এসো না ঘুমের ঘোরে —–খন্দকার হুমায়ূন কবীর।

স্মৃতিরা এভাবে ঘুমের ঘোরে
মেলো নাতো আর ডানা
আমাকে তোমরা জ্বালিয়ো না আর
শোন না একটু মানা।

ক্লান্তির শেষে অবসাদ এলে
দু’চোখ যখনই মুদি
তোমরা বাপু কোথা থেকে আসো
কেমন করিয়া রুধি ?

আমি তো সকলি গিয়েছি ভুলে
অতীত স্মৃতির কাহন
ভালোলাগা বলে যা কিছু ছিল
সকলি করেছি দাহন।

আমি তো এখন স্মরিতে চাই না
পদ্মার সেই ভোর
দেখা পেলে তারে উষসীর কালে
ভাঙত ঘুমের ঘোর।

চাই না যেতে গহীন বনে
ভর দুপুরের কালে
যেখানে গিয়ে সাথে নিয়ে তারে
আদর দিয়েছি ভালে।

দোয়েল শ্যামা শালিক ঘুঘুরা
থাকত কেমন চেয়ে !
খুশির জোয়ার বয়ে যেত কত
দেখত তাহারে পেয়ে।

পথের দু’ধারে বুনোফুল সব
স্বাগত জানাত হেসে
মনে মনে তারা জপিত এমনি
থাকে যেন ভালোবেসে।

ঘন সবুজের আলপথ ধরে
যখনই গিয়েছি দূরে
খুশিতে তারা উঠত নেচে
মন হতো ফুরফুরে।

সারি সারি সব নারকেল তাল
জারুল শিমুল গাছ
হরিণের মতো থাকত চেয়ে
ছাড়তে চেত না পাছ।

খুব কষ্টে ভুলেছি এসব
ভুলে গেছি সব মায়া
মন থেকে সব দিয়েছি মুছে
ভালোলাগা সেই কায়া।

তবু কেন আর এভাবে এসে
যেতে চাও নিয়ে ধরে ?
জেনে রাখো শুধু দেহটাই আছে
মনটা তো গেছে মরে।

মরা মনে তাই এসো নাকো আর
ঘুম নামে যেই আঁখে
যাচ্ছে যেমন কেটে যাক দিন
এসো না জীবন বাঁকে।