
মোঃ রমজান সিকদার,
ভাঙ্গা (ফরিদপুর) সংবাদদাতা-২০/১১/২০২৫
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় সন্ত্রাস বিরোধী আইনে ভাঙ্গা থানায় পুলিশ বাদী হয়ে চারটি মামলা দায়ের করেছে। চার মামলায় ১৬ জন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, ২ জন সাবেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, ফরিদপুর জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক, আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নাম সহ মোট ১৭৭ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া চারটি মামলায় আরও অনেক কে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। বর্তমান অন্তবর্তীকালীন সরকারকে উৎখাত, রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র, দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করা, নিরাপত্তায় বিঘ্ন করা, জনমনে ত্রাসের রাজত্ব ও আতংক সৃষ্টি করার অভিযোগে এনে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা ৪টি দায়ের করেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ভাঙ্গা থানার উপ-পরিদর্শক আফজাল হোসেন বাদি হয়ে দুটি মামলা করেন। প্রথম মামলায় ৬০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। দ্বিতীয় মামলায় ৩৬ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তৃতীয় মামলার বাদী হয়েছে ভাঙ্গা থানার উপ পরিদর্শক প্রশান্ত কুমার মন্ডল। এ মামলায় ৩৪ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। চতুর্থ মামলায় বাদী হয়েছেন ভাঙ্গা থানা উপ পরিদর্শক রামপ্রসাদ চক্রবর্তী। এ মামলায় ৪৭ জনের নাম উল্লেখ করে এবং প্রতিটি মামলায় অজ্ঞাত আরও অনেককে আসামি করা হয়েছে।
মামলায় গুরুত্বপূর্ণ আসামি করা হয়েছে ভাঙ্গা উপজেলা পরিষদের সাবেক ২ চেয়ারম্যান, ১০ টি ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান ও সাবেক ১৬ জন ইউপি চেয়ারম্যান। আসামিরা হলেন, সাবেক ভাঙ্গা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ কাওসার ভুইয়া ও হাবিবুর রহমান হাবিব। চান্দা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল খালেক, কালামৃধা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউল মাতুব্বর ও সাবেক চেয়ারম্যান লিটু মাতুব্বর, কাওলিবেড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম দুদুমিয়া, চুমুরদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ রফিকুল ইসলাম সোহাগ, নুরুল্লাগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহীনুর আলম সাহাবুর ও সাবেক চেয়ারম্যান
তরিকুল ইসলাম তারেক ও সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ আশরাফ মীর, তুজারপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অলিউর রহমান ও সাবেক চেয়ারম্যান পরিমল চন্দ্র দাস, মানিকদাহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহীদুল্লাহ বাচ্চু, নাসিরাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলমগীর খান ও সাবেক চেয়ারম্যান লাভলু, ঘারুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ মুনসুর আহমেদ। ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহ মোহাম্মদ ইশতিয়াক আরিফকে।
উল্লেখ্য গত ১৩ নভেম্বর আওয়ামী লীগের ডাকা লকডাউনে সেদিন সকালে ঢাকা-খুলনা, ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক ও ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের পুলিয়া, মুনসুরাবাদ, সুয়াদি, পুখুরিয়া নামক স্থানে রাস্তা আটকে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। মুলত এ ঘটনাকে কেন্দ্র করেই ভাঙ্গা থানায় ৪ টি মামলা করে পুলিশ।
ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশরাফ হোসেন বলেন, সন্ত্রাসবিরোধী আইন -২০০৯ এর আলোকে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির লক্ষে নাশকতা করার পরিকল্পনা, প্রস্তুতি, সমর্থন, অর্থায়ন এবং বর্তমান সরকারকে অপরাধ সংগঠনের ষড়যন্ত্র ও প্রচেষ্টা করার অপরাধে এ মামলা হয়েছে।

