অনলাইন ডেস্ক: দেশে ঈদ-উল-আযহা পালিত হবে এক মাসের কম সময়ের মধ্যে। প্রতিবছর এই সময়ের আগেই গরু-ছাগল কেনা-বেচা বেশ জমজমাট হয়ে ওঠে।
ভারত থেকে অবৈধ পথে গরু আসা অনেকটা কমে যাওয়ার পর গত কয়েক বছরে বাংলাদেশ জুড়ে বহু ছোট-ছোট খামার গড়ে উঠেছে যার মূল লক্ষ্য থাকে কোরবানির পশুর হাট।
গ্রামাঞ্চলে বহু পরিবার শুধু কোরবানির ঈদে বিক্রির জন্য গরু-ছাগল লালন পালন করে। কিন্তু করোনা ভাইরাস সংক্রমণের কারণে এবার গরু-ছাগল কেনা বেচা নিয়ে এক ধরণের সংকট হতে পারে বলে বিক্রেতা ও ক্রেতারা আশংকা করছেন।
এবার কোরবানির ঈদে বিক্রি করার জন্য অনেক খামারী খামারে কোন গরু রাখেননি। আগে থেকেই অনেকেই অনুমান করেছিলেন যে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের কারণে কোরবানির পশুর বাজার হয়তো মন্দা হতে পারে। প্রতি বছর অনেকেই কোরবানির ঈদের এক থেকে দেড় মাস আগে পরিচিত বিক্রেতাদের সাথে যোগাযোগ শুরু করেন। কিন্তু এবার সে পরিস্থিতি নেই।
মার্চ মাস থেকে দেশে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরুর পর থেকে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে চরম স্থবিরতা নেমে এসেছে। বহু মানুষ হয়তো চাকরি হারিয়েছে নতুবা তাদের আয় কমে গেছে। যাদের আয় আছে তারাও স্বাস্থ্যগত দিক বিবেচনা করে পশু কোরবানি দেবার ক্ষেত্রে অনেকে সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না।
দেশের প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, গত বছর কোরবানির জন্য দেশে এক কোটি ১৭ লক্ষ পশু ছিল। এর মধ্যে গরু ৪৫ লাখ এবং ছাগল ও ভেড়া ৭১ লাখ। এ বছরও হিসেব অনেকটা কাছাকাছি। কিন্তু এবার বাজার মন্দা হবে বলে বিক্রেতারা আশংকা করছেন।
ঈদ-উল-আযহাকে টার্গেট করে খামারে গরু লালন পালন করলেও বাজার কেমন হবে সেটি নিয়ে অনেক খামারীর মনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
একদিকে পশু কেনা-বেচা, এরপর চামড়া কেনা বেচাসহ ঈদ-উল-আযহা দেশের অর্থনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। করোনা ভাইরাস প্রাদুর্ভাবের কারণে সে জায়গায় একটি বড় ধাক্কা আসতে যাচ্ছে বলে ব্যবসায়ীরা আশংকা করছেন।

