মাদক বিরোধী অভিযানে ভাঙ্গা থানা পুলিশের সাফল্য

রফিকুজ্জামান দেশব্যাপী চলমান মাদক বিরোধী অভিযানের অংশ হিসাবে ভাঙ্গা থানা পুলিশের কার্যকরি ভূমিকায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন ভাঙ্গা উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষ।

থানা পুলিশের সূত্র মতে, নবাগত অফিসার ইনচার্জ কাজী সাইদুর রহমান ভাঙ্গা থানায় যোগদানের পর পুলিশের বিশেষ মাদক বিরোধী অভিযান চলাকালীন সময়ে ১৩৬ জন মাদক ব্যবসায়ি ও সেবনকারিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মাদক আইনে মামলা হয়েছে ১৩০টি এবং সোয়া ১২ লক্ষ টাকার মাদক উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে মরন নেশা ইয়াবা ট্যাবলেট ৩১১৬ পিচ, গাঁজা ৯ কেজি ৯০৩ গ্রাম এবং ১১.৫০ লিটার মদ রয়েছে। যার আনুমানিক মূল্য ধরা হয়েছে ১২,২৬,৪০০ টাকা।

অভিযান সম্পর্কে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভাঙ্গা সার্কেল) গাজী রবিউল ইসলাম জানান, মাদক ক্রেতা, বিক্রেতা ও সেবনকারি যেই হোক না কেন তাদেরকে কোন ধরনের ছাড় দেয়া হবে না। এ ব্যাপারে থানা পুলিশ মাদক নিয়ন্ত্রনে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। যার কারনে বিগত দিনের তুলনায় ভাঙ্গা থানা এলাকায় অপরাধের সংখ্যা বেশ কমে গেছে। আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতিও রয়েছে নিয়ন্ত্রনে।

পুলিশ পরিদর্শক কাজী সাইদুর রহমান জানান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভাঙ্গা সার্কেল) গাজী রবিউল ইসলাম নির্দেশে এবং পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোঃ মিরাজ হোসেন এর দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে সকলের সহযোগিতায় মাদক ও অন্যান্ন অপরাধ নিয়ন্ত্রনে সক্ষম হয়েছি। তিনি মাদক ক্রেতা, বিক্রেতা ও সেবনকারিদের দমনে পুলিশকে সহযোগিতা করার জন্য উপজেলাবাসির প্রতি আহব্বান জানান। পাশাপাশি সকল অভিভাবকদের নিজ নিজ সন্তানদের প্রতি আরও দায়িত্বশীল হবার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, আমার চাকুরী জীবনে কখনও মাদক ক্রেতা ও বিক্রেতাদের ছাড় দেইনি। তাই মাদক সংশ্লিষ্ট অপরাধীর পক্ষে সুপারিশ না করার জন্য সকলের প্রতি বিশেষভাবে অনুরোধ করেন।

এদিকে মাদক বিরোধী কঠোর অভিযানের কারনে মাদক ব্যবসায়ি ও সেবনকারিরা রয়েছে আতঙ্কে ও বিপাকে। অনেকেই এই ব্যবসা ছেড়ে ভিন্ন পেশায় জীবিকা নির্বাহ করছে মর্মে জানা গেছে। আবার অনেকে বৈধ ব্যবসার আড়ালে মাদক বিক্রিতে নিত্য নতুন কৌশল অবলম্বন করেও পার পাচ্ছে না। অনেক মাদক ব্যবসায়ি গাঢাকা দিয়েছে। শুধু তাই নয়, মাদক ব্যবসায়িরা মাদক বিরোধী অভিযানকে প্রশ্নবিদ্ধ ও নস্যাৎ করতে ভাঙ্গা থানা পুলিশের বিরুদ্ধে নানারকম অপ-প্রচারও চালিয়ে যাচ্ছে।