
মোঃ রমজান সিকদার,
ভাঙ্গা (ফরিদপুর) সংবাদদাতা-০২/০৭/২০২৬
ফরিদপুরের ভাঙ্গা এক্সপ্রেসেওয়েতে রাতের বেলায় টর্চ লাইট জ্বালিয়ে সংঘর্ষে গুলিবৃদ্ধ হয়ে নিহত সুমন শেখকে(২০) হত্যার ঘটনায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরো অজ্ঞাত ৩০/৩৫ জনকে আসামি করে থানায় মামলা হয়েছে। বুধবার দিবাগত রাতে নিহত সুমন শেখ এর পিতা মিলন শেখ বাদী হয়ে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব সজিব মাতুব্বরকে প্রধান আসামি করে মামলাটি দায়ের করেন।
এদিকে মামলার পর গ্রেফতার এড়াতে পৌরসদরের হাসামদিয়া ও আতাদি দুই গ্রামে পুরুষ শুন্য হয়ে পড়েছে।
নিহত সুমন শেখ ভাঙ্গা পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ড কাপুড়িয়া সদরদী গ্রামের মিলন সেখ ও সামেলা বেগমের পুত্র।
আজ বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল থেকে মোড়ে মোড়ে শত শত অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে পরবর্তী অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে। এছাড়াও দক্ষিণ পাড় বাসস্ট্যান্ডে পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে নিহত সুমনের মা সামেলা বেগম বলেন, আমার ছেলে সুমনকে বিএনপির নেতা সজীব মাতুব্বর সহ যাহারা নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করেছে আমি তাদের ফাঁসি চাই। সন্তানের জামা কাপড় জুতা স্যান্ডেল বুকে জড়িয়ে তিনি বার বার প্রলাপ করেছেন। বাড়িতে চলছে কান্নার ও শোকের মাতম।
এর আগে গতকাল বুধবার রাত ৯টার দিকে ভাঙ্গা ঈদঁগাহ মাঠে সুমন শেখের জানাজার শেষে ঈদঁগাহ কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। এসময় ফরিদপুর -৪ আসনের এমপি শহিদুল ইসলাম বাবুল ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সুমন হত্যাকান্ডে জড়িত সকলকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আশ্বাস দেন।
উল্লেখ, মঙ্গলবার সন্ধ্যা (৩০ জুন) সাড়ে সাতটা থেকে রাত সাড়ে নয়টা পর্যন্ত ভাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পুর্ব শক্রতার জের ধরে এক্সপ্রেসওয়েতে টর্চ লাইট জ্বালিয়ে দুই পক্ষের ৫ গ্রামবাসীর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়। সেসময় কাপুড়িয়া সদরদী গ্রামের মিলন শেখ এর পুত্র সুমন শেখ গুলি বৃদ্ধ হয়ে নিহত হয়। সংঘর্ষে চলাকালে পুলিশ ও সাংবাদিক সহ কমপক্ষে ২০ জন লোক আহত হয়েছে।
এ ব্যাপারে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, গত মঙ্গলবার রাতে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে সুমন শেখ নামের এক যুবক নিহত হয়। এ ঘটনায় বুধবার দিবাগত রাতে ভাঙ্গা থানায় ১১ জনকে নামে এবং অজ্ঞাত ৩০-৩৫ জনকে আসামি করে নিহতের পিতা মিলন শেখ বাদি হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন । আসামিদের গ্রেফতারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

