ভাঙ্গায় গভীর রাতে টর্চ জ্বালিয়ে মাইকিং করে দুই দল গ্রামবাসীর রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে আহত-২৫


মোঃ রমজান সিকদার
ভাঙ্গা (ফরিদপুর) সংবাদদাতা-০৯/০৬/২০২৫
ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নে গভীররাতে সুন্নতে খৎনার অনুষ্ঠানে উচ্চ শব্দে সাউন্ড বক্স বাজানোকে কেন্দ্র করে দুই দল গ্রামবাসীর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়েছে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ২৫ জন গুরুতর আহত হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে ও স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রোববার দিবাগত রাত ১ টায় গোপিনাথপুর ও ছোট হামিরদীর গ্ৰামবাসি মাইকে ঘোষণা দিয়ে টর্চ লাইট জ্বালিয়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দুই ঘন্টাব্যাপী রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।
সংঘর্ষ চলাকালে ডেকোরেটরের মালামাল, তিনটি বাড়ি ভাঙচুর এবং সুন্নত খাতনা অনুষ্ঠানের একটি গরু লুট হওয়ার ঘটনা ঘটে। সংবাদ পেয়ে ভাঙ্গা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি শান্ত করে।
পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, সোমবার হামেরদী ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের কুদ্দুস মাতুব্বর দলের সমর্থক ইমরান মুন্সির ছেলের সুন্নতে খৎনা অনুষ্ঠানের আয়োজন চলছিল। এ উপলক্ষে রবিবার রাত ৮টা দিকে বাড়ির সাথে গোপীনাথপুর প্রাইমারি স্কুল মাঠে সাউন্ড বক্সে বাজিয়ে গানের অনুষ্ঠান চলছিল ।
উক্ত গানবাজনা অনুষ্ঠানে পাশের ছোট হামিরদী গ্রামের লিটন মাতুব্বরে দলের কিছু যুবক ছেলে
অনুষ্ঠানে গান শুনতে আসে। এ সময় ছোট হামিরদী গ্রামের নয়ন, হৃদয় ও নিরবের সাথে গোপনাথপুর গ্রামের সোহেল, সাগর ও সাজ্জাদের সাথে সাউন্ড কোমানো বাড়ানো নিয়ে কথা কাটাকাটি ও এক পর্যায়ে মারামারির ঘটনা ঘটে। মারধরের ঘটনা ছোট হামিরদী গ্রামে ছড়িয়ে পড়লে রাত ১টা দিকে দুই গ্রামবাসী একত্রিত হয়ে মাইকে ঘোষণা দিয়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
এ ব্যাপারে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশরাফ হোসেন বলেন, ছোট হামিরদী ও গোপীনাথপুর গ্রামের কিছু যুবক ছেলেদের সাথে সাউন্ড বক্সে গান বাজানো নিয়ে হাতাহাতির ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। প এতে ২০/২৫ জনের মত লোক আহত হয়েছে। ২/৩ টি বাড়ি ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি  শান্ত রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোন পক্ষ অভিযোগ দেন নাই। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।