জিয়াউদ্দিন লিটন, বগুড়া প্রতিনিধি: উজানের লাগাতার বর্ষণে ও উজান থেকে নেমে আসা ভারতীয় ঢলে বগুড়ায় যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় সারিয়কান্দি ও ধুনট উপজেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরও অবণতি । যমুনার পানি বিপদসীমার ৬৭ সে.মি উপর দিয়ে প্রবাহিত, ফলে নতুন নতুন চর এবং নিুাঞ্চল পাবিত হয়েছে । মঙ্গলবার চরের বহু মানুষ সতর্কতা হিসেবে বাড়িঘর ছেড়ে যমুনার বন্যা নিয়ন্ত্রন
বাঁধে আশ্রয় নিয়েছে বলে সরেজমীনে দেখা গেছে। বগুড়ার ধুনটে বন্যা পরিস্থিতি আরও অবনতি হয়েছে। অতি বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে উপজেলার গোসাইবাড়ি ও ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়নে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন কয়েক হাজার মানুষ।
মঙ্গলবার সারিয়াকান্দির মথুরাপাড়া পয়েন্টে বিকাল পর্যন্ত বিপদসীমার ৬৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে যমুনার পানি। জানা গেছে, উপজেলার ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়নের আটাচর, শহড়াবাড়ি, বৈশাখী-চর, শিমুলবাড়ি, কয়াগাড়ি, বানিয়াজান, ভান্ডারবাড়ি গ্রাম এবং গোসাইবাড়ি ইউনিয়নের দড়িপাড়া, আওলাকান্দী গোদাখালী, চন্দনবাইশা গ্রাম তলিয়ে গেছে। এতে কয়েক হাজার মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়েছে। নষ্ট হয়েছে শত শত হেক্টর আবাদী ফসল। পরিবার ও গবাদি পশু নিয়ে বিপাকে পড়েছে এ অঞ্চলের মানুষ। লোকজন বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে আশ্রয় নিলেও বিশুদ্ধ পানি ও ল্যাট্রিনের চরম সংকট দেখা দিয়েছে।
ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আতিকুল করিম আপেল জানান, ভান্ডারবাড়ির চরাঞ্চলে আষাঢ়ের অতি বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে অতিরিক্ত বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। এতে ইউনিয়নের আটাচর, শহড়াবাড়ি, বৈশাখী-চর, শিমুলবাড়ি, কয়াগাড়ি, বানিয়াজানে অসংখ্য বাড়ি-ঘরে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। কৃষকের ফসল পানির নিচে তলিয়ে গেছে। উপজেলা প্রশাসন থেকে ত্রাণ বরাদ্দ দিয়েছেন। বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান জানান, যমুনার পানি বাড়তি মুখে এলাকায় বাঁধ গুলো পর্যবেক্ষণে আছে। ভাঙ্গা এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী অফিসের তথ্যমতে সারিযাকান্দিতে ৭৯ টি ছোট চড় চরের মধ্যে ৭ টি ইউনিয়নের ২৫ টি চরের ১২ হাজার পরিবার পানিবন্দী অবস্থায় আছে। পানিউন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানান, চরাঞ্চলের মানুষ গৃহপালিত পশুসহ নৌকায় করে বাড়ির আসবাবপত্র নিয়ে ছুটছে বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধের দিকে ।
ধুনট উপজেলার ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়নে ১২ টি গ্রামের বহু ঘরবাড়ি বন্যার পানিতে ডুবে গেছে। এই ইউনিয়নের আউস ধান, পাট, আখসহ বিভিন্ন ফসলে ক্ষতি হয়েছে বলে জানান, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আবুল কাসেম আজাদ। সারিয়াকান্দি চরগুলোর ৫০২০ হেক্টর পাট, ২৩৭৭ হেক্টর আউশ, ৫৬ হেক্টর আউশ বীজতলা, ১৫ হেক্টর জমির ভূট্টা , ২ হেক্টর জমির মরিচ বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৗশলী মোঃ, মাহবুবুর রহমান জানান, মঙ্গলবার বিকাল ৩ টা পর্যন্ত যমুনা নদীর পানি বিপদ সীমার ৬৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। সারিয়াকান্দি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সারওয়ার আলম জানান, সারিয়াকান্দি সদরের নিুাঞ্চল বন্যার পানিতে পাবিত হয়েছে। উপজেলারর চন্দনবাইশা, কাজলা , কামালপুর, চালুয়াবাড়ী, কর্নিবাড়ী, কুতুবপুরসহ বেশ কয়েকটি চরের পরিবার চর ছেড়ে সহায সম্বল নিয়ে সারিয়াকান্দি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নিয়েছে। বনায় এ পর্যন্ত ১৩ হাজার পরিবার ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।
এ ছাড়া বৃষ্টির কারণে জ্বালানি নষ্ট হওয়ায় রান্না করতে পারছে না ভুক্তভোগী মানুষ। হঠাৎ পানি বৃদ্ধিতে চরম ঝুঁকিতে রয়েছে শিশু, বৃদ্ধ ও প্রতিবন্ধীরা। এ ছাড়া অন্তঃসত্ত্বা নারীদের স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হচ্ছে। বৃষ্টি ও বন্যার ফলে ঝুঁকিতে রয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সদ্য মেরামত করা বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ। বগুড়া জেলা ত্রাণ ও পূনর্বাসন কর্মকর্তা আজাহার আলী বলেন, বন্যাদুর্গত এলাকার জন্য সরকারি ভাবে ২৫ মেট্রিক টন চাল ও ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে ধুনট উপজেলায় ৫ মেট্রিক টন চাল ও ৪১ হাজার ৫০০ টাকা, সারিয়াকান্দি উপজেলায় ১৫ মেট্রিক টন চাল ও ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা ও সোনাতলা উপজেলায় ৫ মেট্রিক টন চাল ও ৮৩ হাজার ৫০০ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

