শিবচরের পাঁচ্চরে নবনির্মিত “ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ মসজিদ” দেখতে দর্শনার্থীদের ভিড়

শিবচর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি: মাদারীপুর জেলার শিবচর থানাধীন পাঁচ্চর বাসষ্ট্যান্ড সংলগ্ন নবনির্মিত “ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ মসজিদ” প্রাঙ্গনে প্রতিদিন দর্শণার্থীদের ভিড় চোখে পড়ার মত। মসজিদটির অসাধারণ ডিজাইন, কালার কম্বিনেশন, লাইটিং এবং এক্সপ্রেস ওয়ে’র পাশে নির্মিত হওয়ায় নি:সন্দেহে স্থানীয় ও দূরপাল্লার মুসল্লী এবং দর্শনার্থীদের নজর কাড়ছে।

প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত মসজিদের মনোমুগ্ধকর কারুকার্য ও আলোকসজ্জা এবং অসাধারণ সৌন্দর্য উপভোগ করা সহ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করতে ছুটে আসছেন স্থানীয় ও দূরদূরান্তের মুসল্লীগণ। দৃষ্টিনন্দন এই মসজিদটি শিবচরের ঐতিহ্যবাহী “চৌধুরী” পরিবারের পক্ষ থেকে দেওয়া সকল মুসলমানদের জন্য অসাধারণ একটি উপহার ও গর্বের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পদ্মা সেতু এক্সপ্রেস ওয়ে সংলগ্ন পাঁচ্চর-ভাঙ্গা অংশে মসজিদটি নির্মান করায় শুধু মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও ফরিদপুরের দর্শনার্থীদেরই নয় বরংচ এক্সপ্রেস ওয়ে’তে দূরদূরান্তের যাত্রী সাধারণদেরও নজরকাড়া সৌন্দর্যে মুগ্ধ করছে প্রতিনিয়ত। অসাধারণ এই মসজিদটির নামকরণ করা হয়েছে “ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ মসজিদ”

স্থানীয় সূত্র মতে, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও মাদারীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য নূর ই আলম চৌধুরী পারিবারিক ভাবে নিজস্ব অর্থায়নে দৃষ্টিনন্দিত এই অপরুপ মসজিদটি নির্মাণ করেন। এটি নির্মাণে প্রায় তিন বছর সময় লেগে যায়। নির্মাণ শেষে ২০২১ সালের শুরুতেই মসজিদটি সকল মুসল্লীদের নামাজ আদায়ের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়।

মসজিদটিতে রয়েছে নজরকাড়া গুম্বুজের কারুকাজ, রাত্রীকালীন বাহারী রংয়ের আলোক সজ্জা, চীন থেকে আনা ১২ ফুট দৈর্ঘ্যের আট পাখা বিশিষ্ট চারটি বৈদ্যুতিক ফ্যান। যা পুরো মসজিদের ভেতরের অংশকে সার্বক্ষণিক শীতল রাখতে সক্ষম। আরও রয়েছে তুর্কি থেকে আনা ঝাড়বাতি।মসজিদের চারপাশে বড় বড় আকৃতির একাধিক জানালা থাকায় এর ভেতরে পর্যাপ্ত আলো ও বাতাসের কোন অভাব নেই।

সম্প্রতি “ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ” কমিটি মসজিদটি সু-শৃঙ্খলভাবে পরিচালনা করছে। এই কমিটি একজন ইমাম, একজন মুয়াজ্জিম ও দু’জন খাদেম সাহেবকে মসজিদের দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়েছেন।

দৃষ্টিকাড়া এই অসাধারণ মসজিদটির ডিজাইন করেছেন বায়তুল মোকাররম মসজিদের এক্সটেনশন ভবন ও দেশের অসংখ্য মসজিদের খ্যাতিম্যান ডিজাইনার কাজী মোহাম্মদ হানিফ। এক্সপ্রেস ওয়ে থেকে মসজিদটি প্রায় সাড়ে ১২ ফুট উচ্চতায় নির্মাণ করা হয়েছে। যার ফলে এক্সপ্রেস ওয়ে’র বহুদূর থেকে মসজিদটির সম্পূর্ণ অংশ দৃশ্যমান ও দৃষ্টিনন্দিত হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতদিন ২৪ ঘন্টাই বিভিন্ন শ্রেণী পেশা ও বয়সের নারী-পুরুষ ও শিশু দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠছে মসজিদ প্রাঙ্গন ও এর চারপাশ। দর্শণার্থীরা মসজিদের চারপাশ থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার সেলফি ও গ্রুপ ছবি ক্যামেরাবন্দি করছে। কেউ কেউ আবার সেসকল ছবি তুলে ফেসবুক ও ইন্টারনেট দুনিয়ায় ছড়িয়ে দিয়ে অফুরন্ত আনন্দ উপভোগ করা সহ মসজিদটিকে বিশ্ববাসীর নিকট হাইলাইট করছে।