ষ্টাফ রিপোর্টারঃ ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগের বহিঃস্কৃত সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফাইজুর রহমানের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা হয়েছে। শনিবার দুপুরে পৌরসদরের মাদানী নগর মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা আহম্মদ মাসরুর বাদী হয়ে এই মামলাটি দায়ের করেন।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী সাইদুর রহমান জানান, মাদ্রাসার প্রিন্সিপালের নিকট চাঁদা চাওয়ার অভিযোগে ফাইজুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলাটি হয়েছে। মামলা নং-৩২। তিনি আরো বলেন, আসামী যেই হোক না কেন আইন তার গতিতেই চলবে এবং আমরা প্রয়োজনীয় আইনী ব্যবস্থা নিব।
এদিকে ভাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগের বহিঃস্কৃত সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফাইজুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা হওয়ায় এলাকার বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। একই সাথে অভিযুক্ত দুর্নীতিবাজ, ভ’মিদস্যু, মামলাবাজ ফাইজুর রহমানের গ্রেফতারের জোর দাবিও উঠেছে।
মামলার বিবরনীতে বাদী বলেন, গত ১৪ আগষ্ঠ সকালে মাদানীনগর মাদ্রাসার উন্নয়নের কাজ চলাকালীন সময় জোরপূর্বক বাধা দিয়ে মাদ্রাসার কাজ বন্ধ করে দেয়। ফাইজুর রহমান এসময় উচ্চ স্বরে বলেন, মাদ্রাসার উন্নয়নের কাজ করতে হলে তাকে ৫ লক্ষ টাকা চাঁদা দিতে হবে এবং আমাকে মাদ্রাসা কমিটির সভাপতি করতে হবে। আমি তার দাবি অমান্য করায় প্রকাশ্য দিবালোকে ফাইজুর ও তার সহযোগি সাইদুল রহমান সহ ৫/৬ জন ব্যক্তি আমাকে মারধর সহ প্রাণনাশের হুমকি দেয়।
বাদি আরজীতে আরও বলেন, আমার বিরুদ্ধে বিগত ২০১৩ সালে হেফাজত ইসলামের আন্দোলনের সময় ভাঙ্গা বিশ্বরোড মোড়ে নওশের নামে এক আওয়ামী লীগ নেতা খুন হয়। উক্ত মামলায় আমাকে প্রধান আসামী করে প্রায় অর্ধশতাধিক লোকের নামে মিথ্যা অভিযোগ করে আওয়ামী লীগের ক্ষমতা অপব্যবহার করে বেশ কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় এবং প্রকৃত হত্যাকারিদের বাদ দিয়ে ভাঙ্গার নিরহ জনগনকে আসামী করে হত্যা মামলা দায়ের করে। আমার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হওয়ায় আমি এলাকা ছেড়ে চলে গেলে উক্ত সুযোগে ফাইজুর রহমান আমার মাদ্রাসাটি জোর করে দখল করে এবং স্বঘোষিত সভাপতি হিসেবে মাদ্রাসা পরিচালনা করে। সে বিগত দিনে আওয়ামী লীগের ক্ষমতা ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের অপকর্ম করে কয়েক’শ কোটি টাকার মালিক হয়েছে এবং নামে বেনামে জনগনের জমি জোরপূর্বক দখল করে সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছে। তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ থাকায় এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সুনাম ক্ষুন্ন করায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফরউল্লাহর নির্দেশক্রমে উপজেলা আওয়ামী লীগ বর্ধিত সভা করে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ফাইজুরকে অব্যাহতি প্রদান করেন।
ফাইজুর রহমানের বিগত দিনের চরিত্র পুনরায় চরিতার্থ করার জন্য আমাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আবারও আমার মাদ্রাসাটি দখল করার পায়তারায় লিপ্ত আছে এবং চাঁদাবাজির মামলার আসামী হয়ে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে যার কারনে আমি নিরাপত্তা হীনতায় ভূগছি।

