ভাঙ্গায় স্কুলে ডোনেশন দিয়ে পাঠ্য করছে নিষিদ্ধ নোট ও গাইড বই

মোঃ রমজান সিকদার, ভাঙ্গা (ফরিদপুর) সংবাদদাতা: ফরিদপুরের ভাঙ্গায় বিভিন্ন মাধ্যমিক স্কুলে উন্নয়নের নামে লাখ লাখ টাকা ডোনেশন নিয়ে পাঠ্য করা হচ্ছে নিষিদ্ধ নোট ও গাইড বই। নিম্মমানের কয়েকটি বই কোম্পানী তাদের এজেন্ট ও বই বিক্রির লাইব্রেরীদের সহায়তায় উচ্চমুল্যে নিষিদ্ধ নোট ও গাইড বই স্কুলের শিক্ষার্থীদের কিনতে বাধ্য করছে। বই কোম্পানীর কাছ থেকে ডোনেশন গ্রহনকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের স্কুলের শিক্ষার্থীদের সেসব নোট বই, গাইড বই সহ বাংলা-ইংরেজী গ্রামার বই কিনতে বলা হয়েছে।

প্রতি সেট বই কিনতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বই বিক্রি লাইব্রেরী গুলো ১২’শ টাকা থেকে শুরু করে ২২’শ টাকা পর্যন্ত দাম রাখছে। অথচ বইগুলোর সাধারন মুল্য ৫/৬’শ টাকা হওয়ার কথা ছিল। বই কোম্পানীগুলো স্কুল কর্তৃপক্ষকে লাখ লাখ টাকা ডোনেশন দিয়ে সেই টাকার কয়েকগুন মুনাফা করে নিয়ে যাচ্ছে অসহায় শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে। আর ছেলেমেয়েদের এসব বই কিনতে অভিভাবকদের রীতিমত হিমশিম খেতে হচ্ছে। প্রশাসনের কাছে অভিভাবকদের দাবি শিক্ষার্থীদের জিম্মিদশা থেকে মুক্তি পেতে জরুরী ভিত্তিতে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহন করতে।

বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও লাইব্রেরী ঘুরে দেখা যায়, উপজেলার ২৮টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ২০ হাজার শিক্ষার্থীদের মাঝে উচ্চমুল্যে এসব বই বিক্রির জন্য বই কোম্পানীগুলো প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির সহায়তা নিয়েছেন।

অনুপম বই কোম্পানীর ম্যানেজার তরিকুল ইসলাম ও স্থানীয় লাইব্রেরীদের সাথে নিয়ে ২১টি মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্কুল প্রতি ৫০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত দিয়েছে। মোটা অংকের টাকা পাওয়া স্কুলগুলো হচ্ছে পুলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়, মালিগ্রাম আব্দুর রসিদ মিয়া উচ্চ বিদ্যালয়, দেওড়া উচ্চ বিদ্যালয়, সৈয়দ জয়নাল আবেদীন উচ্চ বিদ্যালয়, আব্দুল্লাহবাদ উচ্চ বিদ্যালয়, তুজারপুর এস,এ উচ্চ বিদ্যালয়, পুর্ব সদরদী উচ্চ বিদ্যালয়, চোমরদী নিম্ম মাধ্যমিক বিদ্যালয়, পীরেরচর উচ্চ বিদ্যালয়।

এসব কোন কোন স্কুলে ১ হাজার থেকে ১২’শ পর্যন্ত শিক্ষার্থী রয়েছে। প্রতিজন শিক্ষার্থীকেই নিদিষ্ট কয়েকটি লাইব্রেরী থেকে অনুপম বই কিনতে চাপ দিচ্ছে শিক্ষকগণ। এছাড়াও কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে লেকচার, পুথি নিলয় নামের কম্পানীর বই পাঠ্য করা হয়েছে।

সরকার ঘোষিত নিষিদ্ধ এসব বই ভাঙ্গা উপজেলার বিভিন্ন লাইব্রেরী ও গুদাম ঘরে প্রকাশ্যেই বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। অনুপম বই কোম্পানী ভাঙ্গা পৌর সদরে তাদের বেশ কয়েকটি গুদাম ঘরে এসব নিষিদ্ধ বই গুদামজাত করে বিক্রি করার অভিযোগ রয়েছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সৈয়দ আহমেদ জমসেদ বলেন, সরকার ঘোষিত নিষিদ্ধ বইগুলো কোম্পানী ডোনেশন দিয়ে বিভিন্ন স্কুলে পাঠ্য করেছে বিষয়টি আমি শুনেছি। আমরা তদন্ত করে সেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিব। সরকার যেখানে শিক্ষা ব্যবস্থাকে সহজ করেছে। সেখানে অর্থলোভী কিছু মানুষ শিক্ষার্থীদের পুঁজি করে ব্যবসা করে যাচ্ছে।

এবছরে সর্বার্ধিক বই বিক্রেতা অনুপম কোম্পানীর ম্যানেজার তরিকুল ইসলাম এর নিকট এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা এখন নিয়মে পরিনত হয়েছে। শিক্ষার্থীরা এখন সহায়ক বই ছাড়া ভাল ফলাফল করতে পারেনা। তাছাড়া এর সাথে ছোট বড় অনেকেই জড়িত আছে।