অনলাইন ডেস্ক: মদ্যপ বাবার অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। মঙ্গলবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ভোর রাতে বাড়ি থেকে পালিয়ে আখাউড়ায় চলে আসে কিশোরী। পরে আখাউড়া রেলওয়ে স্টেশনে ঘুরাঘুরি করার এক পর্যায়ে স্টেশনে টহল পুলিশের সন্দেহ হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে রেলওয়ে পুলিশকে সে তার বাবার অপকর্মের ঘটনা সব খুলে বলে। পুলিশ তাকে বুঝিয়ে বুধবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় আখাউড়া রেলওয়ে স্টেশনের হকার লীগের সাধারণ সম্পাদকের জিম্মায় নোয়াখালীগামী আন্তঃনগর উপকূল এক্সপ্রেস ট্রেনে তুলে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়া হয়। সে নোয়াখালী জেলার সুধারাম উপজেলার কাদির হানিফ গ্রামের বাসিন্দা নাজমুল হক সুজনের মেয়ে। কিশোরীটি মাইজদী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
আখাউড়া রেলওয়ে স্টেশনে টহল পুলিশকে মারিয়া আক্তার জানায়, তার বাবা নাজমুল হক সুজন পুলিশের তালিকাভুক্ত ইয়াবা ব্যবসায়ী। সে একাধিক মাদক মামলার আসামি। বাবার অত্যাচারে পাঁচ বছর আগে তার মায়ের মৃত্যু হয়। পরে বাবা বিয়ে করে। সৎ মায়ের কথা মতো তার ওপর বাবার অত্যাচারে দু’বার বিষ পানে আত্মহত্যার চেষ্টাও করে।
১৪ বছর বয়সের মারিয়া আক্তার মাদকাসক্ত বাবার অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে স্থানীয় অনেক সেচ্চাসেবী সংগঠনের দ্বারস্থ হয়। মারিয়া জানায়, তার বাবা বাসায় ইয়াবা বিক্রি করে। মাদকাসক্ত যুবকরা বাসায় মাদক সেবন করে। নেশাগ্রস্থ যুবকরা তাকে বিরক্ত করে।
কান্না জড়িত কন্ঠে মারিয়া জানান, মাদক ব্যবসায়ী বাবাকে গ্রেফতার করতে মাঝে মধ্যেই বাড়িতে পুলিশ অভিযান চালায়। এতে সৎ মা বলেন আমি নাকি পুলিশকে খবর দিয়ে নিয়ে আসি। সন্ধ্যা হলেই ঘরে বসে দল বেঁধে মদ্যপান করে এবং ইয়াবা সেবন করে বাবা। এতে তার পড়াশুনা বন্ধ হয়ে যায় বলে এমনও অভিযোগ করেছে ওই কিশোরী। সে চায় তারা বাবা নাজমুল হক সুজনের উপযুক্ত শাস্তি হোক।
আখাউড়া রেলওয়ে থানার ওসি শ্যামল কান্তি দাস বলেন, কিশোরী মেয়েটি তার মাদকাসক্ত বাবার অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে আখাউড়া চলে আসে। কিন্তু অনেক চেষ্টা করেও তার বাবার মোবাইল নাম্বার দিতে না পারায় স্টেশনের হকার লীগের সাধারণ সম্পাদক হেবজু মিয়ার মাধ্যমে তার বাবার কাছে বাড়িতে পাঠানো হয় তাকে।

