
মোঃ রমজান সিকদার,
ভাঙ্গা (ফরিদপুর) সংবাদদাতা-২০/০৬/২০২৬
ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার ভাঙ্গা পৌরসভার কাপুরিয়া সদরদী গ্ৰামের সন্তান আব্দুল কারিম মুন্সীর (৪০) ঝুলন্ত লাশ তার শশুর বাড়ি থেকে উদ্ধার করেছে নগরকান্দা থানা পুলিশ।
শুক্রবার দিবাগত রাতে নগরকান্দা উপজেলার চরযশোরদী ইউনিয়নের আলগাদিয়া গ্ৰামের ওমর আলী শেখের (শশুর ) বাড়ি থেকে লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়। আব্দুল কারিম মুন্সী ভাঙ্গা উপজেলার কাপুড়িয়া সদরদী গ্রামের মৃত জালাল মুন্সীর ছেলে। আব্দুল কারিম মুন্সী তার স্ত্রী মাহমুদা বেগমের ১৬ বছরের দাম্পত্য জীবনে তাদের একটি ১৩ বছর বয়সী কন্যা সন্তান রয়েছে।
সম্প্রতি পারিবারিক কলহের জেরে মাহমুদা বেগম আব্দুল কারিম মুন্সীকে এক তরফা তালাক দেয়। দাম্পত্য কলহের কারণে আব্দুল কারিম মুন্সী মানসিকভাবে কিছুটা অস্বস্তিতে ছিলেন।
তার শশুর বাড়ির লোকজনের দাবি
ঘটনার রাতে আব্দুল কারিম মুন্সী আলগাদিয়া গ্রামে এসে শ্বশুরের টিনশেড বাড়ির সিঁড়িঘরের চালার সঙ্গে নাইলনের দড়ি দিয়ে গলায় ফাঁস দেন। পরে পরিবারের লোকজন তার ঝুলন্ত লাশ দেখে পুলিশকে খবর দেয়।
খবর পেয়ে নগরকান্দা থানার উপপরিদর্শক তারক বিশ্বাস ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন। তিনি জানান, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও তদন্তের সাপেক্ষে পরবর্তীতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নিহত আবুল কারিম মুন্সীর বোন জামাতা জালাল ইসলাম জানান, গত রাত আনুমানিক ২টার দিকে কারিমের স্ত্রী মাহমুদার খালাতো ভাই হাসান ফোন করে তাকে জানান যে কারিম মুন্সী তার শশুর বাড়িতে এসে গলায় রশি দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। সে স্বাভাবিক ও সুস্থ ছিল।
আব্দুল কারিম মুন্সীর চাচাতো ভাই ফেরদাউস মুন্সী জানান, কারিমের আত্মহত্যা একটি রহস্যজনক ঘটনা। উপযুক্ত তদন্তের সাপেক্ষে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উন্মোচনের জোর দাবি জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে সহকারী পুলিশ সুপার (নগরকান্দা সার্কেল) মুহম্মাদ আল ফাহাদ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে, পরবর্তীতে আইনগত ব্যবস্থা গহন করা হবে।
শনিবার বিকেলে আব্দুল কারিম মুন্সীর লাশ ভাঙ্গা ঈদগাহ মাদ্রাসার কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

