ভাঙ্গা (ফরিদপুর) সংবাদদাতা- ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ফ্লাট ব্যবসায়ি আঃ মান্নানের বিরুদ্ধে উপজেলা ছাত্রলীগ বিক্ষোভ মিছিল করেছে।
বুধবার সকালে ফরিদপুর-বরিশাল মহাসড়কের গ্রীন টাওয়ারের সামনে প্রায় ঘন্টাব্যাপি শতশত ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা সড়ক অবরোধ করে রাখে। এসময় সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিভিন্ন শ্লোগান দিয়ে অবৈধ ফ্লাট ব্যবসায়ি মান্নানকে গ্রেফতারের দাবি করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে সড়ক হতে অবরোধ তুলে নেয়। পরবর্তীতে মিছিলটি ভাঙ্গা বাজার প্রদক্ষিন করে উপজেলা চত্বরে গিয়ে শেষ হয়।
এসময় সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি লুৎফর মোল্লা, সাংগঠনিক সম্পাদক তারেক মোল্লা, নুরুল্লাগঞ্জ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি আল আমিন মীর, তুজারপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি রুহুল, নাসিরাবাদ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি বাসুদেব সরকার অভি প্রমুখ।
উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি লুৎফর মোল্লা বলেন, অবৈধ ফ্লাট ব্যবসায়ি আঃ মান্নান আমার ২ বোনের কাছে ২টি ফ্লাট বিক্রি করে টাকা বুঝে নিয়েও তাদের ফ্লাট বুঝিয়ে না দিয়ে তাদেরকে হয়রানি করছে। এবিষয়ে পৌর মেয়র মহোদয়ের কাছে লিখিত অভিযোগ দিলে সে আমাদেরকে ফ্লাট ২টি বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য মান্নানকে অনুরোধ জানায়। পরবর্তীতে আঃ মান্নান মেয়রের অনুরোধকে উপেক্ষা করে ফরিদপুর জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট কোর্টে মামলা দায়ের করে। বিজ্ঞ আদালতও আমার বোনের পক্ষে ফ্লাট বুঝে দেওয়ার জন্য আঃ মান্নানকে ১ মাসের সময় বেধে দেন। আদালতের আদেশকে উপেক্ষা কওে সে ফ্লাট ২ টি বুঝিয়ে দেয়নি। একপর্যায় আমরা থানা পুলিশ ও স্থানীয় গন্যমান্য ব্যাক্তিদের সহায়তা নিয়ে ফ্লাট বুঝে নিলে ক্ষিপ্ত হয় আঃ মান্নান। সে দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায় আমাকে ইয়াবা ব্যবসায়িসহ ৭৫ লাখ টাকার চাঁদাবাজ আখ্যা দিয়ে মিথ্যে সংবাদ প্রকাশ করে। এতে করে উপজেলা ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা আঃ মান্নানের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। তারই ধারাবাহিকতায় আজকে আমাদের এই বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ মিছিল। আঃ মান্নান একজন জামাত শিবিরের লোক হয়েও প্রশাসনকে ম্যানেজ করে অবৈধ ফ্লাট ব্যবসা করে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছে। এখন সে সাধারন লোকদের সাথে প্রতারনা ব্যবসা শুরু করেছে। এসব প্রতারনার জন্য ইতিপুর্বে সে একাধিকবার জেল হাজতে গিয়েছে।
উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক সাইফুল ইসলাম সোহাগ বলেন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ভাঙ্গা উপজেলা শাখার সুনাম রয়েছে। আঃ মান্নান ছাত্রলীগের সভাপতির বিরুদ্ধে একটি মিথ্যে সংবাদ পত্রিকায় প্রকাশ করে ছাত্রলীগ সহ সরকারের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন করেছে। আমরা অনতিবিলম্বে তাকে গ্রেফতারসহ ফ্লাট ২টি ক্রয়কৃত মালিকদের বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য জোর দাবি জানাচ্ছি।
এদিকে ফ্লাট ক্রয়কৃত মালিক প্রবাসী আবুল কালামের স্ত্রী তানিয়া আক্তার ও প্রবাসী মামুন খানের স্ত্রী নাসরিন আক্তার বলেন, আমরা আঃ মান্নানের মিষ্টি কথায় তাকে জায়গাসহ ২টি ফ্লাট বাবদ ২৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ করি। অথচ টাকা গ্রহনের সাড়ে ৪ বছর পার হয়ে গেলেও সে আমাদের ফ্লাট বুঝিয়ে না দিয়ে নানা টাল বাহানা শুরু করেন। আঃ মান্নানের ভাঙ্গা পৌর সদরে গ্রীন টাওয়ার, মক্কা টাওয়ার ও মদিনা টাওয়ার নামে ৩ টি বহুতল ভবন রয়েছে। সে প্রতিটি ভবনের ফ্লাট ক্রয়কৃতদের সাথে অসৎ আচরন করে থাকে। আমি আমার মামাত ভাই উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি লুৎফর মোল্লাকে সব কিছু বলার পর সে আমাকে ফ্লাট দখল নিতে সহায়তা করে। আঃ মান্নান ক্ষিপ্ত হয়ে আমার ভাইয়ের বিরুদ্ধে মিথ্যে সংবাদ প্রকাশ করে প্রশাসনের চোখে ভাইকে দাগি করেছে। আমার ভাইয়ের উক্ত সংবাদের জন্য কোন ধরনের ক্ষতি হলে তার দায় আঃ মান্নানকেই নিতে হবে।
এ ব্যাপারে আঃ মান্নান বলেন, আমি উনাদের কাছে ফ্লাট বিক্রি করেছি ঠিকই। হঠাৎ নির্মান সামগ্রীর মুল্য বেড়ে যাওয়ায় তাদের কাছে অতিরিক্ত কিছু টাকা দাবি করেছি। তবে বিষয়টি নিয়ে একটি মহল রাজনীতি শুরু করায় পরিস্থিতি ঘোলাটে হয়েছে।

