ভাঙ্গায় চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুবককে কুঁপিয়ে জখম

স্টাফ রিপোর্টার: ফরিদপুরের ভাঙ্গায় চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইউনূস খান (৩০) নামের এক যুবককে কুপিয়ে জখম ও তার চাচাকে পিটিয়ে আহত করা হয়েছে।

উপজেলার নাছিরাবাদ ইউনিয়নের বালিয়াহাটি বাজারে চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে রোববার হেমায়েত হোসেন হিরু এ হামলা চালান বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আহত সাজাহান খান ও তার ভাতিজা ইউনুস কে সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। পরে ইউনূসের অবস্থার অবনতি হওয়ায় প্রথমে ফরিদপুর মেডিকেলে ও পরে সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

এ ঘটনায় মঙ্গলবার সাজাহান খান বাদী হয়ে ১১ জনকে আসামী করে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, সম্প্রতি বালিয়াহাটি বাজারের কয়েকটি দোকান ঘর চুরি হয়। বাজারের ব্যবসায়ী তারা মুন্সির ছেলে পলাশ মীর (২৮) কে ওই চুরির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ওই বাজার কমিটির সভাপতি ও সেক্রেটারীর নেতৃত্বে একটি শালিস বৈঠক অনুষ্টিত হয়। পলাশ ওই চুরির ঘটনায় জড়িত প্রমানিত হলে উক্ত শালিস তাকে চোর সাব্যস্ত করে ২ লক্ষ ২৪ হাজার ১০০ টাকা জরিমানা ধার্য করে।

ঘটনার কয়েকদিন পরে সময় মত জরিমানার টাকা শালিসের কাছে জমা না দেওয়ায় ওই শালিস কমিটির লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে পলাশের বাবা তারা মুন্সিকে ওই বাজারে মারধর করে ও তাদের বাজারে থাকা দোকান ঘর বন্ধ করে দেয়। এ ঘটনার পর থেকে ওই বাজার ও এলাকাবাসীদের মধ্যে শালিসের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভের সৃস্টি হয়।

স্থানীয়রা আরও অভিযোগ করে বলেন, চুরির ঘটনায় চোরের সাজা হোক কিন্তুু টাকা দিতে না পারায় এইভাবে বাজারে সবার সম্মুখে তারা মুন্সিকে অপমান ও মারপিট করাটা ঠিক হয়নি। তারা আরও বলেন, বাজার কমিটির লোকজন প্রভাবশালী হওয়ায় বালিয়াহাটি গ্রাম ও বাজারের জায়গা-জমি দখল করে খায়। দীর্ঘদিন যাবত তারা অন্যায়ভাবে বিভিন্ন সময় নানান অজুহাতে দরবার শালিশ পাতিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তারা। এতে অনেকেই সর্বশ্বান্ত হয়ে গ্রাম ছাড়া হয়েছেন অনেকেই। তাদের এসব অপকর্ম নিয়ে কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে নানান অজুহাতে অপমান অপদস্ত করেন হিরু খানের লোকজন।

গত রোববার শাজাহান ও তার ভাতিজার উপর হামলার ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শাজাহান ও তার ভাতিজা ইউনুস ওই শালিসের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেন। এ সময় কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে ওই বাজারের সভাপতি হিরু ও তার সহযোগিরা মিলে শাজাহানকে গালিগালাজ করে মারপিট শুরু করেন। শাজাহানের চিৎকারে ইউনুস এগিয়ে এলে বাজারের সভাপতি হিরু ও তার সহযোগিরা মিলে তাকেও মারপিট করেন এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করেন। পরে বাজারের ব্যবসায়ীরা এগিয়ে এলে চাচা ভাতিজাকে হুমকি দিয়ে চলে যান। স্থানীয়রা তাদের দুইজনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে সদরপুর হাসপাতালে নিয়ে যান।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত বালিয়াহাটি বাজার কমিটির সভাপতি হেমায়েত হোসেন হিরু জানান, চুরির ঘটনায় চোর সনাক্ত করে তার বিরুদ্ধে আমরা গ্রামের সবাই শালিস করেছি। জরিমানা করা হয়েছে। তবে সাজাহান ও তার ভাতিজার উপরে হামলার বিষয়ে আমি কিছুই জানিনা।

এ বিষয়ে নাসিরাবাদ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুরে আলম সিদ্দিকী লাভলু ফকির বলেন, চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনাটি অত্যন্ত দু:খজনক। তবে এ ঘটনায় উভয় পক্ষেরই থানায় মামলা হয়েছে। দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের প্রতি সু-দৃষ্টি কামনা করছি।

ভাঙ্গা থানার ওসি মো. শফিকুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঐ বাজারের চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। আসামীদের গ্রেফতার করার চেষ্টা চলছে।