ফরিদপুর অফিস: ফরিদপুরে দীর্ঘদিন ধরেই সুদের বাবসায়ীরা ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন নামে ও বেনামে মাল্টিপারপাস সমিতি গঠন করে সমবায় অফিস থেকে লাইসেন্স নিয়ে মাঠে নেমে পড়েছে। সাধারন মানুষকে সঞ্চয়ের নামে হাতিয়ে নেয় লক্ষ লক্ষ টাকা। আর বিপদগ্রস্থ মানুষকে লোন দিয়ে আদায় করে মোটা অংকের সুদসহ টাকা। এতেই শেষ নয় এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম। সাধারন গ্রাহককে প্রতিমাসে বেশী লাভ দিবে বলে হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকার জামানত। বেশ কয়েকটি মাল্টিপারপাস প্রতিষ্ঠান সাধারন গ্রাহকের কোটি কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা হয়েছে। এর কোনো প্রতিকার মিলেনি ভুক্তভোগীদের । এরপরও প্রতিনিয়ত ব্যাংঙ্গের ছাতার মত গজে উঠেছে এসব মাল্টিপারপাস প্রতিষ্ঠান। এবার ফরিদপুরে জোরপূর্বক সুদের টাকা আদায়ে মাস্তান নিয়োগ দিয়ে আলোচনায় এসেছে ইভা মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড নামের একটি সমবায়ি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটি গোয়ালচামট এলাকার পুরাতন বাসষ্ট্যান্ড সংলগ্ন স্বর্নকুঠির মার্কেটের ২য় তলায় অবস্থিত। এখানে সাধারন সদস্যদের নিকট থেকে অতিরিক্ত মুনাফা ও দুর্বল সদস্যদের ভয়ভীতি দেখিয়ে কিস্তি আদায় করার জন্য শহরের স্বঘোষিত মাস্তান নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তাও আবার ডাইরেক্টর পদে। এতে চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে সমিতির সদস্যদের মাঝে। অফিস সূত্রে জানা যায়, এই প্রতিষ্ঠানটি ২০১১ সালের ২৩ মে ফরিদপুরের সদর উপজেলা সমবায় অফিস থেকে রেজিষ্ট্রেশন গ্রহন করে। রেজি: নং ৮৯। এখানের সদস্য সংখ্যা ২৮৯ জন। ২০১২ সালের ২০ মে সমিতির নির্বাচন না করে কাগজে কলমে পরিবার কেন্দ্রিক নির্বাচন দেখানো হয়। নির্বাচনে পঙ্কজ নন্দী (সভাপতি), তার আপন বড় ভাই ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তর ফরিদপুর এর সিপাহী (বর্তমানে কুষ্টিয়া জেলা সদরে কর্মরত) লিটন কুমার নন্দী (সহ-সভাপতি), স্ত্রী কৃষ্ণা রানী বিশ্বাস (সাধারন সম্পাদক), ছোট বোন শিল্পী রানী নন্দী (যুগ্ন সম্পাদক) মামী মুক্তা রানী নন্দী (ক্যাশিয়ার), ভগ্নিপতি নৃপেন্দ্র নাথ গুহ (কমিটি সদস্য) বিনা প্রতিদ্বন্দিতায় নির্বাচিত হন। সমিতিটির সভাপতি পঙ্কজ নন্দীর গ্রাম সূত্রে জানা যায়, সে পূর্বে থেকেই গ্রামে সুদের কারবার করে আসছিল। সেখানে একাধিক হতদরিদ্রদের নিকট থেকে চড়া সুদ আদায়ে জুলুম নির্যাতন করতো। একপর্যায়ে গ্রামের জনসাধারন তাকে মেরে গ্রাম থেকে তাড়িয়ে দেয়। বন্ধ হয় গ্রামের সুদের কারবার। এরপর চলে আসে ফরিদপুর শহরে। শহরের শোভারামপুর গ্রামে ভাড়া বাসায় থেকে মানবেতর জীবন যাপন করতে থাকে। পরে তার এক নিকটাত্নীয়ের পরামর্শে পরিবার কেন্দ্রিক কমিটি দেখিয়ে বে-আইনীভাবে ইভা মাল্টিপারপাস নামের প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স প্রাপ্ত হয়। এই লাইসেন্সের আড়ালে চালায় রমরমা সুদের কারবার। অনাদায়ী ও অতিরিক্ত সুদ আদায়ে কারবারে ভাটা পড়লে নিয়োগ দেয়া হয় শহরের স্বঘোষিত মাস্তানদেরকে । এলাকাসূত্রে জানা যায়, সমিতির সাধারন সদস্যদের ভয়ভীতি দেখায় ও মারধোর পূর্বক টাকা আদায় করে থাকে। দু:স্থ সদস্যদের গরু ছাগল জোর করে ধরে আনারও নজির রয়েছে। যাহা সমবায় আইনসিদ্ধ নয়। সমিতির সাধারন সদস্যরা জানায়, সমবায় আইন অনুযায়ি এই সমিতির কোন মাসিক মিটিং, সাধারন সভা, বিশেষ সাধারন সভা, নির্বাচন, সমিতির লভ্যাংশ বন্টন, উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড, শেয়ার সার্টিফিকেট প্রদানের কোন বালাই নেই। শুধু নগদ টাকা দাদন লাগিয়ে সুদ আদায়ই মূল লক্ষ্য এদের। সমিতিতে ৫১৭০০ টাকার শেয়ার সঞ্চয় থাকলেও হিসাব পাচ্ছেনা ২৮৯ জন সাধারন গ্রাহক। সরকারি শেষ অডিট অনুপাতে ৩০/০৬/২০১৪ সালে সমিতির মূলধন ছিল ৭১৮৩৬৫৫ টাকা। আর বর্তমানে তা বেড়ে দাড়িয়েছে ৭২৯৩৭১২ টাকা। ৩ বছর মেয়াদি এই পরিবার কেন্দ্রীক কমিটি বে-আইনীভাবে চালিয়ে যাচ্ছে সুদের কারবার। স্বল্প সময়ে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি কিন্তু সাধারন সদস্যদের ভাগ্যের কোন পরিবর্তন ঘটেনি। সদস্যদের সঞ্চয় ও আনুষঙ্গিক হিসাব দিচ্ছে না প্রতিষ্ঠানটি। হিসাব চাইতে গেলেই নিযুক্ত মাস্তান বাহিনীর হাতে হেনস্তা হতে হয় এমনটি জানালেন সদস্যরা। এ বিষয়ে স্বঘোষিত মাস্তান ও সমিতির সভাপতি-কে প্রশ্ন করলে তারা উভয়েই এড়িয়ে যান এবং উল্লেখিত সকল অভিযোগ অস্বিকার করেন। একটি বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, পরিবার কেন্দ্রীক এই প্রতিষ্ঠানটি সমবায়ীদের সঞ্চয়ের টাকা ফেরত দিচ্ছেনা। সমবায় থেকে নিবন্ধিত এই সমিতির আড়ালে চলছে সুদের কারবার। সমবায়ি আইন মানার কোন বালাই নেই এখানে। যে কোন সময় পরিবার কেন্দ্রীক ইভা মাল্টিপারপাস কো: অ: সো: লি: এর কর্নধার পঙ্কজ নন্দী গ্রাহকদের টাকা বুঝিয়ে না দিয়ে ভারতে চলে যাবার গুঞ্জনও শোনা যাচ্ছে। জানাযায় সুদের রমরমা ব্যবসা চালাতে ইভা মাল্টিপারপাস সমিতি এখন ফরিদপুর শহর থেকে শহরতলীতে গোপনে সদস্য নিয়ে তাদের সুদকারবারী শুরু করেছে। তাদের সুদের কারবারে কেউ যেন পথের কাটা না হতে পারে সে জন্য শহরতলীর অনেক সমবায় সঞ্চয়ী সমিতিকে বাতিল করতে বিভিন্ন কৌশলের আশ্রয় নিচ্ছে। ইভা মাল্টিপারপাস সমিতির সুদের কারবারে সমিতির হোতারা এখন আঙ্গুল ফুলে তালগাছ বনে গেছে। জানাযায় ইভামাল্টিপারপাস সমিতির চেয়ারম্যান অরূপ চত্রবর্তী ফরিদপুর শহরের গোয়ালচামট শোভারামপুরে একটি পাচতলা ভবন নির্মান করছে। তিনি যাতায়াতে ব্যবহার করে পারোডা ব্রান্ডের গাড়ি। ফরিদপুর শহরের মাস্তানবাহিনীকে হাতে রাখতে তিনি তাদের মাঝে অর্থ সহযোগীতা করেন। সমিতির সাধারন সদস্যগন ইভা মাল্টিপারপাসের যাবতীয় অনৈতিক কর্মকান্ড তদন্তপূর্বক সাধারন সদস্যদের টাকা ফেরত প্রদানসহ পরিবার কেন্দ্রীক পরিচালনা পর্ষদ বাতিলসহ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করতে ফরিদপুর জেলা প্রশাসক, জেলা সমবায় কর্মকর্তা এবং দূর্নীতি দমন ব্যুরো ‘র কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। (চলবে)

