ভাঙ্গায় ২০১২ সালে শিক্ষার্থী হত্যার বিচারের দাবিতে মানববন্ধন

স্টাফ রিপোর্টার: ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ২০১২ সালে স্কুল শিক্ষার্থী আদেল উদ্দিন আদুকে নৃশংসভাবে হত্যাকান্ডের বিচার ও খুনীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন হয়েছে।

শুক্রবার সকালে উপজেলার নাসিরাবাদ ইউনিয়নের চরদুয়াইড় গ্রামের ভাঙ্গা-সদরপুর সংযোগ সড়কের দরগা বাজার নামক স্থানে এ মানববন্ধন কর্মসুচী অনুষ্ঠিত হয়।

ঘন্টাব্যাপী এ মানবন্ধন কর্মসুচীতে অংশগ্রহনকারী বক্তারা বলেন, শিশু হত্যা একটি জঘন্য অপরাধ। ২০১২ সালে স্থানীয় জয়নাল আবেদীন উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেনীর শিক্ষার্থী আদেল উদ্দিন ওরফে আদুকে হত্যার ঘটনায় জড়িত ঘাতক সিকিম আলী ও আকরাম গংদের বিচারের আওতায় এনে অবিলম্বে তাদের ফাঁসির দাবী কার্যকর করা হোক।

এসময় নিহত আদেলের মা” শিরিয়া বেগম ও বাবা আঃ খালেক সর্দার কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। কান্নাজড়িত কন্ঠে শিরিয়া বেগম বলেন, জমাজমির দ্বন্দের জেরে আমার শিশু পুত্রকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। মামলার পর আসামীরা কিছুদিনের মধ্যেই জামিনে বেরিয়ে এসে আমাদেরকে মামলা তুলে নেওয়ার হুমকি দিচ্ছে। বাবা খালেক সর্দার বলেন, আমি সামান্য একজন কৃষক। টাকা-পয়সা এবং আসামীদের কারনে মামলাটির ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। আমরা এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।

এসময় বক্তব্য রাখেন নাসিরাবাদ ইউ,পি আওয়ামী লীগের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আবুল হাশেম খান, সাবেক ইউ,পি চেয়ারম্যান মতিউর রহমান, সমাজ সেবক সেলিম রেজা সরওয়ার, আবুল কালাম আজাদ, রফিক সর্দার প্রমুখ।

মানববন্ধনে অন্যান্য বক্তারা আরও বলেন, দীর্ঘ প্রায় ৯ বছর পেরিয়ে গেলেও মামলাটির বিচার না হওয়ায় এলাকায় বিরুপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। মানববন্ধনে আদেল উদ্দিনের পরিবার ছাড়াও বাজার ও স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য ,মামলার বিবরণ অনুযায়ী জানা যায়, জমাজমির দ্বন্দের জেরে গত ২০১২ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারী উপজেলার চরদুয়াইড় গ্রামের খালেক সর্দারের ছেলে ষষ্ঠ শ্রেনীর মেধাবী শিক্ষার্থী আদেল উদ্দিন ওরফে আদু স্থানীয় আলম মোল্লার মোড় এলাকায় একটি দোকানে টেলিভিশন দেখতেছিল। পরে উপজেলার চান্দ্রা ইউনিয়নের মালীগ্রামের সিকিম আলী (২৮) ও উপজেলার নাসিরাবাদ ইউনিয়নের চরমানাইর গ্রামের আকরাম মাতুব্বর গংরা কৌশলে সেখান থেকে আদুকে ডেকে নিয়ে তার বাড়ি থেকে প্রায় ১০ কি.মি.দূরে উপজেলার ব্রাহ্মনপাড়া গ্রামের একটি বিলের মধ্যে গম ক্ষেতের ভিতর মাথা, পা, হাত বিচ্ছিন্ন করে লোমহর্ষক ও পৈশাচিক কায়দায় আদেল উদ্দিনকে হত্যা করে।

পরে এ ঘটনায় নিহতের পিতা খালেক সর্দার বাদী হয়ে ভাঙ্গা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। চাঞ্চল্যকর মামলাটির তদন্তভার নিয়ে তৎকালীন ভাঙ্গা থানার এসআই মোতালেব হোসেন জড়িতদের গ্রেফতার করে চার্জশিট প্রদান করেন।