও বানোয়াট, আপত্তিকর ও কুরুচীপূর্ণ স্ট্যাটাস লিখে তা ইন্টারনেট জগতে ছড়িয়ে দেবার ভয় দেখিয়ে নিরীহ মানুষকে সম্মানহানীপূর্বক হয়রানি করে অনৈতিক অর্থ সুবিধা আদায় করার অভিযোগ রয়েছে। আটককৃত দুইজন দীর্ঘদিন ধরে ঐ চক্রটির সহযোগী হিসেবে কাজ করে আসছে।

তিনি আরও জানান, গত ২৪ জুন এই চক্রটির বিরুদ্ধে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: মোহসিন উদ্দিন ফকির নিজে বাদী হয়ে চাঁদাবাজী ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেছেন। ভাঙ্গা থানার মামলা নাম্বার- ৩৪, তারিখ- ২৪/০৬/২০২১ ইং। মামলার মূল আসামী শহিদুল ও মনি মোল্লাসহ তাদের সকল সহযোগীদের আটক করতে পুলিশ তৎপর রয়েছে। অচিরেই তাদেরকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হবো।

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কালামৃধা ইউনিয়নের একাধিক ব্যক্তি জানান, আটককৃত জাহাঙ্গীর বেপারীর বাবা মৃত: আ: মান্নান বেপারী এলাকায় কয়েক কোটি টাকার সম্পদ রেখে গেলেও জাহাঙ্গীর তা কয়েক বছরের মধ্যে বিক্রি করে নি:স্ব হয়েছে। এখন তাঁর স্থায়ী অথবা অস্থায়ী কোন সম্পদ নেই। দেশে বৈধ কোন আয়ের উৎস না থাকায় দীর্ঘদিন যাবৎ সে পুলিশের সোর্স পরিচয়ে স্থানীয় অপরাধীদের নিকট থেকে অনৈতিক সুবিধাভোগ করে আসছিল। এলাকায় তাঁর বিরুদ্ধে নিরীহ মানুষদের পুলিশের ভয় দেখিয়ে ও মিথ্যা মামলায় হয়রানি করা সহ অনৈতিক অর্থ বানিজ্যের অভিযোগ রয়েছে। জাহাঙ্গীরের পুলিশী দাপট ও উশৃঙ্খল আচরনের কারনে ঐ এলাকার অপরাধ জগতের লোকজন সহ ইউনিয়নের অনেকেই তাঁকে “গুরু” জাহাঙ্গীর নামে ডেকে থাকে। কেউ কেউ আবার জাহাঙ্গীরকে রশিকতার সুরে তিন থানার (ভাঙ্গা, রাজৈর ও শিবচর) “ওসি” বলেই ডাকে। এতে নাকি সে অধিক খুশি হয়ে হাসতে থাকে।

এলাকাবাসী আরও জানায়, আর্থিকভাবে নি:স্ব হবার কারনে জাহাঙ্গীর বিভিন্ন লোকজনের নিকট থেকে বিদেশে লোক পাঠানোর নামে প্রায় ৩৫/৪০ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়। পাওনা টাকা চাইতে গেলে সে পুলিশ দিয়ে হয়রানি করার হুমকি দেয়া সহ মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখায়। তাঁর অনৈতিক দাপটের কারনে পাওনাদার অনেক পরিবার এখন নি:স্ব ও অসহায়। দেওড়া গ্রামে জাহাঙ্গীরের ১০/১২ জনের একটি বেকার ও বখাটে সন্ত্রাসী বাহিনী রয়েছে। তাদের ভয়ে কোন পাওনাদার জোর গলায় টাকা চাইতে সাহস পায় না। এছাড়া তাদের খামখেয়ালি ও বিভিন্ন অপকর্মের প্রতিবাদেও কেউ এগিয়ে আসে না।

এলাকাবাসী জানায়, ইদানিং জাহাঙ্গীর বেপারী ও তাঁর সহযোগিরা কালামৃধা ইউপি চেয়ারম্যান মো: লিটন মাতুব্বরের প্রত্যক্ষ মদদে ও বিশেষ আশির্বাদে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠে এবং ভাঙ্গার বহুল আলোচিত ও সমালোচিত ডিজিটাল প্রতারক চক্রের হোতা মো: শহিদুল ও মনিরুল হক মোল্লা এবং তাদের অন্যান্য সহযোগীদের সাথে লোকাল এজেন্ট হিসেবে যোগ দেয়। জাহাঙ্গীর ও তাঁর সহযোগী হাফিজুলকে আটকের পর চেয়ারম্যান লিটন মাতুব্বর থানা থেকে তাদেরকে ছাড়িয়ে আনতে গভীর রাত পর্যন্ত দৌঁড়ঝাপ করে ব্যর্থ হয়।স্থানীয়রা চেয়ারম্যানের এমন তদবীর বানিজ্যে হতবাক হয়েছেন। এদিকে স্থানীয়রা তাদের আটকের খবরে স্বস্তির নি:শ্বাস ফেলতে শুরু করেছে।

এলাকার সুধী সমাজ জাহাঙ্গীর ও তাঁর অপর সহযোগী হাফিজুলকে আটক করায় ফরিদপুর জেলা পুলিশ সুপার মো: আলিমুজ্জামান (বিপিএম), অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মো: তরিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভাঙ্গা সার্কেল) ফাহিমা কাদের চৌধুরী এবং ভাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ সৈয়দ লুৎফর রহমান এর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

স্থানীয়রা আটককৃতদের নানান অপকর্ম ও অনৈতিক অর্থ বানিজ্যের বিষয় এবং অসহায় পরিবারের পাওনা টাকা আদায়ে অধিকতর গোপনীয় তদন্ত সাপেক্ষে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে জেলা পুলিশ সুপার মহোদয়ের আশু ও কার্যকরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।