ভাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি: ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলা থেকে প্রকাশিত এবং বহুল প্রচারিত ভাঙ্গার আলো পত্রিকা ও অনলাইন নিউজ পোর্টালে নিষিদ্ধ নোট বই নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর বিভিন্ন লাইব্রেরী থেকে এসব বই সরিয়ে নিচ্ছে বই কোম্পানী গুলো।
প্রশাসন তল্লাশী দিয়ে কোটি টাকার বই জব্দ করে নিয়ে যাবে এমনই ভয়ে সোমবার সকালে ছোট ট্রাকে করে বিভিন্ন লাইব্রেরী থেকে বই গুলো অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হয়। পৌর সদরের কোর্টপাড় এলাকার বই কোম্পানীর ম্যানেজার তুলসি দে এসব বই গোপনে সরিয়ে অন্যত্র নিয়ে যায়। লেকচার পাবলিকেশনের ম্যানেজার তুলসি দে ইতিমধ্যেই উপজেলার বিভিন্ন স্কুলের প্রায় ৫ হাজার শিক্ষার্থীর মাঝে ২ হাজার টাকা থেকে শুরু করে সাড়ে তিন হাজার টাকা করে এসব বই বিক্রি করেছেন। উক্ত কোম্পানীটি এবছরে মোটা অংকের টাকা একাধিক স্কুলে ডোনেশন দিয়েছে।
এলাকাবাসি ও অভিভাবকদের দাবি, বিভিন্ন বই কোম্পানীর ম্যানেজার স্কুলে গিয়ে প্রধান শিক্ষক ও স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতিকে ম্যানেজ করে তাদেরকে মোটা অংকের টাকা ডোনেশন দেয়। কোম্পানী গুলো তাদের এসব ডোনেশনের টাকা শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে কয়েকগুন সুদে আসলে উঠিয়ে নেয়। সরকার ও স্থানীয় প্রশাসন যদি সঠিক সময়ে পদক্ষেপ নিতো তাহলে এসব অবৈধ বই শিক্ষার্থীদের হাতে আসত না। তাছাড়া বই কোম্পানীর ম্যানেজারদের অবৈধ এসব বই সহ আটক করে আইনের আওতায় আনতে পারলে কিছুটা হলেও এর পরিবর্তন হতো।
এ ব্যাপারে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সৈয়দ আহমেদ জমসেদ বলেন, বিভিন্ন মিডিয়ায় সংবাদটি প্রচারের পরই আমরা ব্যবস্থা গ্রহন করেছি। বেশ কয়েকটি স্কুলে ইতিমধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং আগামীতে ব্যবস্থা নিতে আরো সচেতন হবো।
এছাড়াও শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা যদি আগে থেকেই প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চাপ দিয়ে বলতো যে, এসব অবৈধ নোট ও গাইড এবং তথাকথিত পাঠ্য গ্রামার বই থেকে প্রশ্নপত্র করতে দেওয়া হবেনা তাহলে বই কোম্পানীগুলো কিছুটা হলেও দমে যেত।

