ভাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি: ভাঙ্গা থানা পুলিশের সাথে পূর্ব শক্রতার জেরে পুলিশ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার নাটক সাজিয়ে ৩ যুবককে ১৬৬ পিচ ইয়াবাসহ আটক করেছে। এমনটি দাবি আটককৃতদের পরিবারের।
আটককৃত হলেন- উপজেলার কালামৃধা ইউনিয়নের রায়নগর গ্রামের আব্দুল খালেক মাতুব্বরের পুত্র মো: জুয়েল মাতুব্বর (২৮), মিয়াপাড়া গ্রামের জব্বার হাওলাদারের পুত্র লিটু হাওলাদার (৩৮) এবং আজিমনগর ইউনিয়নের ছলিলদিয়া গ্রামের সোরমান মাতুব্বরের পুত্র সবুজ মাতুব্বর (২৫)।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে আটককৃতদের পরিবার ও পুলিশের দায়েরকৃত এজাহার মূলে জানা যায়, গত ৮ আগষ্ট’২০১৮ তারিখ রাত ১২:৫০ টায় ভাঙ্গা থানার জিডি নং ৩৭৮, পিসিসি নং ১৩৪২ মূলে সঙ্গীয় এসআই ইফতে খায়রুল ইসলাম, এসআই মেহেদী হাসান, এএসআই রেজওয়ান মামুন, এএসআই সঞ্জয় বিশ্বাস, এএসআই আজগর আলী, সাজ্জাদ আলী (ক: নং ১০৫৩), সজিব (ক: নং ১২৫৭) এবং মেহেদী হাসান (ক: নং ৯৫৮) ডব্লিউ/এ তামিল ও মাদকদ্রব্য উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করতে পুলিয়া বাজার এলাকা ও মিয়াপাড়া গ্রামের পশ্চিমপাড়া যুব উন্নয়ন ক্লাবের পাশে যায়। সেখানে পুলিশ কর্তৃক নিরীহ মানুষদের হয়রানী করা হচ্ছে এমন খবরে কয়েকশত গ্রামবাসী একত্রিত হয়ে পুলিশী তান্ডবের তীব্র প্রতিবাদ করে। এক পর্যায়ে স্থানীয়দের সাথে পুলিশের ধস্তাধস্তি ও পরে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় পুলিশের নিকট থেকে আটক মাদক ব্যবসায়ি (পুলিশী ভাষ্য মতে) মিয়াপাড়া গ্রামের মো: সামচু হাওলাদারের পুত্র শহিদ হাওলাদার (২৪), সরোয়ার মাতুব্বরের পুত্র শাহিন মাতুব্বর (৩৬) এবং লতিফ ফরাজির পুত্র শাহজাহান ফরাজি (৪০) পালিয়ে যায়।
সংঘর্ষে এসআই শফিকুল ইসলাম, এএসআই আজগর আলী, এএসআই রেজওয়ান মামুন, সাজ্জাদ আলী (ক: নং ১০৫৩), মেহেদী হাসান (ক: নং ৯৫৮) এবং কুমারখালী গ্রামের নুরা মাতুব্বরের পুত্র পান্নু মাতুব্বর (৩৩), রায়নগর গ্রামের ইদ্রিস খাঁ এর পুত্র জাহিদ খাঁ আহত হন।
এ ঘটনায় পরের দিন ৯ আগষ্ট’২০১৮ ইং তারিখে দুপুর সোয়া ২ টায় ভাঙ্গা থানা পুলিশের পক্ষ থেকে এসআই শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে বেআইনী জনতাবদ্ধে সরকারি কাজে বাধাদান করত: পুলিশ ও স্থানীয় উপস্থিত লোকজনকে আঘাত করিয়া গুরুতর ও সাধারন জখমসহ হুকুম দেওয়ার অপরাধে ২৫ গ্রামবাসীকে অভিযুক্ত করে পেনাল কোড ১৮৬০ এর ১৪৩/৩৪১/৩৩২/৩৩৩/৩৫৩/৩২৬/১১৪ ধারায় মামলা রুজু করেন। ভাঙ্গা থানার মামলা নং ২, তারিখ ০৯/০৮/২০১৮ ইং। এ মামলায় অভিযুক্ত ২৫ জনের মধ্যে মো: জুয়েল মাতুব্বর (২৮) এবং লিটু হাওলাদার (৩৮) সহ অনেকেই মহামান্য হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন নিয়ে পরে নি¤œ আদালতে আতœসমর্পন করে দীর্ঘদিন কারাভোগের পর স্থায়ী জামিনে বেরিয়ে আসে।
অভিযুক্তদের পরিবার ও গ্রামবাসীদের ভাষ্য মতে, ভাঙ্গা থানা পুলিশের উপর আক্রমন ও আসামী পালানোর ঘটনার জেরে পুলিশ গত ০৯ ডিসেম্বর রাত আনুমানিক ৮ ঘটিকায় নিজেদের ক্ষোভ মেটাতে পরিকল্পিতভাবে মো: জুয়েল মাতুব্বর (২৮) এবং লিটু হাওলাদার (৩৮) কে কথিত মাদক ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধারের নাটক সাজিয়ে আজিমনগর ইউনিয়নের মোড়ার বাজার থেকে আটক করে দ্রুত থানায় নিয়ে যায়। তবে আটকের সময় এদের নিকট থেকে কোন প্রকার মাদক পাওয়া যায়নি।
এদিকে আটককৃত ৩ যুবককে থানা হেফাজতে নিয়ে এসআই শফিকুল ইসলাম, এএসআই সমর বিশ্বাস, এএসআই রেজওয়ান মামুন, জয় দাস (ক: নং ১৩২৩), আব্দুল্লাহ্ (ক: নং ১০২০), ফয়সাল (ক: নং ৮৪৯), সাইমুন (ক: নং ১৩০৮), রুবেল (ক: নং ৯০৭) নিজেদের চরিত্রকে চরিতার্থ করার জন্য তাদেরকে বেধড়ক মারপিটপূর্বক মারাতœকভাবে রক্তাক্ত জখম করে মর্মে দাবি করেন জুয়েল ও লিটুর পরিবার।
আটককৃত জুয়েল ও লিটুর পরিবার আরো জানায়, পুলিশী নির্যাতনে জুয়েল ও লিটু অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের অবস্থা বেগতিক দেখে রাতেই এসআই শফিকুল ইসলাম সঙ্গীয় ফোর্সসহ তাদেরকে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক চিকিতসা প্রদান করে। পরিকল্পিতভাবে এদেরকে অহেতুক আটক ও পিটিয়ে আহত করার খবরে পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশসহ জুয়েল ও লিটুর নি:শর্ত মুক্তি ও পুলিশের দায়েরকৃত মিথ্যা মাদক মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসি।
ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিতসক জানান, প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান রেজিষ্ট্রেশন বহিতে জুয়েল ও লিটুকে শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে মর্মে চিকিৎসার কারন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে চিকিৎসা শেষে এ ঘটনায় রাত সাড়ে ৯ টায় এসআই আনিচুর রহমান বাদী হয়ে আটককৃত জুয়েল এর নিকট থেকে ১০৩ পিচ, লিটু হাওলাদারের নিকট থেকে ৫৩ পিচ এবং সবুজ এর নিকট থেকে ১০ পিচ মোট ১৬৬ পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ দেখিয়ে ১৯৯০ সনের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনের ১৯(১) এর ৯(খ)/১৯(১) এর ৯(ক) ধারায় মামলা রুজু করেন। ভাঙ্গা থানার মামলা নং ১৬, তারিখ ০৯/১২/২০১৮।
এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা এসআই শফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, আটককৃত ৩ যুবক মাদক ব্যবসায়ি। তাদেরকে ১৬৬ পিচ ইয়াবাসহ আটক করা হয়েছে এবং তারা একাধিক মামলার আসামী। এদেরকে কোন হীন উদ্দেশ্যে অহেতুক হয়রানি অথবা অতীতের কোন ঘটনার জেরে গ্রেফতার করা হয়নি। এটা নিছক গুজব। পুলিশের বিরুদ্ধে অপপ্রচার।
আটককৃতদের থানায় এনে পিটিয়ে আহত করার ঘটনা অস্বীকার করে তিনি আরও বলেন, গ্রেফতারের সময় ধস্তাধস্তির কারনে হয়তো তারা সামান্য ব্যাথা পেয়ে থাকতে পারে।

