
মোঃ রমজান সিকদার,
ভাঙ্গা (ফরিদপুর) সংবাদদাতা-২৮/০৮/২০২৬
সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে
ফরিদপুরের ভাঙ্গা কাজী শামসুন্নেচ্ছা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে পবিত্র ঈদ-ঈ-মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপন না করায় প্রধান শিক্ষক অরুণ চন্দ্র দত্তের শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ করেছে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিগন।
শুক্রবার (২৮) আগষ্ট জুম্মার নামাজের পর ভাঙ্গা কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে শত শত মুসল্লি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
সমাবেশ থেকে বক্তারা আগামী ৩ দিনের মধ্যে বিতর্কিত এই প্রধান শিক্ষককে অপসারণের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি আল্টিমেটাম দেওয়া হয়।
বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, সরকারি স্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও প্রধান শিক্ষক অরুণ চন্দ্র দত্ত নিজ বিদ্যালয়ে পবিত্র ঈদ-ঈ-মিলাদুন্নবী (সা.) পালন না করে চরম অনীহা প্রকাশ করেছেন এবং এ নিয়ে আপত্তিকর ও অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন। এছাড়া ৫ই আগস্টের পরবর্তী সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নেও তিনি গড়িমসি করেন।
বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ে দুর্নীতির সিন্ডিকেট গড়ে তোলা, অর্থ আত্মসাৎ ও একাধিক অনিয়মের তদন্ত চলমান রয়েছে। তিনি নিয়মিত সহকর্মী শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং সাংবাদিকদের সাথে অসদাচরণ ও অপেশাদার আচরণ করে আসছেন। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফরউল্লাহর প্রভাব খাটিয়ে তিনি দীর্ঘদিন যাবত এসব অপকর্ম করে পার পেয়ে আসছেন বলে সমাবেশে দাবি করা হয়।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, কাজী শামসুন্নেচ্ছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের
সাবেক অভিভাবক সদস্য মিঞা মোহাম্মদ আলমগীর, বিশিষ্ট সমাজসেবক হেমায়েত হোসেন, ঐ প্রতিষ্ঠানের সাবেক ম্যানেজিং কমিটির সদস্য এনায়েত মুন্সী,
ছাত্রনেতা ও সমন্বয়ক আকাশ, ভাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া বিশ্বাস সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও মুসল্লিবৃন্দ।
এবিষয়ে উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা ও কাজী শামসুন্নেচ্ছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি মাহামুদুল হাসান বলেন, বিষয়টি জানতে পেরেছি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ ব্যাপারে উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার শওকত হোসেন বলেন, সরকারি পরিপত্র আমি প্রতিটি স্কুলে পাঠিয়েছি এবং পবিত্র ঈদ-ঈ-মিলাদুন্নবী যথাযথ ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পালন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঐ প্রতিষ্ঠানটি কেন করল না তা আমি উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানবো।
বিষয়টি নিয়ে কাজী শামসুন্নেচ্ছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অরুন দত্ত জানান, পবিত্র ঈদ-ঈ-মিলাদুন্নবী পালনের জন্য আমি ধর্মীয় শিক্ষক জাকির হোসেনের কাছে ১ হাজার টাকা দিয়েছি। শুনেছি তিনি ঐ টাকা দিয়ে মিষ্টি কিনে কোর্ট মসজিদে তবারক বিতরন করেছেন।

