ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় বাসস্ট্যান্ড নিয়ে হামিরদী ও মানিকদহ ইউনিয়নবাসীর মধ্যে আজ মঙ্গলবার দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় উভয় পক্ষের কমপক্ষে ১৫ জন আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
স্থানীয় লোকজন জানায়, গতকাল সোমবার রাত ৯টার দিকে হামিরদী ইউনিয়নের বাসিন্দা ব্রাহ্মণকান্দা এ এস একাডেমির দশম শ্রেণির ছাত্র ইমান তালুকদার মানিকদহ ইউনিয়নের সাজ্জাদ শরীফকে কুপিয়ে আহত করে। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে মানিকদহ ইউনিয়নের লোকজন আজ সকালে হামিরদী ইউনিয়নের বাসিন্দাদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় উভয় ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।
হামিরদী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান শামসুল আলম রাসেল জানান, পুকুরিয়া বাসস্ট্যান্ড পড়েছে মানিকদহের ভেতরে। হামিরদী ইউনিয়নের ১২টি গ্রামের মানুষের যাওয়ার একমাত্র পথ হলো এই পুকুরিয়া বাসস্ট্যান্ড। আর এই কারণে ওই বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মানিকদহ এলাকার লোকজনের প্রভাব বেশি থাকে।
এদিকে সংঘর্ষ চলার সময় ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে বেশ কিছু সময় সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ ছিল। দফায় দফায় এ সংঘর্ষে উভয় পক্ষের লোকজন আহত হয়। আহতদের ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ আবদুল্লাহ জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ প্রথম দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হলেও পরে ফরিদপুর থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ও র্যাব ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষ থামাতে পুলিশ ছয়টি কাঁদানে গ্যাসের শেল ও শটগানের ১৫৪টি ফাঁকা গুলি ছুড়ে।
ওসি জানান, পুকুরিয়া বাজারের দোকানপাট বন্ধ রাখা হয়েছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে।

