ভাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি: উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের পুঁজি করে রমরমা কোচিং বানিজ্য করছে একশ্রেনীর সরকারি শিক্ষকগণ। ভোর ৬টা থেকে শুরু করে সকাল ৯টা পর্যন্ত চলে কোচিং বানিজ্য।
পৌর সদর সহ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে প্রায় অর্ধশতাধিক কোচিং সেন্টার রয়েছে, যেখানে ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে প্রতি মাসে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। প্রশাসনের নাকের ডগায় চলা এসব কোচিং সেন্টার গুলো নাকি সব কিছু ম্যানেজ করেই পরিচালিত হয়ে থাকে। কোন কোন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ ছাত্র-ছাত্রীদের ভীড় এড়াতে একই নামে একাধিক কোচিং সেন্টার পরিচালনা করছেন।
পৌরসদরের কোর্টপাড়ে অবস্থিত জিএম কোচিং সেন্টারের মালিক ভরিলহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সঞ্জয় কুমার দে। উক্ত কোচিং সেন্টারে ক্ষুদে শিক্ষার্থীর এতটাই ভীড় যে, একই নামে উপজেলায় তার একাধিক কোচিং সেন্টার রয়েছে। সরকারি চাকুরি করে কোচিং বানিজ্যে সরকারি ভাবে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও প্রশাসনের নাকের ডগায় জিএম কোচিং সেন্টারটি অপ্রতিরোধ্যভাবে পরিচালিত হয়ে আসছে। জিএম কোচিং সেন্টারে প্রায় অর্ধ শতাধিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক পার টাইম শিক্ষকতা করছেন মর্মে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও কোচিং সেন্টারটির মালিক সঞ্জয় কুমার দের সাথে ভাঙ্গা উপজেলা প্রশাসনের প্রশাসনিক জনৈক কর্মকর্তার সাথে বিশেষ আতাত থাকায় তার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না।
স্থানীয় অভিভাবকদের মতে, সরকারিভাবে নিষিদ্ধ কোচিং বানিজ্য প্রশাসনের নাকের ডগায় কিভাবে পরিচালিত হচ্ছে? তাছাড়া সরকারি চাকুরি করে ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে কোচিং করাচ্ছে তারা। তাদের কাছে না পড়লে পরীক্ষায় ভাল ফল করলেও শিক্ষার্থীদের ফল খারাপ হয়েছে বলে চালিয়ে দেয়। কোচিং সেন্টারে পড়া শিক্ষার্থীদের বিশেষ প্রশ্ন প্রদান সহ প্রশ্নপত্র ফাঁসের নানা অভিযোগ রয়েছে জিএম কোচিং সেন্টারের বিরুদ্ধে।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, ভাঙ্গাতে ১২০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এসব বিদ্যালয়ে পড়তে আসা শিক্ষার্থীদের পুঁজি করে একশ্রেনীর অসাধু শিক্ষকগণ বিভিন্ন নামে বেনামে ভাঙ্গা উপজেলায় প্রায় অর্ধশতাধিক কোচিং সেন্টার খুলে বসেছে। এসব কোচিং সেন্টারগুলো পরিচালনা করে থাকেন সরকারি স্কুলের শিক্ষকগণ।
রোববার ভোরে কোর্টপাড় জিএম কোচিং সেন্টারে গিয়ে দেখা যায়, শত শত শিক্ষার্থীদের সরকারি স্কুলের শিক্ষকগণ কোচিং করাচ্ছেন। সংবাদকর্মীদের উপস্থিতি টের পেয়ে মুল দড়জা বন্ধ করে ভবনের পিছন দরজা দিয়ে শিক্ষার্থীদের বের করে দেওয়া হয়। জিএম কোচিং সেন্টারের মালিক সঞ্জয় কুমার দে তার ব্যবহৃত মোটর সাইকেল চালিয়ে দ্রুত এলাকা ত্যাগ করেন।
এব্যাপারে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মুন্সি আসলাম জানান, জিএম কোচিং সেন্টার সহ বেশ কয়েকটি কোচিং সেন্টারের বিরুদ্ধে আমরা অভিযোগ পেয়েছি এবং সত্যতা আমাদের কাছে প্রমানিত হয়েছে। আমরা ইতিমধ্যে জিএম কোচিং সেন্টারের মালিক আমাদের ৪২নং ভরিলহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সঞ্জয় কুমার কে কারন দর্শানোর নোটিশ প্রদান করেছি। এছাড়াও যেসব শিক্ষক এসব কোচিং বানিজ্যের সাথে জড়িত আছে তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধেও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

