জামালপুর প্রতিনিধি: জামালপুর জেলার ইসলামপুরের বাহাদুরাবাদ ঘাট পয়েন্টে যমুনা নদীতে সোমবার বিকালে বন্যার পানি বিপদ সীমার ১২৭সেন্টি মিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। জেলার ৬৮টি ইউনিয়য়নের মধ্যে ২১টি ইউনিয়নের প্রায় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। জেলার ইসলামপুর ও দেওয়ানগঞ্জের অন্তত: ১২টি অভ্যন্তরীণ সড়কের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়রা জানান, বন্যায় ইসলামপুরের ৭টি ইউনিয়নের অন্তত: ১ লক্ষ মানুষ পানিবন্দি হয়েছে। এছাড়াও দেওয়ানগঞ্জ, মেলান্দহ, মাদারগঞ্জ, বকশীগঞ্জ ও সরিষাবাড়ী উপজেলা সমূহের আরো ১৪টি ইউনিযনের প্রায় ৭০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়েছে। এতে জেলার ৬৮টি ইউনিয়য়নের মধ্যে ২১টি ইউনিয়নের প্রায় ১লক্ষ ৭০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এছাড়াও জেলার ইসলামপুর ও দেওয়ানগঞ্জের অন্তত: ১২টি অভ্যন্তরীণ সড়কের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
সরেজমিন ঘুরে জানাগেছে, বন্যায় ইসলামপুর-উলিয়া এবং ইসলামপুর-গুঠাইল ও ইসলামপুর-কুলকান্দি সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ইসলাপুরের ৭০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে। ইসলামপুরের মোরাদাবাদ ও কুলকান্দি বন্যা নিয়ন্তক বাধঁ ভেঙ্গে পার্থশী ইউনিয়নের প্রায় গ্রাম প্লাবিত চিনাডুলি ইউনিয়নের দক্ষিণ চিনাডুলি, দেওয়ানপাড়া, ডেবরাইপেচ, বলিয়াদহ, সিংভাঙ্গা, পশ্চিম বামনা, পূর্ববামনা,গিলাবাড়ী অঞ্চল সমূহের বিস্তীর্ণ জনপদের বন্যা পরিস্থিতি মারাতœক আকার ধারণ করেছে। গত তিনদিনে বন্যার পানির তীব্র স্রোতে ভেঙ্গে পড়েছে দেওয়ান পাড়া গ্রামের অন্তত: ৭০টি বসতভিটা। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তরা আশপাশের উঁচু জায়গায় আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।
অপরদিকে বন্যার ¯্রােতে ইসলামপুরের সাপধরী ইউনিয়নের মন্ডলপাড়া এবং বেলগাছা ইউনিয়নের মন্নিয়া গ্রামে নদী ভাঙ্গনে বসতভিটা হারিয়েছে ৫শতাধিক পরিবার।
জামালপুর জেলা ত্রান ও পূনর্বাসন কর্মকর্তা নায়েব আলী জানান, যমুনায় পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় জামালপুরে বন্যা পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতি হচ্ছে। ইতিমধ্যেই জেলার ২১টি ইউনিয়ন বন্যা কবলিত হয়েছে। তবে বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকারী ভাবে সকল প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও বন্যার্তদের সাহায্যে ত্রান সামগ্রী মজুদ রাখা হয়েছে।

